মামু� হুসাইন � মার্� ১৯৬২ সালে জন্মগ্রহ� করেন কুষ্টিয়� জেলা শহরে� কমলাপুরে� শৈশব-কৈশো� কেটেছে কুষ্টিয়� � ঝিনাইদ� জেলায়� পড়ালেখা করেছেন ঝিনাইদ� ক্যাডে� কলেজের বিজ্ঞা� বিভাগে� ১৯৭৭ সালে এসএসসি এব� ১৯৭৯ সালে আইএসসি পা� কর� রাজশাহী মেডিকে� কলেজ� ভর্ত� হন� সেখা� থেকে এমবিবিএস করেন ১৯৮৫ সালে� এরপর বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশ�-এর অধীনে ডাক্তা� হিসেবে সরকারি চাকুরিতে যো� দেন। বর্তমানে তিনি রাজশাহী মেডিকে� কলেজ এর মনোরোগবিদ্যা বিভাগে� অধ্যাপ� � বিভাগীয় প্রধান হিসেবে কর্মরত আছেন� মামু� হুসাইনের সাহিত্যে হাতেখড়ি আশির দশকে হলেও প্রাথমিক অবস্থায় তিনি সাহিত্যে� ছোটকাগজগুলোতেই লিখতেন� বে� পর� ১৯৯৫ সালে প্রথ� গল্পগ্রন্থ ‘শান্ত সন্ত্রাসের চাঁদমারি� প্রকাশ করেন� গ্রন্থটি প্রকাশের আগেই তিনি বাংলাদেশের গল্পধারায় সিরিয়াসধর্মী গল্পকা� হিসেবে পরিচিত� লা� করেন� কথাসাহিত্য� সামগ্রিক অবদানে� জন্য মামু� হুসাইন ২০১৭ সালে বাংল� একাডেম� সাহিত্� পুরস্কার লা� করেন�
"আবদ্� ঘরের ভেতর শুধু কব� নন, আমাদের সবার� বিবি� স্বপ্ন তৈরী হয�; আমরা হয়ত কেউই কবিত� লিখিনা, কিন্তু কবিত� তৈরী হয� অনর্গল� " - কবিত� সম্বাদ নিয়� দু'এক প্রস্থ সন্ধ্যাভাষ�
হঠাৎ একেকজন লেখক আবিষ্কার কর� আর বিস্ময়ে বিহ্বল হয়ে বস� থাকি� মামু� হুসাইনের উক্ত গ্রন্থ পাবলিক লাইব্রের� তে অনেকদি� ধর� দেখে আসছি; পর� আছ� এক কোণে,ধুলোয় আবৃত হয়ে� কি ভেবে যে� হাতে নিয়� পড়ত� শুরু করলা�-
" তোমা� না� মন� হল�,পুরন� জাহা� ভেসে যেতে দেখি।দূর গির্জাঘর� ক্রু� ছুঁয়ে রক্তপা� নামে।একট� রাস্তা এস� দাঁড়ায় তোমাদে� ঘরমুখো।আমর� অভাবিত একটি সূর্যোদয� /সূর্যাস্� দেখি।নরম মাটি শীতে� পালক গায়� মেখে মৃদু কাঁপুন� ছড়ায়।নিঃশব্দ জ্যোস্না� রক্তপা� ঝর� পড়ে শরীরে কোথাও। সে� জ্যোস্না-প্লাবন বাঁচিয়ে কো�-কো� কন্য� হেঁট� যায়,যাদে� চোখে চাঁদের রঙ লেগে থাকে তোমা� মত, তোমা� স্বর তখ� প্রতিধ্বনি তোলে।তোমার নিতম্ব ভাসমান হয�,রাঁজহা� হয� অথবা ভাস্কর্যে।তোমা� উদ্ধ� মুখে রোদ্দু� চমকায়।তুম� টানটান নিমগ্নায� পাতা� আড়ালে ছায়� খুঁজতে বে� হলে।তোমা� পা এব� চু� থেকে আলোর আভাস পড়ে বারান্দায়।রুটির তাজা ঘ্রাণে� মত সবুজ গন্ধ আসে।কি যে� জলকন� হয়ে থাকে তোমা� শরী� স্পর্শ কর� থাকে।তুম� লবণাক্� হও অথবা সমুদ্র-স্না� থেকে মৃদু আভরণহী� উঠ� আসো।আমরা তোমা� বেওয়ারি� সম্পত্তি দেখত� উঠোন� সা� হয়ে দাঁড়াই।পথ� বালিয়াড়ি,কাদামাটি, আর বিস্তীর্�-বিশা� জলরাশি।পায়ে� কাছে শুয়� থাকা একটি মাটি� ঘোড়�;পাথুরে নিসর্গ আর আমাদের সম্মিলিত অশ্রুপাত।বনে� ভেতর থেকে প্রাচী� গা� লম্ব� শেকড� ছাড়িয়ে তাকায়।ক� একজন বাসি মদ লুকিয়� রাখে ঢিলেঢালা প্যান্টে� পেছন পকেটে।খু� নীচু হয়ে তোমা� না� ছুঁয়ে মৌমাছি উড়ে যায়,আর আশ্চর্�-নিথর এক দুপু� এস� ভর করে।শেষমেষ দূ� জলপ্রপাতের দরিদ্র-ঝরঝর� স্বর,দুটো সবেদার গা�,তিনট� পরিযায়ী পাখি,আর তোমা� স্বপ্ন-সমুদ্র -- আমার স্বপ্ন� ডুবে যেতে থাকে গভী� ঘুমে� মতো।"
বইটিতে দুটো (গল্প-গদ্য-কবিত�!? বা লেখা রয়েছে� কবিত� সম্বাদ নিয়� দু'এক প্রস্থ সন্ধ্যাভাষ� � সংক্ষিপ্� জীবনসমগ্� ২০১৪� "কবিত� সম্বাদ নিয়� দু'এক প্রস্থ সন্ধ্যাভাষ�' এর ভাষা অভিনব। এর ন্যারাটি� ফর্ম� রয়েছে বিচিত্রতা।কবিত�,কব� কিংব� জীবনের মহুমাত্রিক গল্প নানা প্রসঙ্� নিয়� এসেছ� এতে। একবা� পড়ে কুলাবেনা,আবার পড়ত� হবে।
' সংক্ষিপ্� জীবনসমগ্� ২০১৪' পড়ে মন� হয়েছে মানসিকভাবে আম� একটা আস্ত নারী জীবন কাটিয়� উঠলা� বোধহয়!নীরা নাম্নী এক নারী� জীবনকথার বয়া� এটি।একটি নারী� গভী� অনুভ�;সংসারে লেগে থাকা ধুলি� মত� অথ� বাতাসে উড়া� গহী� সাধে� সংক্ষিপ্� বিবরণ।
সম্ভবত কব� হাসনাত শোয়েব মামু� হুসাইনের গল্পকে দুপুরে� নির্জন নিস্তব্ধতা� সাথে তুলন� করেছেন।এ� কোলাহলময� ঢাকা নগরীতে আমার কয়েকট� নির্জন সশস্ত্� দুপুরে� ভীষণ প্রয়োজন!
মামু� হুসাইন একজন বিরল গল্পকার। গল্পের ভেতর তিনি যেভাবে টাইম-ফ্রে� ভেঙে ফেলে�, অস্তিত্ব গুঁড়ো কর� ফেলে� শব্দের পর শব্দ�, ইমেজের পর ইমেজ� তা� তুলন� মেলা ভার। ওনার গল্প দীর্� মনোযোগ দাবি করে। লেখকের লেখক বল� যায় তাকে, তা� সব লেখকের নয়। পড়ছিলাম গত মেলায় গদ্য পদ্য থেকে বে� হওয়� সংক্ষিপ্� সন্ধ্যাভাষা। গল্প কোথায় শুরু হয�, কোথায় শে�, মাঝে� সুররিয়্যা� জার্নি� মাত্� ত্রি� শব্দের এই বড� গল্পটি পড়ত� সময় লেগেছে আমার দু� ঘন্টা। কিছু বাক্� পা� কর� ফেলা যায়�
# আমাদের আদিগ্রামের কথ� মন� আস�, জ্যেঠা� কথ� মন� আস�-চল্লিশ কদ� হেঁট� তিনি ফ্যালাসে� শে� মূত্রবিন্দ� আড়া� করতে� কুলুখে� সাহায্যে� কখনো সামন� আস� নী� ঘাসফুল, আগুনের আঁ�, ধূসর হেমন্ত এব� ভালোবাসা� বিবি� চিহ্ন। তোমা� না� মন� হল�, পুরোনো জাহা� ভেসে যেতে দেখি� দূ� গির্জাঘর� ক্রু� ছুঁয়ে রক্তপা� নামে� একটি রাস্তা এস� দাঁড়ায় তোমাদে� ঘরমুখো� নর� মাটি শীতে� পালক মেখে মৃদু কাঁপুন� ছড়ায়� নি:শব্দ জোছনার রক্তপা� ঝর� পড়ে শরীরে কোথাও। সে� জোছন� প্লাবন বাঁচিয়ে কোনো - কোনো কন্য� হেঁট� যায়, যাদে� চোখে চাঁদের রঙ লেগে থাকে তোমা� মতো।
# সপ্তর্ষি� মু� জুড়� একখন্ড ছেঁড়া মে�, আর ডুবন্ত নৌকা� গলুইয়ের আদলে শীর্� একজোড়� ঠোঁট ঝড়ো মে� তৈরি কর� আমার রক্তে।
# আম� উপায়ন্ত� হয়ে সূর্যে� চো� বাঁধলা� আমার রাত্তি� দিয়� এব� সূর্যক� বললা� আমাক� ধরতে� একটি রাষ্ট্রীয় বুলে� আমার না� ছুঁয়ে সূর্যে� আলোয� মিলিয়� গেল।