নন্দিত কথাসাহিত্যিক মাশুদু� হকের এবারের লেখাটা একেবারেই ভিন্নধর্মী� উহ�, শুধু ভিন্নধর্মী বললে বোঝা যাবে না, বলতে হব� একেবারেই অসচরাচর। ডাক্তারি পড়াশোনা শে� কর� ডাক্তা� আসিফ দীর্ঘদিন নানা প্রত্যন্� অঞ্চলে রোগী দেখে বেড়িয়েছেন। সেসময়� তিনি রোগী হিসেবে এম� কিছু বিচিত্� মানু� পেয়েছেন যাদে� রোগব্যধি প্রচলি� চিকিৎস� বিজ্ঞা� দিয়� সবসময় ব্যাখ্যা কর� যায় না� রো� ব্যধির রহস্যময় জগতে থেকে ওর উপলব্ধ� হয়েছে সবসময়� রোগেরা বইপত্র� যেমনটা লেখা থাকে তেমন কর� আস� না, সব ব্যধির খবরও আমাদের জানা রয়েছে সেটা� সত্য� না� মেডিকেলে এক প্রিয় শিক্ষকের অনুপ্রেরণায় আসিফ �-সমস্� অদ্ভুত � অচেন� রোগদের নিয়� লিখত� শুরু করলে�, যা� ফলাফ� অসচরাচর।
মাশুদু� হকের জন্ম � বেড়ে ওঠ� ঢাকায়। এক দশকে� বেশি সম� ধর� লিখছেন থ্রিলা�, সায়েন্সফিকশন � শিশু-কিশো� সাহিত্�, প্রকাশিত হয়েছ� নিয়মিত ভাবে বাংলাদেশ � ভারত থেকে�
সাহিত্�-পুরস্কার : এইচএসবিস�-কালিওকলম তরুণ কথাসাহিত্যিক পুরস্কার ২০১৩�
Masudul Haque is a contemporary writer from Bangladesh known for his works on thrillers, Sci-Fi, and children's literature. His works have been published in Bangladesh and India regularly for the last 12 years. He was awarded the Kali O Kalam Young Writer Award in 2013.
মেডিকে� সায়েন্সের ভাষায় সাধারণ বৈশিষ্ট্যে� বাইর� সব নিয়� না মানা,বেয়াড়া ধরনে� অস্বাভাবিক তথ� বিশে� কে� আছ�,সেগুলোকে আমরা Atypical বা অসচরাচরে� ছাতা� তল� নিয়� আসতে পারি� তব� ঘরান� বিচারে মাশুদু� হকের ‘অসচরাচর�-কে উইয়ার্ড ফিকশ� অথবা মেডিক্যা� থ্রিলা� কিংব� বড� হর� ক্যাটাগরিত� ফেলত� গেলে হিমশিম খেতে হবে। গতবছ� মাইক্রোবায়োলজির বারান্দায় এক্ক� দোক্কা খেলত� খেলত� যখ� ‘অসচরাচর� পড়েছিলা�,তখ� ‘হোস্ট�,‘প্যারাসাইট�, ‘ফাঙ্গাল� গল্পগুলোকে মন� হয়েছিলো বড� হররে� স্ট্যান্ডার্ডধারী� অসচরাচরে� দ্বিতীয় পর্ব� মাশুদু� হক গল্পের বাঁকটা সামান্� বদলে বইয়� দিয়েছেন ক্লিনিক্যালি রেয়ার কিছু ডিজিজে� দিকে� তা� বল� সবগুলো গল্পের ভি� বাস্তব দুনিয়ার উপ� দু পায়� ভর দিয়� চল� এম� না� ‘অসচরাচর ২� কে তা� ‘ট্রোজান হর্স� ধর� নিয়� একটু ভিন্� লেন্সে দেখা যাক।
গ্রি� আর ট্রয়ে� রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে গ্রিকর� তখ� খু� একটা সুবিধা করতে পারছিল� না� তখ� নিয়� ছি� কোনো পক্ষ সম্মানের সঙ্গ� লড়াইয়ে� ইত� টানত� চাইল� একটি ঘোড়� প্রতিপক্ষে� কাছে ছেড়� দিয়� আসতে হবে। তো গ্রিকর� বড়সড় একটা কাঠে� ঘোড়� বানিয়� প্রতিপক্ষে� দুর্গে� কাছে রেখে আসলো� এম� ব্যতিক্রমী উপহা� পেয়� ট্রয়ে� নগরী� অধিবাসীরা তো খু� খুশি� বিশা� কাঠে� ঘোড়াট� দুর্গে� ভেতর নিয়� গে� ওরা। চতুর গ্রিকর� আগেই কায়দা কর� তাদে� দুর্ধর্ষ যোদ্ধাদে� কাঠে� � ঘোড়ার ভেতর� লুকিয়� রেখেছিল। রাতে সুযো� বুঝে লুকিয়� থাকা গ্রি� যোদ্ধারা দুর্গে� ফট� ভেতর থেকে খুলে দেয়� বাইর� ঘাপট� মেরে থাকা গ্রি� সৈন্যর� ভেতর� ঢুকে অতর্কি� আক্রমণ চালিয়� কাবু কর� ফেলে ওদের� ফিকশ� আর সিনেমা� জগতে এই ট্রোজা� হর্স টেকনিকটা নজরে পড়া� মতো। ২০১৭ সালে জর্ডান পী� ‘Get Out� নামে একটা সিনেমা বানিয়েছিলেন� হর� সিনেমা হিসেবে সুপরিচিত প্যাকেজড হবার পর� পোস্টরেসিয়া� অ্যামেরিকা, নিওলিবারেলিজমে� সূক্ষ্� ক্রিটি� করেছিল� সে� সিনেমা� ট্রোজা� হর্স‘অসচরাচর ২’এ� পাতায় পাতায় দু লাইনের মধ্যবর্তী ফাঁক দিয়� দৃশ্যমান হয়েছে এদেশের চিকিৎসাব্যবস্থার ক্রিটিসিজম,রোগীদে� প্রোফাইলিং,পাওয়া� পলিটিক্সের ছেঁড়া ছেঁড়া ছবি।
প্রথ� গল্প ‘পিচ্ছিল� জনপ্রিয় টিভি শো এক্স-ফাইলসে� সুপা� উইয়ার্ড কোনো এপিসোডের মতো। জেলখান� থেকে কর্পূরের মত� উব� যাচ্ছে কয়েদীরা� জেলা� শফিকের ধারণ� সুড়ঙ্� খুঁড়ে পগারপা� হয়ে যাচ্ছে এস� দাগী আসামীরা� গরাদের আড়ালে পাওয়া যাচ্ছে বিজাতীয় ভাষা� লেবে� সাঁট� ওষুধের কৌটা� হদিশ খুঁজতে �. আসিফের শরণাপন্ন হল� কোনো মতেই কূলকিনার� করতে পারা যায় না এত� সর� সুড়ঙ্� দিয়� কয়েদীরা পালাচ্ছে কীভাবে? খোঁজ মিলছ� না সে� ওষুধের� অরিজিন সোর্সের। দেশে� ওষুধ কোম্পানি� কাছে নিজেকে বিকিয়� দেয়� ডাক্তারদের সমালোচনা� সাথে চাইনিজ-বার্মি� সাপ্লিমেন্� বেচে আঙুল ফুলে কলাগাছ বন� যাওয়া কোম্পানি আর মধ্যস্থাকারীদে� এক অধরা জায়গায় আল� ফেলেছে� লেখক� রোগীদে� আর্থসামাজি� অবস্থা কীভাবে চিকিৎসার উপ� প্রভাব ফেলে তা� জ্বলজ্যান্� উদাহরণ আমরা দেখত� পা� ‘পাথর� গল্পে। নুনিয়ারছড়া� জেলে বস্ত� থেকে আস� বছ� ত্রিশেকে� রত্ন� সার্জারি ওয়ার্� ভর্ত� হয� কোলেলিথিয়াসিস অর্থাৎ পিত্তথলিতে পাথর নিয়ে। তা� এই পাথর অপসারণের নেপথ্য� মাশুদু� হক আমাদের শুনিয়� দে� সরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীদে� স্বল্পমূল্যেরও ঔষ� না কিনত� পারা� অবস্থা� কথা। কারণটা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অসহযোগিত� হলেও, পয়সার অভাব� যে খানিকট� দায়ী তা� পরিস্থিতিট� অনেকটা দেখত� পা� রত্নার গল্পে।
একজন রোগী যতটা না তা� চিকিৎস� চায়, অনেক সময়� তা� চেয়� বেশি কর� চায় জানত�-তা� আসলে কী হয়েছে� এক� ব্যাধি� একাধিক দাওয়া� থাকত� পারে, নানা ভাবে চলতে পারে তা� চিকিৎস�, ট্রেডিশনাল মেডিসি�, সার্জারি, অ্যায়ুর্বেদ, হোমিওপ্যাথ� কত ধারা� কত পথ রয়েছে� এমনক� কোনো চিকিৎস� না করার সিদ্ধান্তও রোগী নিতে পারেন। কিন্তু তা� কী হয়েছে সে� ব্যাধি� না� না জানল� এক অদ্ভুত অসহায়ত্বে� সাধ্যে মানু� মাত্রই পড়ে যান। এই সত্যের হা� ধর� আরেকটি যে সত্য, যেটি আম� নি� জীবন থেকে শিক্ষা আছ�, সেটা হল� কে� না চাইল� কোনোক্রমেই তা� রো� নির্ণয� কর� উচিত নয়। ডায়াগনসিস তা� কিছুটা অন্তর্বাসে� রঙের মত�, যে চাইছ� না আপনাকে তা জানাতে, উপযাজক হয়ে সেটা আন্দাজ করতে গেলে একটা অস্বস্তিকর মনোমালিন্য হত� পারে� এই অস্বস্তিকর এক ঘটনা� মুখোমুখি হো� �. আসিফ ‘মেরিন� ’গল্পে� প্রিয়� মিডিয়েটেড, স্লোলি প্রোগ্রেসি� ডিজি� ‘কুরু’। দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে� পাপুয়� নিউগিনির লোকেরা এক� এক� হাসত� হাসত� মরতে শুরু করেছিল�,কারণ ছি� এই ডিজিজে� আগ্রাসন। এর আগ� তানজিন� হোসেনে� ‘লালেং গ্রামে� মেয়ে� উপন্যাসিকায় এই রোগে� উল্লেখ প্রথমবারের মত� পাওয়া যায়� মেরিনা� উপসংহা� অবধি না যাওয়া অবধি রোগে� যোগসূত্র খুঁজ� পাওয়া মুশকিল হলেও মাশুদু� হকের ক্ষুরধার এক্সিকিউশনের দরুণ প্রান্তি� অঞ্চলে� পাওয়া� পলিটিক্সের এক কিলা� কম্বিনেশ� ঘটেছ� এইখানে� মেরিনা গল্প� মেরিনা� চাচা ইয়াকু� জামা� আর �. আসিফের মধ্যকা� কথোপকথ� লক্ষ্য কর� যাক। ইয়াকু� জামানে� ধারণ� নিপা ভাইরাসের মত� কোনো ভাইরাস ওই নির্দিষ্� এলাকায� আছে। এনসেফালাইটিসের সাইন সিম্পটমে� পরিধ� ধর� এই এজেন্টকে দায়ী কর� হলেও �. আসিফ তা� সাথে দ্বিমত পোষণ করেন� �. আসিফ কিন্তু জামানে� মত� ‘নিপা� বললে� না,বললে� ‘নিপাহ ভাইরাস�(Nipah) যেটা কিনা ওই ফিল্ডে� সাথে জড়ি� না হল� ভু� করাটাই স্বাভাবিক। এখানেই শুধু দু-এক লাইন� মাশুদু� হক বুঝিয়� দিয়েছেন ‘Who's the doctor here?� টুইস্ট নির্মানে যথেষ্ট কুশলী হওয়ায� গল্পের চমৎকারিত্ব নজরে পড়ে।‘নির্বাণ আশ্রম� গল্পটা� ‘ফাইব্রোডিসপ্লাসিয়া অসিফিকান� প্রগ্রেসিভা� নামে� এক দুর্লভ রোগক� উপজীব্� কর� লেখা� সম্ভবত ‘অসচরাচর ২� এর সবথেকে সিনেম্যাটি� টার্নি� দেখা গেছে এখানে। সৈয়দপুর,দিনাজপুর,সিলেটে� গোলাপগঞ্�,জকিগঞ্�,ঢাকাসহ মানচিত্রের বিস্তৃ� জায়গা কভার করতে গিয়� ন্যারেটিভে� টো� পাল্টে পাল্টে গেছে সেখানকার মানুষজনে� স্বভাব-চরিত্র�,আঞ্চলিকত�,শরীরী ভাষায়�
‘অসচরাচর� এর পাঠপ্রতিক্রিয়ায� �. আসিফকে আনরিয়ালেব� ন্যারেটর হিসেবে উল্লেখ করেছিলাম� দ্বিতীয় পর্ব পড়ে সে� ধারণ� আর� পোক্� হলো। এই ব্যতিক্রমী, সেরিব্রা� গল্পগুলো� মধ্য দিয়� মাশুদু� হক সিরিজটার ধারাবাহিকত� রক্ষ� কর� গেলে একটা ‘ট্রেডমার্ক� সে� হয়ে যেতে বেশি সময় লাগব� না� প্রথ� পর্ব� আদিব রেজা রঙ্গনে� অঙ্কনে� সাথে এই পর্ব� শামী� আহমেদে� কাজে� পার্থক্য স্পষ্টভাবে খেয়াল কর� যায়� আদিবের কাজে হর� মাস্টা� জুনজ� ইতোর প্রভাব খু� স্পষ্ট ছিল। শামীমে� কা� সে হিসেবে অন্যরক�,স্বকীয়তা� লক্ষ্য কর� যায়� দ্বিতীয় পর্ব নাতিদীর্� হলেও স্পষ্ট ফারা� নজ� এড়ায় না� পর্ব তিনে� অপেক্ষায�...
�.�/� "অসচরাচ� �" এর মত� আবেদ� সৃষ্টি করতে না পারলেও � এর প্রতিট� গল্প� আমার কমবেশি ভালো লেগেছে� লেখক সফলভাব� কাহিনিতে বৈচিত্র্�, অনিশ্চয়তা � রোমাঞ্� ধর� রেখেছেন। এটুক� নিশ্চি� - আমরা একটা স্মরণীয় সিরি� পেতে যাচ্ছি।�
"সব সুস্� মানু� এক� রক�, অসুস্থ মানুষেরা নিজেদে� মত কর� নানা ভাবে অসুস্থ�"
বহুদিন পর কোনো গল্পসংকল� পড়ে সম্পূর্ণ তৃপ্তি পেলাম। বই দুটো শে� করার পর আফসো� হচ্ছে—কেন শে� হয়ে গে�! "অসচরাচ�" এব� "অসচরাচ� �" এই দু� সংকলনে� নয়ট� গল্প� মুগ্�, বিস্মি� আর শিহরিত করেছে। গল্পের সহজবোধ্য ভাষাশৈলী সাধারণ পাঠকদে� কাছে বই দুটোকে খু� দ্রু� পৌঁছ� দিবে আর বোদ্ধা পাঠকের জন্য� রয়েছে ভাবনার খোরাক।
প্রতিট� গল্পকে� মেডিকে� বা বড� হর� বল� যায়� গল্পের মধ্য� ব্যবহৃ� মেডিকে� টার্মগুল� এত সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা কর� হয়েছে যে, যেকোনো পাঠক অনায়াসে� গল্পগুলো উপভো� করতে পারবেন� লেখক মাশুদু� হক দক্ষতা� সঙ্গ� ডাক্তা� আসিফ আহমে� চরিত্রের মাধ্যম� সবগুলো গল্পকে সংযুক্� করেছেন এব� গ্রামী� আব� ব্যবহা� কর� গল্পগুলো� ভীতিকর অনূভূতিক� আর� বাস্তব কর� তুলেছেন—এ� বিষয়ট� আমার খু� ভালো লেগেছে�
বইমেলা '২৫- � প্রকাশিত বইয়ের মধ্য� এই বই আমার প্রথ� পড়া� এই বই নিয়� এত� এক্সাইটে� ছিলা� যে কেনা� পরপর� এক বসাতেই শে� কর� ফেলছি।
সচরাচর মেডিকে� সেক্টর� আমরা প্রতিনিয়ত যা দেখি তা� বাহিরে আনরিয়েলিস্টিক যা ঘট� ঐস� অসচরাচ� ঘটনা নিয়� ডা. আসিফের বিচর� বল� চলে। ডা. আসিফকে আমরা 'অসচরাচ�' � চিনেছি,তা� আর উনাক� নিয়� না বলি। এই বইয়� গল্পের সংখ্যা কম এট� একটা আফসোস। আমার কাছে বেশি ভালো লেগেছে "পিচ্ছি�", "মেরিনা" - � দু� গল্প� শে� গল্প� আমার মন� হয়েছে এন্ডিং টা আরেকটু ডিপল� হল� ভালো হত�, কিছু মিসি� মিসি� লেগেছে� ২য� গল্প� এন্ডিং এ্যকশন মুভি� ভাইব এসেছ� আমার কাছে, যেহেতু মেডিকে� সাইন্স রিলেটে� একটু ভৌতি� ভাইবের বই সেহেতু ঐরকম এন্ডিং হল� মন� হয� ভালো হত� আমার মতে। কিন্তু কিন্তু বইটা পড়ে আমার কোনো আফসো� নেই। আফসো� আছ� একটা� কে� এত� জলদি শে� হল�!? আরেকটু পড়ি,আরেকটু পড়া যেতো...
অসচরাচ� � তে আছ� চারট� গল্প - পিচ্ছি�, নির্বা� আশ্র�, মেরিনা, পাথর� তন্মধ্যে আমার কাছে নির্বা� আশ্র� বে� লেগেছে, বাকিগুলো ঠিকঠাক তব� অসচরাচ� � এর মত� এতটা মাথায় গেঁথ� যায়নি! কোনো মি� থাকল� বা রোগীগুলো� যারা মারা যায়নি পরবর্তীতে কী হল� জানত� পারল� ভালো� লাগত�!
Silas Lamb: Cure them? To what purpose? Edward Newgate: Well to... Bring them back to their senses. Silas Lamb: And make a miserable man out of a perfectly happy horse? ( Stone Hearst Asylum)
একজন রোগী যতটা না চিকিৎস� চায়, অনেক সময়� তা� চেয়� বেশি কর� জানত� - তা� আসলে কী হয়েছে� এক� ব্যাধি� একাধিক দাওয়া� থাকত� পারে, নানা ভাবে চলতে পারে তা� চিকিৎস�, ট্র্যাডিশনাল মেডিসি�, সার্জারি, আয়ুর্বে�, হোমিওপ্যাথ� কত ধারা� কত পথ রয়েছে� এমনক� কোনো চিকিৎস� না করার সিদ্ধান্তও রোগী নিতে পারেন। কিন্তু তা� কী হয়েছে সে� ব্যাধি� না� না জানল� অদ্ভুত এক অসহায়ত্বে� মধ্য� মানু� মাত্রই পড়ে যান।
প্রথ� বইয়ের মত� গল্পগুলো গা গুলিয়� না উঠলে� গল্পগুলো ভালো লেগেছে� তব� প্রথ� বইতে লেখক যে অসচরাচ� আব� তৈরি করেছিলেন, সে� আব� একমাত্� পেলা� 'পিচ্ছি�' গল্পে। দ্বিতীয় গল্পের বর্ণনা বেশি চমৎকার, প্লটটা� বে� ইউনিক। লেখক ডাক্তা� হওয়ার কারণেই হয়ত� এম� এক প্লটের জন্ম� তৃতীয় গল্পটা� উপভোগ্য। শে� গল্প, যা� না� পাথর; খুবই আগ্র� নিয়� পড়ত� শুরু করেছিলাম� কিন্তু চমৎকার এক বিষয়বস্তু নিয়� শুরু হওয়ার পর গল্পটা মানবিক হয়ে গে�, ঠি� অসচরাচ� কাতারে গে� না� হয়ত� এই গল্পটা লেখক এভাবেই বলতে চেয়েছিলেন�
❝মানুষ অসচরাচ� সহ্য করতে পারে না� অসহ্যক� নিবারণ করেই ওর� নিজে� স্বস্ত� নিশ্চি� করে।�
অসচরাচ� সিরিজে� প্রধান চরিত্র ডা. আসিফ আহমেদ। ফাইনাল প্রফেশনা� পরীক্ষা� আগ দিয়� মারাত্মকভাবে সিজোফ্রেনিয়ায� আক্রান্ত হন� সব শে� হয়ে যাবে মন� হলেও আবার সব নতুন কর� শুরু হয়। নতুন একটা অভ্যাস� তৈরি হয়। অ্যাটিপিক্যা� কেসগুল� লিখে রাখেন। ❝অ্যাটিপিক্যাল কেস❞ নিয়� লেখা ❝অসচরাচর� সিরিজে� শুরুটা এইভাবেই। প্রথ� বইয়� পাঁচটা � দ্বিতীয় বইয়� চারট� অ্যাটিপিক্যা� কেসে� কাহিনী আছে।
পিচ্ছি� (𝐆𝐥𝐢𝐬𝐭𝐞𝐧𝐢𝐧𝐠): সৈয়দপুরের রে� কর্মচারীদে� জন্য তৈরি হাসপাতাল� যখ� ডা. আসিফ নিয়োগ পা� তখ� নিরিবিলি ছিমছাম শহরে� মায়ায� পড়ে যান। তব� মাঝেমধ্য� বন্ধবন্ধ� মন� হতো। হেলথ-ক্যাম্পেইন� যখ� নীলফামারী জেলা কারাগারে যা� তখ� স্কু� জীবনের বন্ধ� শফিককে পেয়� যান। কারাগারে� অদ্ভুত এক ঘটনা� কথ� বলেন� জে� থেকে উধাও হয়ে যাচ্ছে কয়েদিরা! রুমে পাওয়া যাচ্ছে অদ্ভুত এক ঔষধে� শিশি! নিরী� দর্শ� কিছু ঔষ� কীভাবে অলৌকিক কা� করতে পারে? দু� বন্ধ� মিলে কোনো কূলকিনার� করতে পারে না� কিন্তু দুইবছর আগের এই ঘটনা হঠাৎ পরবর্তীতে আসিফের জীবন� হানা দিবে কে জানত�!
নিত্যদিন যেসব ঔষ� আমরা খা� এগুল� নিরী� মন� হলেও কি ভবিষ্যতে কোনো ইফেক্ট পড়ে না বা পড়ত� পারে না? রাসায়নি� এই সব বড়ি যেমন আমাদের জীবন সহ� করতে পারে তো আবার জটিলও। গল্পের কন���েপ্� এমনটাই মন� করিয়ে দেয়� প্রথমে ভেবেছিলা� মিস্টা� ইন্ডিয়া টাইপ কিছু একটা হব� কিন্তু শেষট�...! মোটামুটি লেগেছে আরকি�
নির্বা� আশ্র� (𝐀𝐧𝐧𝐢𝐡𝐢𝐥𝐚𝐭𝐢𝐨𝐧 𝐌𝐨𝐧𝐚𝐬𝐭𝐞𝐫𝐲): অদ্ভুত এক আশ্র� যেখানে বিভিন্� রোগে আক্রান্ত মানুষদের এন� রাখা হয়। না� না জানা এক বিরল রোগে আক্রান্ত হন তমিজুদ্দিন সরকারে� বাবা� বুঝত� পারে� সমাজ তাঁর মত� মানুষদের সহজে গ্রহ� করতে পারে না� তখনই গড়ে তোলে� এক আশ্রম। আশ্রমে এস� ভয়ানক এক অভিজ্ঞতা� মুখামুখি হন ডা. আসিফ!
"ফাইব্রোডিসপ্লেসিয়� অসিফিকান� প্রগ্রেসিভ�" নামক দুর্লভ রোগে� ওপ� বেইজ� গল্পের প্লট� এম� অদ্ভুত রো� যে আদতে� আছ� এই প্রথ� জানলাম� এটাই আমার কাছে বইয়ের সেরা গল্প মন� হয়েছে� একটা� সাথে আরেকটা কে� এইভাবে জুড়� যাবে একদম� আশ� করিনি।
মেরিনা (𝐌𝐚𝐫𝐢𝐧𝐚): চটপট� মেয়েটার হু� কর� আগমন ঘট� ডাক্তা� সাহেবে� জীবন� আবার হু� করেই উধাও হয়ে যায়! মেরিনা� বাবা� মধ্য� অস্বাভাবিক কিছু লক্ষ� দেখা যায়� কিছু বুঝে ওঠার আগেই মারা� যান। অস্বাভাবিকতা� কারণ খুঁজতে যেয়�...! কে� না চাইল� কোনোক্রমেই তা� রো� নির্ণয� কর� উচিত নয�...
এই গল্পটা শুরুতে� কে� জানি মন� হচ্ছিল সিরিজে� প্রথ� বইয়ের "ইয়ানোমামিয়ান" গল্পের মত� কিছু একটা হবে। কে� যে এমনট� মন� হচ্ছিল নিজে� জানি না কিন্তু অনেকটা� যে মিলে গেছে আসলে� অদ্ভুত লাগতেছ�! যদিও রোগে� বিষয়ট� মিলেনি� সমাপ্তিত� মন� হল� এতোগুল� মানু� একবারে বুদ্ধিশুদ্ধি কীভাবে হারায় তা� একসাথে? আজ� এক রো� � কারণ সম্পর্কে জানলাম!
পাথর (𝐒𝐭𝐨𝐧𝐞): সরকারি হাসপাতাল� বিভিন্� শ্রেণি-পেশা� মানু� আসে। কিন্তু তাদে� মধ্য� কে আসলে� গরী� বে� কর� কষ্টকর� রত্ন� নামে� এক রোগী� পিত্তথলি থেকে পাথর বে� করেন আসিফ� রোগী� পরিবারের অবস্থা দেখে সাহায্� করেন কিন্তু হঠাৎ হাসপাতাল থেকে উধাও হয়ে যায় তারা� পিত্তথলি থেকে বে� কর� পাথর পরিষ্কার করতে যেয়� চমকে ওঠেন।কীভাবে সম্ভ�?
খুবই পিচ্চি একটা গল্প� শেষট� যেনো তাড়াহুড়ো কর� টানা হয়েছে� এই হুটহাট শে� কর� দেওয়া� জন্য গল্পটা জম� নাই।
❝অনে� সময়� আমরা এম� সব জিনিসক� রো� বলতা� যেগুলো পর� জানত� পেরেছি রো� না, আছ� না এম�?�
রোগে� বহুত কঠিন না� হলেই ধর� নে� যে হয� রোগী মারা যাবে নয়ত� এর চিকিৎস� নাই। বইয়ের গল্পগুলো আমার এই ধারণ� আর� পোক্� করলো� রো� � প্রকৃতির বর্ণনা লেখক দারুণভাব� করেছেন� সিরিজে� পরবর্তী বইগুলো� জন্য� অপেক্ষ� করবো� প্রথ� বইটা দ্বিতীয়টা� থেকে বেশি ভালো লেগেছে আমার� অতিমাত্রায� আশ� করেছিলাম সম্ভবত এইজন্য� তেমন একটা ভালো লাগেনি� তব� ওভারঅল মোটামুটি আরকি� বইয়ের প্রোডাকশ�, প্রচ্ছ� � ইলাস্ট্রেশনগুল� সুন্দর হয়েছে�
An idea, like a ghost, must be spoken to a little before it will explain itself.
Charles Dickens
যাহা প্রকৃতির নিয়মরুদ্ধ বেড়াজালকে অতিক্র� কর� নি� পথচলাক� কোনো আগাছ� শেকড়ে� মত বেড়� যায় তাকে� অতিপ্রাকৃত হিসেবে ধর� হয়। যদিও আমাদের স্বাভাবি� জীবন� অতিপ্রাকৃতের স্থা� নিতান্তই সামান্� তব� আমাদের কল্পনায় এটির লালনার একটি বিশে� স্থা� রয়েছে� মনুষ্যের স্বাভাবি� জীবনের বহমানতায� যখ� বিরক্তির সু� শোনা যায় তখ� তাদে� মন� হয� নিয়মবিরুদ্ধ কিছু� সন্ধানের প্রয়া� করাই যায়� তব� তা ব্যাতী� অতিপ্রাকৃতের যে অস্তিত্ব নে�, কিংব� খো� না করলে� যে এট� আমাদের সামন� এস� হানা দিবে না, সে� ভাবনাতেও রয়েছে নির্বুদ্ধিতা� আমার বিশ্বা�, আমাদের স্বাভাবিকতার মত সমান্তরালে বা� কর� যায় অতিপ্রাকৃত অস্তিত্ব, যা হয়ত সচরাচর চোখে পর� না, কিন্তু অসচাচর দেখা পাওয়া যেতে� পারে�
�. আসিফ, যিনি অস্বাভাবিকতা� চাপে সামান্� স্বাভাবিকত� খুজত� চা� না, বর� অস্বাভাবিকতায়� বা� করতে চান। তব� নাজু� মানসিক অবস্থা� এই তরুন ডাক্তারে� অভিজ্ঞতা সমূহ তা� উপ� কিছুটা হলেও চা� ফেলে� আর তা� এইসব উদ্ভ� এব� সচরাচর দেখা না পাওয়া অভিজ্ঞতাসমূহের কালেকশ� অসচরাচ� ২। অসচরাচ� প্রথ� অংশে� অভিজ্ঞতা আমাদের সকলে� শরীরে এক প্রকাশ শিহর� বইয়� দিয়েছে। তিনি চিকিৎস� হয়ে খুজে যা� অজান� অনেক উত্ত�, এব� সত্যের হা� ধর� খুজে বে� করেন আর� সত্য� বর� ব্যাধি� না� না জানল� রোগি� মাঝে কা� কর� এক অসহায়ত্�, সে� অসহায়ত্� থেকে বাচাতে� এই অস্বাভাবিক পথ বেছে নে� তিনি� প্রথ� ভাগে� ধারাবাহিকতায� ২০২৫ এর বইমেলায় প্রকাশিত হয� অসচরাচ� ২।
গত বছ� এরকম সময় � অসচরাচ� প্রথ� ভাগে� পা� প্রতিক্রিয়া দিয়েছিলাম, এব� এই বছ� মেলায় অধির আগ্রহে অপেক্ষায� ছিলা� অসচরাচ� � এর জন্য� তা� সুযো� পেতে� হাতে নিয়� শুরু কর� ফেলি� অসচরাচ� � বইয়� রয়েছে পিচ্ছি�, অনির্বান আশ্র�, মেরিনা � পাথর নামে চারট� গল্প� চারট� ভিন্� স্বাদে� তব� এক� ধরনে� চা� গল্প� গল্পগুলো� দ্বারা মনুষ্য দেহে� অসুস্থতা� সাথে অস্বাভাবিকতা� এক অদৃশ্য সংযো� স্থাপন হয�, এব� সে� অদৃশ্য সংযো� স্থাপনের খো� করেন আসিফ সাহেব। অসচরাচ� � পড়া� পর এক অদ্ভুত অস্বাভাবিক অনুভুত� কা� করেছিল� কেনন� গল্পের বহ� এব� গল্পের কাল্পনিকতা আমাক� একদম গভীরভাব� নাড়িয়ে দিয়েছিলো। তব� প্রথ� অংশে� তুলনায� দ্বিতীয় অংশে� গল্পগুলো অনেকটা� যেনো মিইয়ে গেলো� প্রথ� ভাগে� ব্যাপারট� কে� কা� কর� নি� যেহেতু এট� অসচরাচ� এর দ্বিতীয় ভা� সেক্ষেত্রে� সে� অংশে� মত� এটির কাছে একটি প্রত্যাশ� স্বাভাবি� ভাবে� তৈরি হয়েছে� গল্প হিসেবে অসচরাচ� � এর গল্পগুলো একদম � মন্দ নয�, তব� প্রথ� অংশে� মত জম� নি কোনো এক কারনে। তব� লেখকের কাল্পনিকতা এব� হর� বর্ননা� ধর� এব� গাথুনি বে� ভালো, তব� পরবর্তী গল্পগুলো আর ভালো হব� বল� আশ� কর� যায়�
ভিন্নধর্মী কেইস টুকে রাখত� সব ডাক্তারে� হাতে একটা জার্না� থাকা উচিৎ� অন্ত� এম� সব মেডিকে� কেইস লিপিবদ্ধ হয�, ইতিহাস� যা� পুনরাবৃত্ত� ঘটার সম্ভাবনা বিরল� যেসব ঘটনা আপাতদৃষ্টিতে অব্যাখ্যাত, তা� পেছন� যুক্তি খুঁজ� তাঁক� বোধগম্� কর� তোলা রহস্যভেদী'� কাজ। গোয়েন্দ� গল্প� যেমনটা দেখে এসেছি। আমাদের প্রটাগনিস্� আসিফ অবশ্� গোয়েন্দ� নন, ডাক্তার। আর তা� বিরল মেডিকে� কেইসগুলো তাঁর চোখে পড়ল� বেশিক্ষণ আর অব্যাখ্যাত থাকে না, পাঠক তা� পেছনের রহস্যে� সুতো পেয়� যায় দ্রুতই� কিন্তু রহস্যভেদ-� কী আর গল্পের শে�! সচরাচরের বাইর� যত প্রবণত�, তা তৈরী কর� দেয় এম� সব সুযো� অথবা বিপত্ত�, যা সাধারণ� ঘট� না� যা "অসচরাচ�"� সেসব ঘটনা� টানাপড়েনে কিছু মেডি� মিরাকল নিয়�, �
মাশুদু� হক যত লিখেছে�, তাঁর ওপ� চো� বোলালে দারু� বৈচিত্র্� চোখে পড়ে� একদিকে - জমজমাট অকাল্ট থ্রিলা�, এডভেঞ্চা� সাইফাই, গোটা তিনে� শিশুতো� বই, আর সর্বশে� সংযোজন এই অসচরাচর। মজার ব্যাপা� হল�, পঁচিশে� বইমেলায় বেরো� তাঁর ২ট� বই আর পাশাপাশি পড়ত� গেলে লেখকের গল্পকে দেখা� দৃষ্টি, গল্প ভাবা� মন আর গল্প বলার পদ্ধতি'� একটা কন্ট্রাস্ট লক্ষ্য কর� যায়� অসচরাচ� �-তে এসেছ� রহস্যক� সমাধান করার স্পৃহা আর মানুষে� সাহায্যে এগিয়ে আসার প্রব� ইচ্ছা। প্রটাগনিস্� আসিফের মধ্য দিয়� লেখক নিজে� যে� আর� প্রবলভাব� প্রকাশিত হত� পাইছিলেন� অন্যদিকে যে গল্পগুলো বইতে স্থা� পেয়েছ�, তারা সম্ভবত কাছাকাছি সময়� লেখা হলেও, সেসব� আছ� Absurd-এর দিকে তাকানো� অনিশ্চয়তা, নিয়ন্ত্রণাতী� ভাগ্যে� পথ� যাত্রা... অসচরাচ� পড়া� সময় পরিস্থিতির রা� যতটুকু নিজে� হাতে অনুভ� কর� গেছে, খরগোশে তা একেবারেই ছি� না�
নিজেকে আর� জানত� চাইছেন, আর তাঁর সাথে আমাদের� যাত্রা চলেছ� "দেখি কতদূ� যাওয়া যায়, কেমন করে�" মন নিয়ে। এই বয়ে চল�'� আনন্দে তা� আলাদ� কর� আর ভাবছ� না অসচরাচ�-� কতটা দা� ফেলত� পারল� মনে।
মাশুদু� হকের জনপ্রিয় বই "অসচরাচ�" সিরিজে� দ্বিতীয় বই হল� "অসচরাচ� �"� বইটিতে সিরিজে� প্রথ� বই "অসচরাচ�" এর মত� চিকিৎসাবিজ্ঞান সম্পর্কি� কিন্তু অসচরাচ� এম� বে� কিছু গল্প তুলে ধর� হয়েছে� গল্পগুলো বিজ্ঞা� সম্পর্কি� হলেও গল্পগুলো� মধ্য� রয়েছে অতিপ্রাকৃত এব� রহস্যময় আব�, যেগুলো� কোনো যুক্তিসঙ্গ� ব্যাখ্যা আজ� পাওয়া যায়নি�
কাহিনী সংক্ষে�: "অসচরাচ� �" বইটি এর প্রথ� বইটি থেকে তুলনামূল� সংক্ষিপ্ত। � বইয়� লেখক চারট� অসচরাচ� গল্প তুলে ধরেছেন� আগের বইটি� মত� এই বইটি� গল্পগুলোরও কেন্দ্রীয় চরিত্র হলেন ডা. আসিফ আহমে�, যিনি বে� কিছুদি� সিজোফ্রেনিয়ায� আক্রান্ত ছিলেন। তিনি তা� শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এক প্রফেসরে� পরামর্� অনুযায়ী কোনো অ্যাটিপিক্যা� বা অস্বাভাবিক কেসে� সম্মুখী� হল� সে� কেসগুলোর বিবর� নিজে� ডায়েরিত� লিপিবদ্ধ করতে�, যেটি� উপ� ভিত্তি করেই গড়ে তোলা হয়েছে "অসচরাচ�" বইয়ের সিরিজটি।
বইটি� চারট� গল্প� চিকিৎসাবিজ্ঞান সম্পর্কি� এব� গল্পগুলো� মধ্য� রয়েছে পরাবাস্ত� তথ� অতিপ্রাকৃতের আবহ। গল্পের কোনো কোনোটি যেমন রহস্যময় � রোমাঞ্চক�, তেমন� কোনো কোনোটিতে রয়েছে মানব মনের নৈতি� বা অনৈতিক চেতনার বহিঃপ্রকাশ�
অসচরাচ�-� এর কাছে অসচরাচ�-� কলেবরে এব� আকর্ষণ�, উভয়দি� থেকে� খানিকট� পিছিয়� পড়েছে� খারা� লেগেছে বলবো না, তব� সিরিজে� প্রথ� বই পড়া� পর যে ঘো� লাগা� মত� একটা ব্যাপা� কা� করেছ�, সেটা এই বইয়� অনুপস্থি� ছিল। চারট� গল্পের মধ্য� মেরিনা গল্পটা সব থেকে ভালো লেগেছে আমার�
আশ� কর� লেখক সামন� আবার অসচরাচ�-� নিয়� আমাদের মাঝে উপস্থি� হবেন এব� সেটা কলেবরে বিস্তৃ� হবে।
ব্যাখ্যা কর� যায় না এম� চারট� গল্প নিয়� সাজানো 'অসচরাচ� �'� গল্পগুলা হচ্ছ�- পিচ্ছি�, নির্বা� আশ্র�, মেরিনা, পাথর� চমৎকার ব্যাপা� হচ্ছ� এই যে, চারট� গল্প� ইউনিক। একদম� ইউনি�! কেনো বলছি? কারণ এরকম গল্প আসলে� সচরাচর শোনা যায় না� বইয়ের টাইটেলের সাথে গল্পগুলা� সত্য� সত্যিই মি� আছে। মেডিক্যা� বা বড� হর� জনরায় ফেলা যায় গল্পগুলাকে� সে� সাথে রয়েছে, মাশুদু� হক ভাইয়ে� চমৎকার লিখনশৈলী� যেকোনো পাঠক মুগ্� হত� বাধ্য। চারট� গল্প� অন্য অন্যরক� টুইস্ট দেয়� ভালো লেগেছে টুইস্টগুলা� সে� সাথে রয়েছে, চমৎকার সব ইলাস্ট্রেশান! আমার সবচাইত� পছন্� হয়েছে 'পাথর' গল্পের ইলাস্ট্রেশানটা� জো�!
সবমিলিয়�, অসচরা��র-� এর সাথে তুলন� করতে গেলে এই পার্� পিছিয়ে। তব�, আপনি যদ� অসচরাচ�-� কে আলাদাভাব� দেখত� যা�, এইটা� চমৎকার� চিরকুটের প্রোডাকশ� কোয়ালিটিও সে� লেভেলের। ভালো লাগা� মত� একটা বই�
নভেম্ব� ১৯, ২০২৪ আম� পড়ে শে� করেছিলাম অসচরাচর। আমার পড়া মাশুদু� হক ভাইয়া� প্রথ� বই� বল� রাখা ভা� এর পূর্বে আম� মেডিকে� বা বড� হর� জনরা� অন্য কো� বই পড়া� সৌভাগ্� অর্জ� কর� নাই। শুরুতে ভালই নার্ভাসনেস নিয়� বইটা শুরু করলে� কিছুদূ� যেতে না যেতে বুঝেছিলা� এই বইটা আমার সবচেয়� প্রিয় বইগুলা� মধ্য� একটা হত� চলেছে। বইটা শে� কর� কনফিউজ� হয়ে গেছিলাম। মাশুদু� হক ভাইয়া ডঃ আসিফকে দিয়� যেভাবে গল্পগুলা ফেঁদেছিলেন আম� বারবার� ভাবছিলাম হয়ত এগুল� সত্য�, হয়ত গ্রামী� প্রত্যন্� পাহাড়� অঞ্চলগুলাত� এম� ঘটনা ঘটেছ� যা একজন প্রত্যক্ষদর্শী ডাক্তা� তা� ব্যক্তিগ� ডায়েরিত� লিপিবদ্ধ কর� রেখেছেন। বইটা� প্রত� আগ্র� জন্মানোর অন্যতম প্রধান একটি কারণ ছি� এর অসাধার� মেটাফোরি� প্রচ্ছদ। প্রত্যেকটি গল্প শে� কর� আম� প্রচ্ছদট� বারবার দেখছিলাম, আর যখনই গল্পের সাথে প্রচ্ছদে� আর্ট মিলে যাচ্ছি� তখ� কি যে ভা� লাগছিল� যাইহোক, অসচরাচ� শে� কর� আম� অপেক্ষায� ছিলা� এর পরবর্তী বইটি� জন্য� কিন্তু এই বইমলায� যে হু� করেই বইটা চল� এসেছ� এই তথ্য আম� পা� অনেক দেরি করে। বইটা� প্রাথমিক একটা প্রচ্ছ� তখ� ফেসবুক� আপলো� কর� হয়েছে� আমার এক ছোটভাই সেটা আমায� ইনবক্স� দি� কিন্তু� সত্য� বলতে আম� সে� প্রচ্ছ� দেখে যথেষ্ট নিরা� হই� কারণ এর প্রথ� পার্টটার প্রচ্ছদে� মেটাফোরি� কাজটার আম� ফ্যা� হয়ে গেছিলা� কিন্তু সে অনুযায়ী এট� কিছু� না� যদিও পরবর্তীতে জানত� পারি এট� ছি� একটা ডেমো কপ� জাস্ট। তখ� আবার একটু আশারআল� দেখত� পাই। প্রথ� পার্টে� সাকসেসের পর এর সেকেন্� পার্টে� উপ� আমার যথেষ্ট এক্সপেক্টেশন ছিল। বইটা তাড়াহুড়া কর� অর্ডার কর� দি, কিন্তু হাতে পাওয়া� পর চূড়ান্ত প্রচ্ছদটাও প্রথমটার মত� অতটা জো� লাগে নাই৷ সে যা� হো� ভিতরের গল্পগুলো যদ� ভা� হয� তব� এই প্রচ্ছ� বেদন� হয়ত কিছুটা লাঘব কর� যাবে� লেখক পূর্বে� তুলনায� এই বইটায় গল্পের পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছেন� আম� আর� মন� মন� চেয়েছিলাম প্রথমটার তুলনায� এটায� গল্প যে� বেশি থাকে� কিন্তু আবার আশাহত। যাইহোক, বইটিতে ছি� সর্বমো� চারট� গল্প� পিচ্ছি�, নির্বা� আশ্র�, মেরিনা এব� পাথর� এর মধ্য� পিচ্ছি� এব� মেরিনা মোটামুটি ভা� লেগেছিল। বাকি দুইট� কেমন যে লেগেছে এইটা আম� নিজে� ঠি� বুঝে উঠতে পারছ� না তা� আর উল্লেখ করলা� না� তব� প্রথমটার গল্প গুলা শে� কর� দীর্� সময় একটা ঘোরে� মধ্য� থেকে কল্পনায় সে� অসচরাচরে� অস্তিত্বকে অনুভ� করতে চাওয়া� মত� অনুভূত� এই সেকেন্� পার্� পড়া� সময় আমার হয� নাই। যদ� অসচরাচ� � আস� তব� আম� চাইব বইটায় গল্প বেশি থাকুক। বইটা� প্রচ্ছদট�, অসচরাচ� � এর মত� ক্লিয়ার মেটাফোরি� হোক। আর...গল্প গুলা আর� রহস্যময় হো�, যেটা পড়া শে� কর� পাঠক কনফিউশান� পড়ে যাবে� তা� সাবকন্সিয়াস মাইন্ড তাকে ফোর্� করবে বিশ্বস করতে যে, আসলে� আমাদের চোখে� আড়ালে� লুকিয়� আছ� বা থাকত� পারে এম� অজস্� অসচরার ইন্সিডেন্ট যা� সঠিক বৈজ্ঞানি� ব্যাখ্যা দাঁড� করান� সম্ভ� হয� না�
�. আসিফ আহমে� ফিরে এসেছেন তা� আর� কিছু সচরাচর ঘট� না এমনস� ঘটনা নিয়ে। আগের পর্ব� ৫ট� গল্প থাকলেও, এই পর্ব� রয়েছে ৪ট� গল্প� বইয়ের কলেবরও কমেছ� কিছুটা� তব� ব্যক্তিগ� ভাবে অসচারচ� � আমার কাছে প্রথমটার মতোই দূর্দান্� ভালো লেগেছে� শে� গল্পটা ছাড়� বাকি গল্পগুলো বে� গুছানো� দুইট� গল্প তো এমনক� প্রথমটার সবচেয়� ভালো গল্পকে� ছাড়িয়ে যাবে�
পিচ্ছি� 3️⃣.5️⃣/5️⃣
জেলখান� থেকে ভোজবাজির মত� উধাও হয়ে যাচ্ছে কয়েদীরা� তাদে� সেলে� ভিতর পাওয়া যাচ্ছে বিজাতীয় ভাষায় লেখা এক ঔষধে� কৌটা� কারাগারে� জেলা� শফিক সাহায্� চাইত� এল� ডাক্তা� বন্ধ� আসিফের কাছে�
বে� ভালো লেগেছে গল্পটা� অনেকটা পরীক্ষা নীরিক্ষা� মাধ্যম� ল্যাবে মিউটেন্ট তৈরি কর� টাইপ গল্প� মাশুদু� হকের লিখনশৈলী এত্ত চমৎকার যে কিছু না ঘটলে� একটানা পড়ে যাওয়া যায়� গল্পের শেষট� অদ্ভুত� মূ� যে রহস্� সেটারও সমাধান কর� হয়নি। আর সে কারনেই রেটি� কিছুটা কম� তব� পড়েছি ভীষণ আগ্র� নিয়ে।
নির্বা� আশ্র� 5️⃣/5️⃣
ফাইব্রোডিসপ্লেসিয়� অসিফিকান� প্রগ্রেসিভ� এম� এক বিরল রো� যা� কারন� একজন মানুষে� মাংস, হাড়� পরিণ� হয়ে যায়� এই রোগটাক� উপজিব্� কর� দারু� এক প্লট� এই গল্পটা লেখা হয়েছে�
নিঃসন্দেহে বইয়ের সেরা গল্প আমার মতে। কি নে� এই গল্প�!! অসচারচ� সব রো�, মানু� হারিয়� যাওয়া, প্রাচী� বাড়ির রহস্যময় পরিবেশ সব পাওয়া যাবে এক গল্পে। গল্পের ডিটেইল� অসাধারণ। দারুণভাব� সাজানো গল্পটা� এন্ডিংটা� চমৎকার�
মেরিনা 5️⃣/5️⃣
আর� একটা চমৎকার গল্প� বল� যায়, উপরে� গল্প আর এট�, এই দুটো গল্প� গোটা বইটাকে অসচরাচ� প্রথ� পর্বের চেয়� এগিয়ে রেখেছে� অত� স্বাভাবিকভাবেই কুরু রোগে� না� আগ� শুনিনি� এই রো� এভাব� যে ছড়ায় সেটা� তা� জানা ছি� না� ঘটনা� শুরু �. আসিফের প্রেমিকা মেরিনা� বাবা� হঠাৎ কর� অসুস্থ হয়ে যাওয়া� মাধ্যমে। সক� পরীক্ষা নীরিক্ষা� ফলাফ� স্বাভাবি� থাকলেও ভদ্রলোকে� মানসিক অবস্থা� দ্রু� অবনত� ঘট� এব� এক পর্যায়ে তিনি মারা যান। আসিফ জানত� পারে একইরকম ভাবে মেরিনা� আর� আত্মীয়-স্বজনও মারা গিয়েছে। রো� নির্ণয� করার লক্ষ্যেই তদন্� নামে আসিফ�
আর শেষে যা বে� হয�, তা ঘূনাক্ষরেও ভাবিনি� দারু� টুইস্ট আর রহস্যে মোড়� গল্পের রোগটার� বাস্তব ভিত্তি আছ� সেটা জেনে আর� অবাক হয়েছি� কত� না বিচিত্� আমাদের এই দুনিয়�!
পাথর 2️⃣.5️⃣/5️⃣
পিত্তথলি� পাথর কমবেশি আমাদের সবার পরিবারের কম� ঘটনা� কোনো না কোনো আত্বীয় বা বন্ধুর এই অসুখ হয়েছেই। তেমন� এক রোগী� পাথর অপারেশনে� পর আবিষ্কার হয� তা� পাথরগুলো আসলে অস্বাভাবিক�
গল্পটা কে� যে� মন� হল� হু� করেই শে� কর� দিয়েছেন লেখক� হয়ত� আর� অনেক কিছু লেখা� ছি� কিন্তু লিখত� পারেনন� সময়ের অভাব�, এমনটাই মন� হয়েছে� আর তা� গল্পটা নিয়� কিছুটা হতাশ� তব� ওই যে বললা� গদ্যশৈলী, শুধুমাত্� � কারন� বইয়ের সবচেয়� ছো� এই গল্পটা� পড়ত� ভালো লেগেছে�
ব্যক্তিগ� রেটি�: ০৯/১০ (একেবারেই অসচরাচ� কিন্তু না এই বইয়ের সব গল্প� কিছু গল্পের বাস্তব ভিত্তি আছ�, কিছু রো� আসলে� এক্সিস্ট করে। আম� এমনক� চ্যাটজিপিট� থেকে� জেনেছি যে রোগগুল� বাস্তব� আর এই জিনিসটার জন্য� বইটা আমার কাছে আর� বেশি ভালো লেগেছে� একমাত্� আফসো� বড্ড দ্রুতই শে� হয়ে গে� বইটা� সচেত� ভাবে� অসচরাচ� � এর অপেক্ষায� রইলা�)
রমজা� আসলে� আমার জীবন এম� এক ট্র্যাকে উঠ�, যেখানে ঘুম��র সিগন্যাল থাকে কিন্তু রিসিভা� কা� কর� না� সারাদি� ঝিমা�, ক্লাসে� লেকচার� মাথা ঘুরে, আর রা� হলেই চোখে ঘুমে� নামগন্� নেই। সেদিনও তা�, মাঝরাত পা� হয়ে যাচ্ছে, আম� বিছানায় এপাশ-ওপাশ করছি, মাথা� মধ্য� রযান্ড� চিন্তা� ফেস্টিভ্যা� চলছে�
ঠি� তখনই মন� হলো—আরে, বইমেলা� বইগুলো এখনো এক কোণায় পড়ে আছ�! হাতড়াতে হাতড়াতে উঠিয়ে আনলা� অসচরাচ� ২। কিন্তু আম� এবার স্মার্�, প্রথমটার মত� হাইপের পাল্লায় আর পড়ব� না� নিজেকে� কঠিনভাবে ব্রি� করলাম� "দে�, তো� হৃদয� জুনজ� ইতোর বড� হর� পড়ে পড়ে মরচে ধর� লোহা� মত� শক্ত হয়ে গেছে, বেশি আশ� করিস না!"
কিন্তু বই খোলা� পর� বুঝলাম, আম� আসলে একদম ভু� জায়গায় সতর্কত� নিয়েছিলাম� লেখক কোনো ওয়ার্�-আপ টাইম না দিয়েই আমার বিশ্বা�, যুক্তি আর ব্রেনে� সিগন্যাল প্রসেসিং এক ধাক্কায় ক্র্যা� করিয়ে দিলেন।
চারট� মেডিকে� কে�, চারট� এম� অদ্ভুত রো� (যদ� ওগুলোক� রো� বল� চল�!), আর প্রত্যেকটা গল্পের শেষে আমার একটা� প্রতিক্রিয়া�"ওম�, এমনও হয�!" লেখক যে� বইয়ের পাতা ফুঁড়ে বে� হয়ে এস� আমাক� বলছে�, "আপ�, এম� রো� হয� কখনো ভাবসেন?" আম� তখ� ফ্রি� হয়ে তাকিয়� আছ�, "ভা�, সত্যিই এম� রো� হয�?"
আমার মত� যদ� ভাবে�, "দেখি কেমন হয�!"—তাহলে সাবধান, একবা� শুরু করলে শে� না কর� পর্যন্� উঠতে পারবেন না� এক্সপেক্টেশন লো রাখু�, কিন্তু সারপ্রাইজে� জন্য প্রস্তুত থাকু�!
লেখকের গল্প বলার ধর� টা চমৎকার� পড়া� সময় কো� বিরক্ত� আস� না� পিচ্ছি� আর পাথর গল্প টা পড়ে তৃপ্তি পাইনি। গল্প খারা� না কিন্তু শে� হয়ে� হয়ল� না শে� এর মত� আর� বেশি জানা� আগ্র� ভেতর� চেপে বস� থাকলো। তব� পড়ে ভালো লেগেছে�
প্রোডাকশ� একদম পছন্� হয়নি। ৭৯ পৃষ্ঠা� বই রেগুলা� সাইজ না কর� ক্রাউন সাইজ কর� যেতো , এত� বইয়ের সৌন্দর্য্য বাড়তো� প্রচ্ছ� অসচরাচ� - � এর ধারে কাছে� যেতে পারেনি�
অসচরাচ� � অসচরাচ� � এর মতোই মেডিকে� টার্� নিয়� লেখা কিছু গল্পের সমষ্টি� ১ম পর্ব� � টা গল্প থাকলেও এবার� আছ� � টা গল্প� গল্প কম হলেও প্রতিট� গল্প� সেরা� কোনোটাকে� খারা� লেগেছে বলার চান্� নেই। বইনগরে� মিস্ট্রিবক্স থেকে পাওয়া সেরা বই হচ্ছ� এই অসচরাচ� ২।
🔷 �. পিচ্ছি� (�/�) সৈয়দপুর জে� থেকে হঠাৎ অপরাধী পালিয়� যেতে থাকে� কিন্তু কিভাবে পালিয়� যায় তা� কোনো সুরাহা কর� যায় না� কয়েদিদে� ঘর থেকে একটা অদ্ভুত মেডিসিনে� কৌটা পাওয়া যায়� কিন্তু কিসে� সেটা কে� জানে না� এদিক� জেলা� শফিকের উপ� দায় আস� আসাম� পালিয়� যেতে সাহায্� করার জন্য� নিজেকে নিরপরা� প্রমাণ করার জন্য শফিক নিজে� সে� মেডিসি� সেবন কর� শুরু করেন� লেখক এখান� জানানন� শফিক আসলে মেডিসি� গুলো কোথায় পেল। কারন সেটা বে� কর� গেলে� সব রহস্যে� জট খুলতো।
🔷 �. নির্বা� আশ্র� (�/�) এই গল্পটা অসাধারণ। এখানেই প্রথ� আমরা এম� এক রো� সম্পর্কে জানত� পারি যেখানে মানুষে� শরীরে খু� অদ্ভুত কিছু ঘটনা ঘটে। একবা� সোশা� মিডিয়ায� একটা নিউজ দেখেছিলা� যে একজনের শরীরে� মাংস গাছে পরিণ� হয়। বিরল রোগ। এখানেও অনেকটা তেমন�, তব� গাছে পরিণ� হয� না, অন্য কিছু হয� সেটা পাঠক পড়লেই বুঝত� পারবেন� রোগক� কিভাবে শিল্পে পরিণ� কর� যায় সেটা দেখানো� জন্য� আছ� বিশে� এক চরিত্র� এটাও তা� একধরনে� মানসিক রোগ।
🔷 �. মেরিনা (�/�) এই গল্পেও একটা বিরল রো� নিয়� ঘটনা বল� হয়েছে� কুরু নামে� এই রো� মূলত পাপুয়ানিউগিনি� একটা গোষ্ঠীতে প্রথ� দেখা গিয়েছিল� যারা কোরিয়ান জম্ব� ড্রামা কিংড� দেখেছে� তারা গল্পের সাথে ড্রামা� ��ুব ছো� কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ একটা পার্টে� মি� পাবেন। মেরিনা� বাবা, চাচা, দুঃসম্পর্কের আত্মীয়, অনাত্মীয় অনেকেই এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়� কিভাবে হয� এট� সেটা� টুইস্ট� প্রতিশোধ পরায়ণ হয়ে মানু� কতদূ� যেতে পারে আর তা� ফলাফ� কত সুদূ� প্রসারী হত� পারে সেটা� দেখা যাবে এই গল্পে।
🔷 �. পাথর (�/�) কক্সবাজারে� নুনিয়াছড়� জেলে বস্তিত� বসবাসকারী এক মহিল� পিত্তথলি� পাথর অপারেশ� করার জন্য হাসপাতাল� আসেন� অপারেশনে� পর� এন্টিবায়োটি� কেনা� টাকা না থাকায় হাসপাতাল থেকে পালিয়েও যান। পর� অনেক খুজে� তাদে� পাওয়া যায় নি� মহিলার পিত্তথলি� পাথর নিয়েই এই গল্পের রহস্য।
আম� এবার� একটা জিনি� খেয়াল করেছ�, জানিনা অন্যরা� করেছেন কি না, অসচরাচ� � এর বেশিরভাগ গল্পেই লেখক বা চিকিৎস� জানে� না এই সমস্যাটা কে� হলো। এট� আদ� কোনো রো� কি না বা কিছু� অথবা হয়ত� জানতেন কিন্তু এর কোনো ব্যাখ্যা দেননি। কিন্তু অসচরাচ� � � প্রথ� গল্পটা ছাড়� বাকি তিনট� গল্পের� একটা বৈজ্ঞানি� ব্যাখ্যা চিকিৎস� দেখিয়েছেন� শে� গল্প� মহিলাক� না পাওয়ায় এটাও তা� মন� হয়েছে হয়ত� কোনো খাদ্যাভ্যা� বা লাইফস্টাইলের জন্য এরকম অসচরাচ� ব্যাপা� ঘটতে পারে�
লেখকের লেখা� ধর� খুবই চমৎকার� এছাড়া প্রোডাকশ� কোয়ালিট�, প্রচ্ছ� সব� খু� সুন্দর হয়েছে� একবসায� শে� কর� ফেলা� মত বই� কিন্তু রে� থাকব� অনেক সময় পর্যন্ত।
প্রথমে� বল� দরকা�, অসচরাচ� প্রথ� পর্বের এক বড� ক্লিফহ্যাঙ্গার রেখে গিয়েছিল, যা ভেবেছিলা� এই সিকুয়েল� ভাঙা হবে। কিন্তু সে� আশ� পুরোপুরি পূরণ হয়নি। প্রথ� পর্ব যে স্ট্যান্ডার্� তৈরি করেছিল, এই পর্ব সে� উচ্চতায় পুরোপুরি পৌঁছাত� পারেনি—তবে ৬০-৬৫% পর্যন্� যেতে পেরেছে বল� যায়�
লেখক তা� স্বাভাবি� ফ্লো বজায� রেখেছে�, গল্পগুলো আগের মতোই আত্মজীবনীমূলক মন� হয়েছে, যা আমার মত� সিরিজটির মূ� আকর্ষণ� ডাক্তা� আসিফ আবার� প্রধান চরিত্র হিসেবে ফিরে এসেছেন, এব� তা� অভিজ্ঞতা� মাধ্যম� গল্পগুলো উপস্থাপি� হয়েছে� তব� আগের পর্বের মত� প্রতিট� গল্প সমানভাবে প্রভাব ফেলেনি�
পিচ্ছি� (�/�) গল্পটি পড়ত� গিয়� হলিউডে� The Fly মুভি� পরিণতি� সাথে কিছুটা মি� পেয়েছি। যেহেতু মি� পেয়েছ�, স্বাভাবিকভাবেই তুলন� চল� এসেছ�, আর সে� তুলনায� গল্পটি তেমন প্রভাব ফেলেনি� মূ� উদ্দেশ্য আমাক� খু� একটা কনভিন্� করতে পারেনি� পরিচিত প্লট হলেও একেবার� খারা� বল� যাবে না, পা� মার্� পেয়েছ� কোনোরকম।
নির্বা� আশ্র� (�/�) নিঃসন্দেহে অসাধার�! আগের পর্বের আন্ন� গল্পের চেয়েও এট� আমার কাছে শীর্ষে থাকবে। একটি নির্দিষ্� রোগক� কেন্দ্� কর� এত চমৎকার সাইকোলজিক্যা� থ্রিলা� এব� হর� তৈরি কর� সম্ভ�, তা এই গল্প� দেখানো হয়েছে� গল্পের আব�, লোকেশন এব� চরিত্রের কার্যক্র� এতটা� নিখুঁতভাবে ফুটিয়� তোলা হয়েছে যে, পুরো গল্পটি এক ধরনে� সিনেমাটি� অনুভূত� দেয়� কিছু গল্প লম্ব� হওয়� ডিজার্� কর�, নির্বা� আশ্র� সে� ক্যাটাগরির গল্প�
পাথর (�.�/�) এই গল্পটি সিরিজে� অন্যান্য গল্পের তুলনায� খুবই দুর্বল লেগেছে� অসচরাচ� যে মানদণ্� তৈরি করেছিল, সে� মানদণ্ডে পৌঁছাত� পারেনি এটি। সত্য� বলতে, গল্পটি না থাকলেও সিরিজে� ওপ� কোনো প্রভাব পড়ত না� বর� বইটি আর� শক্তিশালী হত� পারত�
সামগ্রিক অভিজ্ঞতা:
বইটি প্রথ� পর্বের মত� তেমন ইম্প্যাক্ট ফেলত� পারেনি� হত� পারে, আম� একটানা দুটো বই পড়েছি বল� তুলন� করতে সহ� হয়েছে� যারা প্রথ� বইয়ের পর অনেকদি� বিরত� দিয়� এট� পড়বেন, তাদে� অভিজ্ঞতা হয়ত� আমার চেয়� ভালো হত� পারে� কিন্তু আমার জন্য এট� অতটা জমলো না�
This entire review has been hidden because of spoilers.
খু� সম্ভবত 'অসচরাচ�' বইতে পরেছিলাম 'ডাক্তারদের কাছে সব সুস্� মানুষই এক রকম। তাদে� কাছে রোগী মানে� বৈচিত্র। আবার স্বাভাবি� মানুষে� কাছে অস্বাভাবিকরা� রোগী� স্বাভাবি� মানুষে� হরেক রক� ধর� হয�......�' আমার কাছে 'অসচরাচ�' সিরিজটাক� ঠি� এম� অস্বাভাবিক বলেই মন� হয়। সাধারণ� মেডিকে� সাইন্সকে জুড়� রাখা হয� থ্রিলারে� সাথে� হরেকরক� খু�, তদন্তে� সাথে� সাহিত্যে ঠাঁই পায় মেডিকে� সাইন্স� কিন্তু এই জ্ঞানকেও যে অন্যভাবে লিখা যায় সেটা মাশুদু� হক দেখিয়েছেন� নামে� মতোই বইয়ের গল্পগুলো 'অসচরাচ�'� আমার কাছে প্রথ� বইয়ের গল্পগুলো� তুলনায� দ্বিতীয় বইয়ের গল্পগুলো বেশি ভালো লেগেছে� কারণ হিসেবে বলবো, প্রথ� বইয়ের গল্পের অবাস্তবতা। যদিও দাবি কর� হয়েছে গল্পগুলো বাস্তব ঘটনা� আলোক� লিখা, তা� কিছু কিছু জায়গায় মন� হয়েছে এস� গল্প বইয়ের পাতাতে� মানায়� বাস্তব� এস� হবার কোনো সমূহ সম্ভাবনা নেই। সে� তুলনায� 'অসচরাচ� �' কিছুটা যুক্তি� পায়� দাঁড়াতে পারে� বইটায় সর্ব সাকুল্যে চারখান� গল্প� কলেব� বিবেচনায� ছোটগল্� বল� গেলে� আকার�-গঠনে পূর্ণাঙ্� গল্প� রিভেঞ্�, মেডিকে� সাইন্স, অপরা� সব মিলিয়� দারু� একটা বই� বইয়ের পাতায় যেসব প্রিওন ডিজি�, কুরু, উইলস� ডিজি�, রিগর মর্টিস, ফাইব্রোডিসপ্লেসিয়� ইত্যাদ� খটমট শব্দ যখ� গল্পের পাতায় উঠ� আসতে দেখেছি, বে� অবাক হয়েছি� লেখক আবার এস� খটোমটো শব্দের ব্যাখা� জুড়� দিয়েছেন গল্পে। এত� কর� যাদে� মেডিক্যা� কিংব� বায়োলজি সম্পর্কে জ্ঞা� কম তাদেরও বুঝত� সুবিধা হবে। এই ব্যাপারট� আমার দারু� লেগেছে� গল্পের বই পর� যদ� মগজে� আরাম� না হয�, তাহল� আর তা গল্প কীসে�? সে� বিবেচনায� 'অসচরাচ� �' উত্তীর্ণ। কিছুটা গল্প, কিছুটা বাস্তব, কিছুটা রহস্�-রোমাঞ্� মিলিয়� উপভোগ্� একখানা বই�