সিমকার্ডের সাথে একটি হত্যার কী সম্পর্�? গ্রামে হঠাৎ মারা যাচ্ছে শিশু � বৃদ্ধর�, এক নারী সবাইকে চিনত� পারলেও তাকে চেনা যাচ্ছে না, এক কামরার ঘর আটকে রেখেছে চারট� মানুষক�, জন্মদিনে� উৎসব� ছো� হয়ে যাচ্ছে একজন,বাড়� থেকে বে� হয়ে কে� সাতবার বন্ধ করছে দরজা, এদিক� এক ম্যাজিশিয়ান আঁকছ� কবিত�- তব� কি অদৃশ্য মহামারীতে আক্রান্ত জগ� অকস্মা� বদলে দিচ্ছে সব কিছু?
পাঠক কি পারব� 'মাহরী� ফেরদৌস' এর এই বিচিত্� গল্পজগতে� অং� হয়ে উঠতে?
Mahrin Ferdous is a novelist, short story writer, feature writer, and translator who writes for adults and children. Her works have drawn heavily on surrealism and magic realism and deal with contemporary social crises. She weaves her stories in vivid language with literary flair. Since 2010, she has authored eleven books.
In 2019, Banglalink Telecom honored her as one of Bangladesh's five most promising young writers. In 2022, she received the esteemed BRAC Bank-Samakal Literary Award for her contributions to Bangla literature. Mahrin is Vice-President of the Pencil Foundation, a non-profit organization. She lives and works in New York.
মাহরী� ফেরদৌসের ভাষা গীতিময়।কথনে� ভেতর একধরনে� অন্তর্নিহি� ছন্দ আর সু� আছে।এই ছন্দ আর সু� বে� একটা আবেশ সৃষ্টি করে। গল্পগুলো পড়ত� পড়ত� আমরা জানত� পারি (বা স্মৃতি থেকে পুনরুদ্ধার করতে পারি) পৃথিবী� সব গল্প� আসলে ভুলে থাকা� গল্প।সহস� আমাদের মন� পড়ে বৃষ্টিতে একাই ভিজত� হয়।সবকিছু ছেড়� দূরে� কারও জন্য তা� সাথে� আমরা জলের মত� ঘুরত� থাকি।পৃথিবী� শে� গা� শুনত� তৃষি� চিত্তে অপেক্ষ� করি।মধ্যরাতে খোলা উঠান� উত্তরে� বাতাসে অচেন� এক তৃষ্ণা� ঘ্রা� তীব্� হয়ে ওঠ� কখনো কখনো� কিছু গল্প স্থা�, কা�, পাত্রভেদ� যে কোনো সময়ের হত� পারে।এ চিরন্তনত� পাঠকের মন� বিস্ময� � বিষাদে� রে� রেখে যায়।কিছ� গল্প বারবার পড়া� মতো।যেমন: ভুলে থাকা� গল্প,প্যারাকজ�, চেকলিস্ট, মথ।কিছ� গল্প সাবেকি ধরনে� ;পুরোনো মহীরু� গল্পকারেরা সেসব লিখে গেছেন।এই গল্পগুলো� প্রত� লেখিকা নির্দয� হত� পারতেন� যা হো�,আপাত� নতুন একজন লেখিকা (যা� অন্য বইগুলো� খুঁজ� খুঁজ� পড়ত� হব�) আবিষ্কারের আনন্দটুক� উপভো� করি।
একজন সাধারণ মানুষে� দৃষ্টি যেখানে শে� হয�, ঠি� সেখা� থেকে একজন ফটোগ্রাফারের দৃষ্টি� শুরু হয়। আলোকচিত্রে� মাধ্যম� মুহূর্তক� ফ্রেমবন্দী করার এই প্রবণত� থেকে� অনেক সাধারণ, অত� তুচ্� দৃশ্যও ধর� পড়ত� পারে অন্যরক� আলোয়। একজন লেখক� ঠি� সে� কাজটাই করেন� পারস্পারিক যোগসূত্রহী�,আপাত বিশৃঙ্খল সাধারণ সব দৃশ্�- অভিজ্ঞতাকে অর্থ দিয়� বিশে� কর� তোলে� অক্ষরে� বুননের উপ� নিজস্ব ভাবনার রঙ চড়িয়ে। নতুন খেলন� হাতে পেয়� শিশু� মুখে� হাসি অথবা আনন্দে� আড়ালে দীর্ঘলয়� বাজত� থাকা জীবন নামক খলনায়কে� বিকট হাসি এই দুইয়ে� মাঝে জীবনের কতশত মজ�, বিষণ্ণতা,একাকীত্� সব� বিশে� হয়ে উঠতে পারে যদ� সেসব কিছু� মোড় নেয় এক অকল্পনীয় অপ্রত্যাশি� গতিপথে� চারপাশের যে জীবন আমরা দেখি,যে জীবন যাপন কর�, সেসবের মধ্য থেকে� কখনও জেগে ওঠ� ভাঁজ কর� কাগজের নৌকা� মত� কিছু একটা� নানা দি� থেকে তাকে উপস্থাপন করাই লেখকের কাজ। বাতি�,অত�-সাধারণ সামান্� সব কথ�,দৃশ্�,ফেলে আস� দিনগুল� যারা রো� টোকা দেয় মনের দরজায় তাদে� নতুন পোশা� পরিয়ে দিতে পারে� তিনি।� মুদ্রা� উল্টোপিঠ� বিশে�,অপ্রচল ঘটনা� বিন্যা�-সমাবেশ� গল্প হয়ে উঠতে পারে, তব� সে� গল্পের প্রত� কেন্দ্রীভূ� মনোযোগ স্থি� কক্ষপথ� বে� সহজে� ঘুরত� পারে, মনোযোগ ধর� রাখা� জন্য বিশে� আয়োজনের প্রয়োজন হয� না�
মাহরী� ফেরদৌসের "অরিগামির গোলকধাঁধায�" বইয়ের গল্পগুলোতে� এই সাধারণের বিশে� হয়ে ওঠার পাশাপাশি অপ্রচল নতুনত্বে� দেখা� মেলে� তা� গল্প� এক নাগরিক সন্ধ্যায� আন্ডার কনস্ট্রাকশ� বিল্ডিংয়ে� আল�-আঁধারিতে জীবনের নির্মমতায় চুরমার হওয়� জেরিনক� আমরা আত্মাহুতির বদলে মথের অতিকায� পিচ্ছি� শরীরে বদলে যেতে দেখি� সেই� রে� কাটত� না কাটতেই পরের গল্প�, আহ� চাঁদের কিংব� বিষণ্ণ রাতে� মত� এক� এক� বৃষ্টিতে ভিজিয়� দে� তিনি� ধীরে ধীরে নিয়� যা� এম� এক ঘুণে ধর� মস্তিষ্কের প্যারাকজমে� জগতে যেখানে কর্পোরেট কালচার আর সিজিআইতে ভরপু� কৃত্রি� জগ� থেকে পালবার জন্য এক তরুণী বান্ধবী� ফ্ল্যাটে� উল্টোপাশের ফ্ল্যাটটার না� না জানা ছেলেটা� মাঝে খুঁজ� নে� এস্কেপ� আমরা জানত� পারব� সে� রূপকথা� গল্প যেখানে অদৃশ্য মহামারীতে হঠাৎ এক গ্রামে� শিশু বৃদ্ধর� মারা যেতে থাকে� চন্দ� গা� কেঁদ� ওঠ� নিষ্পা� শিশু� মতো। মহামারী থেকে প্রা� বাঁচাত� গ্রা� ছেড়� যাওয়া এক নূহে� নৌকা� সাথে দেখা হয়ে যায় পূর্ণচন্দ্রের। ঠি� মধ্যরাতে সে� চাঁদের গায়� মস্তবড� একটা বাঁক� নৌকা� ছায়� পড়ে� রাবিতা,রেবেকা কিংব� রক্তিমের জীবন� যখ� মধ্যরা� শে� হত� যখ� কিছু সময় বাকি, সে� সময় উত্তরে� বাতাসে তৃষ্ণা� ঘ্রাণক� ফেলে উঠোন পেরিয়� আমরা পারফিউ� ইন্ডাস্ট্রির এক কর্ত্রী� সাজানো শরীরে অঞ্জ� দত্তের মালাকে খুঁজ� পা�, তা� মনের ভিতর� উঁকিঝুঁক� দিয়� স্মৃতি হাতড়ে খুঁজতে চেষ্টা কর�, সে তা� ক্লাসমেট রুবিকে আসলে� কি চেনে? "আপনারা কি কখনো একাকীত্ব� অনুভ� করেছেন? সত্যিকারের একাকীত্ব। কোনো কবির বানোয়াট কবিতার মত� নয়। কিংব� কখনো উপেক্ষার কিংব� অপেক্ষার ঘ্রা� নিতে পেরেছে�?"
এক কামরার ঘর� এইসব প্রশ্নবাণে বিদ্� কর� আমাদের মন� ধোঁয়াশা আর বাস্তবতা� সংঘর্ষ তৈরি করেন তিনি� এবার আমরা নিজেদে� জীবনের দগদগ� অথ� টুকর� স্মৃতি� গল্প ভুলে থাকা� চক্র� ঢুকে পড়ি� বিস্কুটে� গুঁড়ো� মত� এক বিকেলে কখ� যে অবসেসি� কম্পালসি� ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত এক ব্যক্তির চেকলিস্ট চে� করতে থাকি সেটা টেরও পা� না� ক্রম� রাতে নামে,হাজা� বছরে� পুরোনো সে� রাত। এক ম্যাজিশিয়ানের কবিত� আঁকা� গল্প শুনত� শুনত� মনিদ্র অন্ধকারে� রাতে আমরা পথ চলতে থাকি� সান্তা মনিক� স্টেশন পেরিয়� সেই� ত্রুটিপূর্� অঙ্গের বোনক� দেখত� পা� সে অসম্ভব গম্ভী� � শীতল স্বর� নিজে� ছো� ভাইকে� চিনিয়� দিয়� ভু� ভাঙে আমাদের মতোই কতিপয় ভ্রান্� পথচারীদের। জোসেফে� দেয়� অরেঞ্জ পা�,কুকি কাস্টার্� কিংব� পপ� সি� দেয়� পেস্ট্রি� ঘ্রা� শুঁকতে শুঁকতে এক ভীষণ বৃষ্টি দিনে হাজি� হই নর্থ স্ট্রিটে� যেখানে মিস্টা� ইয়েলো বৃষ্টি� পানিতে নিজে� করতল বাড়িয়ে বিড়বিড় কর� বলবে, 'একদি� এই পৃথিবীতে কোনো গা� থাকব� না�' বুকে� ভেতর� পা� খেতে খেতে বিলী� হয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড়ক� সাথে নিয়� পৃথিবী� শে� গা� শুনত� যখ� আমরা কা� পাতব�,তখনই শে� হব� আঁধা�,বিভ্রম, রূপান্তর,বাস্তবতা আর পরাবাস্তবতার এইসব বিচিত্� কাহিনী� আল�-ছায়ার খেলা।�
যে কোনো গল্পের গল্প হয়ে উঠতে ক্রাইসিস লাগে� এই সংকলনে� গল্পগুলো� বেশিরভাগেই সেটা উপস্থিত। গল্পগুলো� মধ্য সবথেকে কম� হল� ফ্যামিলিয়াল ক্রাইসিস,ব্যক্তির মানসিক টানাপোড়েন,সম্পর্কে� নানা মোড়,মনস্তাত্ত্বি� জটিলতা,একাকীত্�, বিষণ্ণতা কিংব� সমকালী� সংকট� সে� সূত্রে অনন্� হয়ে উঠেছ� মথ, প্যারাকজ�, বৃষ্টিতে একাই ভিজত� হয�,চেকলিস্ট, ভুলে� থাকা� গল্প� এক কামরার ঘর আর সান্তা মনিক� স্টেশন পেরিয়� গল্প দুটো মন� থাকব� তাদে� ধোঁয়াশাপূর্� সমাপ্ত� আর বিপরীতমুখী ভাবনার উদ্রেক ঘটানোর জন্য� তব� ব্যক্তিগতভাব� সবথেকে বেশি বোধহয় মন� থাকব�, মনিদ্র অন্ধকারে গল্পটা� কথা। এই গল্পটায় একজন ম্যাজিশিয়ান এঁকে চলেছেন কবিতা। বিশেষত এইসব গল্প� সংকলনটাক� সুখপাঠ্য কর� তুলেছে, বারবার এন� দিয়েছ� নস্টালজি� হ্যাংওভার।
চক্র,মধ্যরা� হত� কিছুটা সময় বাকি সংকলনে� এই গল্প দুটো মন� হয়েছে যে খুবই রিপিটেটি� সাবজেক্টের উপ� ভিত্তি কর� লেখা� এই ধরনে� গল্প আগেও লেখা হয়েছে অন্য কোনো রূপে,অন্য কোনো নামে� "বিস্কুটে� গুঁড়ো� মত� বিকেলে" কতটা গল্প হয়ে উঠেছ� সেটা আম� ধরতে পারছ� না� গল্পের থেকে বর� এক বৈকালি� ভ্রমণে� ঘটনাপ্রবাহের দৃশ্যায়� বেশি মন� হয়েছে� এই গল্প কট� না থাকলেও সংকলনে� খু� একটা ক্ষত� হত� না�
গল্পগুলো বেশিরভাগ� নারীচরিত্র প্রধান আর ক্যারেকটারগুলো� নিজস্ব ভাবনার বারান্দায় পায়চারী করতে করতে শোনা মনোলগে� মাধ্যমেই গল্প এগোত� দেখা যায়� চরিত্রগুলো� অনুভূতির আকুত�,বিপন্নতা, অসহায়ত্� আর টানাপোড়েন খু� নিপুণভাব� তুলে ধরতে পেরেছে� লেখিকা�
শে� পর্যন্� গল্পগুলো পড়ত� গিয়� অরিগামির গোলকধাঁধায� নিজেকে হারিয়� পাঠকের মন� হতেই পারে, "নৌকা কি কাগজ� বন্দ�? না কাগজ� আট�, নৌকাতে? ভাসিয়� দেবা� পর আজ আর কী আস� যায় তাতে� "
প্রতিট� মানুষে� দেখা� চো� আলাদা। এম� ভিন্� ভিন্� অনেক চো� দিয়� পৃথিবী দেখত� আমার ভালো লাগে, এই ভালো লাগা আর� বেড়� যায় যখ� সন্ধান পা� একটি ভিন্� দৃষ্টিভঙ্গির, তখ� � চোখে� সাথে আম� একাত্ম হই, শুরু কর� নিরুদ্দে� যাত্রা� মাহরী� ফেরদৌস'এর 'অরিগামির গোলকধাঁধ�' পড়ত� পড়ত� পেয়েছ� এমনই এক সফরে� স্বাদ। স্রে� শব্দ দিয়� মাহরী� তৈরি করেছেন এম� এক গোলকধাঁধ�, যা থেকে বে� হওয়ার সহ� কো� পথ নেই।
পিচ্ছি� কো� শরী� নিয়� তা� জেরি� যখ� এগিয়ে আসতে থাকে কাছে, তখ� ফোরশ্যাড� হয়ে আস� উল� পাঠক আমাক� দেয় সাহস, আবিষ্কার কর� 'মথ' হয়ে বেঁচ� থাকা� রহস্য। এই রহস্যক� আর� ঘনীভূ� করতে কালো হয়ে আস� আকাশ� টিপটিপ বৃষ্টি পড়ে, আম� গোলকধাঁধায� ঘুরত� ঘুরত� হারিয়� ফেলি ছাতা, যোগাযো� বন্ধ করার জন্য ভেঙে ফেলি সিম। আমজা� মিয়� নামে� কো� এক ব্যক্ত� আমাক� অনুসরন করতে করতে হারিয়� ফেলে পথ আর কখনও ফিরে� আস� না, তাঁক� আমার বলতে ইচ্ছ� হয�, 'বৃষ্টিতে একাই ভিজত� হয�'� বৃষ্টিতে ভিজত� ভিজত� কখ� সন্ধ্য� হয়ে আস� টে� পাইনা। কিছু নীড় হারা পাখিকে তখ� দেখি দিকভ্রান্তের মত� উড়ে চলেছ� মাথা� উপ�, কে জানে ওঁদে� এই অস্থিরতা� হয়ত� জন্ম দেয় 'চাঁদের গায়� ছায়�'� এই অদ্ভুত ছায়� দেখত� দেখত� মনের মধ্য� তৈরি হয� এক নানন্দিক এক্সপেক্টেশন� � যে শুরুতে বলেছিলাম, ভিন্� দৃষ্টিভঙ্গী� কথ�, এই গল্প যে� তারই প্রতিফলন� মস্ত বড� নৌকা� ছায়� যখ� চাঁদের গায়� পড়ে, তখ� আমিও ভুলে যা� নিজে� অস্তিত্ব� তা� নিজেকে খুঁজতে থাকি, খুঁজতে� থাকি� নিজেকে খুঁজতে খুঁজতে দেখা পা� আধ� আধ� দুঃখের, আমাদের মধ্যবিত্� যাপন, ফানু� হয়ে উড়ে যাওয়া স্বপ্ন� নিজেকে যখ� খুঁজ� পা� তখ� দেখি 'মধ্যরা� শে� হত� কিছু সময় বাকি'� ভোরে� অপেক্ষ� করি। সারারা� জেগে থাকা দাঁড়কাক� হয়ত� আমার মতোই আছ� অপেক্ষারত। এই ভাবত� ভাবত� মন� পড়ে এক কসমোপলিট� বাস্তবতা� কথ�, যেখানে রুবিকে কে� চিনত� পারে না� ধর� আর অধরা� মত� কোয়ান্টাম থিয়োর� মেনে তখ� ফিরে যেতে চা� আমার পরিচিত 'এক কামরার ঘর�', যে ঘর� তৈরি হয� ঘোর। যে ঘর মেনে চল� গোলকধাঁধার সক� সূত্র। এই সূত্রে আছ� একটি 'চক্র'� ম্যাজি� রিয়েলিজ� নির্ধারণ কর� এই চক্রের ভাগ্�... আবার ফিরে আস� � দৃষ্টিভঙ্গ�, আলাদ� এক চোখ। শূন্যে� উপ� দাঁড়ানো এই চক্র আম� ভাঙত� পারি না, আর এই ব্যর্থতা� হয়ত� সন্ধান দেয় অ্যাবসলিউট বিউটির� বিউট�'� সংজ্ঞা আম� দিতে পারি না� চারপাশ� দেখি ফুটে আছ� কত� ফুল। হয়ত� গোলকধাঁধার মধ্য� কো� বাগা� আছে। আম� এখনও ম্যাপট� পারিনি আঁকতে। তা� 'চেকলিস্ট' খুলে বস� আর ফিরে আস� পুরন� ওসিডি। মনস্তাত্ত্বি� সংঘা� নাকি মনস্তাত্ত্বি� মুক্তি কে জানে, এক অমীমাংসিত ধাঁধাক� পিছন� ফেলে আম� চল� যা� ভুলে থাকা কো� গল্পের কাছে� এই গল্পটা তেমন, যেমন গল্প� আম� স্বস্ত� পা�, দেখা পা� বিপন্ন বিস্ময়ের। কারণ, আম� জানি আমাদের সবার গল্প� আসলে ভুলে থাকা� গল্প� তব� কী সব ভুলে থাকা যায়? 'মনিন্দ্র অন্ধকারে' ছা� হয়ে যায় সলতে� অ্যামাজন থেকে অন্ধকা� এস� মিশে যায় এই গোলকধাঁধায়। পরাবাস্তববাদ কিংব� পেসোয়ার বু� অব ডিসকোয়ায়েট� কেটে যেতে থাকে রা� আর অ্যান্টি ক্লক-ওয়াইজ আম� ছুটত� থাকি গোলকধাঁধার অচেন� পথ ধরে। ক্ষুধাবো� হয� তখ�, যেমন মানুষে� হয়। বাতাসে তখ� উড়ে যেতে দেখি বিস্কুটে� গুঁড়ো, তৈরি হয� এক অদ্ভুত পোয়েটিক বিউটি। এই বিউট� আমাক� টেনে নিয়� যায় এক অপূর্ব সুরে� কাছে, দূরে দাঁড়িয়� আম� শুনত� পা� 'পৃথিবী� শে� গা�'� তবুও কী পারি এই গোলকধাঁধার রহস্� ভাঙত�, হয়ত� পারি কিংব� পারি না� এমনও হত� পারে আম� হয়ত� এই রহস্� কখনও ভাঙতেই চা� না, কেনোনা এই গোলকধাঁধায� জীবন আছ�, আছ� জীবনের চেয়েও বেশি কিছু...
মাহরীনে� গল্পের ভাষা, বাক্যে স্বকীয়তা কিংব� সংলাপে স্বতঃস্ফূর্ততা শুধু নয�, প্রশংস� কর� যায় তাঁর প্লট সিলেকশ� নিয়েও, তব� এস� দিকে না গিয়� আম� তাঁর জগতে� বৈচিত্র্� নিয়েই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে চাই। আমাদের বর্তমা� সময়ের গল্পের পরিচিত পথকে উপেক্ষ� কর� মাহরী� যে গোলকধাঁধ� তৈরি করেছেন, সেজন্য পাঠক আমার পক্ষ থেকে তাঁর জন্য রইলো বিশে� ধন্যবাদ। ...
মাহরী� ফেরদৌসকে টুকটাক পড়ি অনলাইনের এদিক-সেদি�, নানা ওয়েবজিন কিংব� পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে� তা� গল্পগ্রন্থ ‘অরিগামি� গোলকধাঁধায়� তা� হাতে নে� আগ্র� ভর�, দেখত� চা� মলাটবদ্ধ একটা কাঠামোতে তা� অক্ষরগুল� কীভাবে স্পর্শ কর� পাঠককে� আর অনুভ� কর�, সংকলনটাক� শে� কর� তা নিয়� মন� প্রথ� যে শব্দটা আস�, সেটা হল� ‘বৈচিত্র্য’।
বৈচিত্র্� কথাট� এজন্যে� মাথায় আস�, কারণ ছোট্টো এই সংকলনে� গল্পগুলো� স্বা� অবিমিশ্র নয়। একটু সময় নিলে� আবিষ্কার কর� যায়, তি� ধরনে� গল্প আছ� এই সংকলনে� একভাগে রয়েছে খাঁট� বাস্তবতা� গল্প, একটা ধারায় আছ� নিত্যদিনের বাস্তবের সাথে যাদু মেশানো পরাবাস্ত� কিছু গল্প; আর একটা ধারা- পাঠকের মন� হয�- রুপকথা ধাঁচের; যেখানে গল্প বল� হয়েছে ‘এ� দেশে ছিলো এক অমুক� ঘরানায়।
এম� তি�-স্রোতা গল্পের সম্মিলনে� ফল� যেটা হয়েছে, সংকলনটাক� টানা পড়ত� গেলে পাঠককে বেশি কষ্ট করতে হয� না� একটা গল্পকে আত্মস্� করবা� জন্য অল্প বিরত� নিয়েই পরের গল্প� চল� যাওয়া যায়� মধ্যবর্তী ওই বিরতিট� আবার দরকা�, কারণ মাহরী� প্রধান� গল্প বলেন মনোলোগ বুনে বুনে, সংলাপে� ব্যবহা� তা� অল্পই। এব� লক্ষ কর� যায়, তিনট� ধারায় গল্প বলতে গিয়� মাহরীনে� ভাষা� বদলে গেছে বারবার� কিন্তু বাইরের এস� আবরণকে উপেক্ষ� কর� যদ� অক্ষরগুলোর হৃদয়ে� দিকে তাকানো যায়, খেয়াল কর� যাবে, গল্প লেখা� মূ� উদ্দেশ্য মাহরী� বিস্মৃ� হয়ন�, সে কেবল গল্প� বলতে চেয়েছে।
প্রথমে� আস� রুপকথা ধাঁচের গল্গগুলো প্রসঙ্গে� এদের পড়ত� গিয়� মন� পড়েছে সম্প্রতি পড়া উমবার্তো একোর একটা আলোচনা� কথা। এক� বলেছিলেন, যখনই বড়দের কোনো গল্প শুরু হয� ওই ‘এ� দেশে ছিলো এক অমুক� ধাঁচ�, প্রাপ্তবয়স্� পাঠকের মন তখ� নিজেকে বসিয়ে দেয় কোনো শিশু� জায়গায়, যে� সে দাদী� গা ঘেঁষ� গল্প শুনছে। স্যাঁৎ-একজ্যুপেরি� ‘লিট� প্রিন্স� ঘরানার এই রচনাগুলো লেখা খু� কঠিন, কারণ বুড়� পাঠককে দীর্ঘক্ষ� খোকা� জায়গায় আটকানোটা সহ� ব্যাপা� নয়। মাহরীনে� এই ধাঁচের গল্পগুলো (‘চাঁদে� গায়� ছায়া�, ‘পৃথিবী� শে� গান�) পড়ত� গিয়�, পাঠক� অনুভ� কর� বারবার, তা� ভেতরের বুড়োট� বারবার বেরিয়� আসতে চাইছে।
কিন্তু গল্প যত বাস্তবতা� দিকে যায়, মাহ��ী� তত� হয়ে ওঠেন নিখুঁত� নিঃসন্দেহে তা� ‘মথ�, ‘এ� কামরার ঘর� বা ‘চক্র� এর মত� যাদু মেশানো গল্পগুলো বেশি ভালো লাগে রুপকথা� চাইতে। এই পরাবাস্ত� ধারা আর পুরোদস্তুর বাস্তব ধারা� যে গল্পগুলো সংকলনে আছ�, তাদে� সবগুলো� উপস্থাপন আনকোরা নতুন হয়ে ওঠেন�, কিন্তু যখনই মাহরী� নতুন দিনে� ভাষায় উপস্থাপন করেছ� তা� চরিত্রদে� সংকটগুলো, গল্পগুলো সত্য� হয়ে গেছে চমৎকার� সংকলনে� সেরা তিনট� গল্প� (‘রুব� তোমাকে চিনি�, ‘চেকলিস্ট�, ‘প্যারাকজম�) এই দাবি� পক্ষ� জোরগলায় সাক্ষ্� দেবে� বিশে� কর� ‘চেকলিস্ট� গল্পটা বহুদিন মন� রাখা� মতো।
অরিগামির গ���লকধাঁধায়� তা�, সব মিলিয়� সাক্ষর দেয়, লেখালেখি� যাত্রায় মাহরী� ফেরদৌসের একের পর এক নতুন স্টেশন পেরিয়� যাওয়াকে� আমরা তো জানি যে চলমা� ট্রে� একসময় ঠিকই লক্ষ্য� পৌঁছে।
আমাদের প্রত্যেকের� যে� নিজস্ব কিছু গল্প রয়েছে� কিন্তু, সবার গল্প� কি এক? নাহ। কারো গল্পের সু� কাচে� চুড়ির রিনিঝিনি� মত�, কারো গল্প� থাকে দুঃখ � বেদনার গিটারে� টুংটাং� কারো গল্প লেখা হয� সময়ের নিঃসঙ্� কালো স্রোতে, কারোটা আবার রাতে� আঁধারে� রহস্যে ঘেরা হয়। তব�, প্রতিট� গল্প� নিজে� থেকে আলাদ� এব� এর নিজস্ব তাৎপর্� রয়েছে� জীবনের এই গল্পগুলো� গুরুত্� আর� বেশি সংখ্যক মানুষক� প্রভাবিত কর� এম� এক বই হল� 'অরিগামির গোলকধাঁধায�'�
মাহরী� ফেরদৌসের 'অরিগামির গোলকধাঁধায�' বইটিতে আমাদের চারপাশের এম� ১৪টি গল্প আছ�, যা আপনাকে আসলে� গোলকধাঁধায� ফেলে দিবে� সে� গোলকধাঁধ� হল� আমাদের দৃষ্টি� গোলকধাঁধা। আমাদের চারপাশ� প্রতিনিয়ত� কত ঘটনা� না ঘট� যায়� সব কিছুকে আমরা জীবনের অং� বলেই চালিয়� দিই। কিন্তু কখনো কি ঘটনাগুলো নিজে� অন্তর্গত দৃষ্টি দিয়� স্পর্শ কর� দেখেছে�? গল্পগুলো এমনভাব� লেখা যেটা আপনা� রঙিন ভাবনাগুলোর আড়ালে� ঘটনা সামন� এন� সব সাদা-কালো কর� দিতে পারে�
আঁধা�, বিভ্রম, রূপান্তর, বাস্তবতা, পরাবাস্তবত�- কী নে� এখান�? কিছু কিছু গল্প খুবই ভালো লেগেছে, আবার কয়েকট� পড়ে মন� হয়েছে, "চম� কি একটু কম হয়ে গে�?"
"আম� বিশেষভাব� কিছু বলতে পারি না� এই ভালোলাগা, ঘোরলাগ� কিংব� 'আমাদের মাঝে যে� কী মি� আছ�' ধরনে� অনুভূতির পৃথক কোনো সংজ্ঞা আমার কাছে নেই।"
আটকে গিয়েছিলাম এই দু'টো লাইনে। পুরো বই জুড়েই এরকমের ঘোরলাগ� কিংব� মুগ্ধত� ছড়ানো ছিলো� লেখিকা ছন্দপতনহী� ভাবে গল্প বলেন, এক ধরনে� আবেশ সৃষ্টি হয� তাতে� ঠি� যেমন আমরা গল্প বানা� লুসি� ড্রিমস � সজাগ�!
বইয়ের বেশিরভাগ গল্প� হয়ে উঠেছ� নারী চরিত্রকে কেন্দ্� করে। সমকালী� প্রেক্ষাপটের সঙ্গ� তাদে� পেরে না ওঠার গল্প কিংব� সাহসের সঙ্গ� সুপ্� জয়ে� মিশেল। 'মথ', 'বৃষ্টিতে একাই ভিজত� হয�' 'মধ্যরা� হত� কিছু সময় বাকি' গল্পগুলো অনেকটা এম� ব্যাখ্যা� সবিস্ত� বর্ণনা দেয়�
'বিস্কুটে� গুড়ার মত বিকেলে' গল্পের পোয়েটিক স্টোরিটেলি� পড়ে আরাম পেয়েছি। অবসেসি� কম্পালসি� ডিসঅর্ডারে ভুগত� থাকা ব্যাক্তি� 'চেকলিস্ট' গল্প কে� কোনোদি� বলেনি। শে� পর্যন্� আমরা সম্ভবত কাউকেই মন� রাখিনা আমাদের সবার গল্পগুলো� আসলে 'ভুলে থাকা� গল্প'�
সমকালী� গল্প লিখত� গেলে অনেক কম� প্রেক্ষাপট চল� আসে। গল্পের জন্য গল্প� সংকট এর দরকা� হয়। পারিবারি�, সামাজি�, মনস্তাত্ত্বি� সংকট! সেগুলোকে গুরুগম্ভী�, অনেকটা ছন্দময� আর সহজবোধ্য করাটাও চারট� খানি কথ� না� একদম মনের মত একটা ছো� গল্পের সংকল� পড়লাম�
কথ�-সাহিত্যি� মাহরী� ফেরদৌস এর ১৪টি গল্প নিয়� “অরিগামি� গোলকধাঁধায়� বইটি ফেব্রুয়ার� ২০২২ � প্রকাশ পেয়েছে।
বইটি� গল্পগুলো� প্রেক্ষাপট কো� গৎবাঁধ� জীবনের প্রেক্ষাপট� রচিত না আবার জীবনের খু� অপিরিচিত অভিজ্ঞতা� বাইরেও নয়। তব� লেখিকা খু� সুনিপু� ভাবে প্রতিট� গল্পের ঘটনা এম� ভাবে বুনেছে� যে, কো� গল্পের ঘটনা পড়ে মন ভারী হয়ে যায়, কো� গল্পের ঘটনা� পথ মনের ভেতর হাহাকা� তৈরী কর� এক� সাথে কো� গল্প পড়ে শে� করার পর গল্পের চরিত্ররা এখ� কেমন আছ� সেটা জানা� জন্য মন ব্যাকু� হয়ে উঠে। প্রতিট� গল্পের� চরিত্র বা ঘটনা মনের মধ্য� কো� না কো� ভাবে প্রভাব ফেলব� পাঠকের মন�, সেটা একেক পাঠকের কাছে হয়ত� এক এক ভাবে� পড়বে। তব� পুরো বই পড়াকালী� সময়� গল্পগুলো� ঘটনা বা চরিত্র আমাক� একাধিকবা� নিজেকে প্রশ্ন করতে বাধ্� করেছ� যে, গল্প পড়ে আম� যা অনুভ� করছি লেখিকা কি সে� অনুভূত� রেখে� লিখেছে� নাকি আমাদের মত পাঠকদেরক� অনুভূতির কো� গোলকধাঁধায� রেখে দিলে�? হয়ত� এই গোলকধাঁধায� রেখে দেয়ার নিমিত্তে� গ্রন্থটি� এই যথার্থ নামকরণ�
সব গল্প গুলো� কো� না কো� ভাবে ভালো লেগেছে� তব� সব গুলো গল্পের মধ্য� আলাদ� ভাবে মন� দা� কেটেছে মথ, এক কামরার ঘর, বৃষ্টিতে একাই ভিজত� হয� এব� পৃথিবী� শে� গান।
মাহরীনে� অরিগামির গোলকধাঁধায� পড়ে শে� করলাম। আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতা অর্জিত হলো।
আহমা� মোস্তফ� কামা� সবসময় আমাদের একটা কথ� বলেন� কথাট� হচ্ছ� একজন লেখকের জার্নি দেখত� হয়। কীভাবে শুরু করলে�, কীভাবে এগোচ্ছেন এগুল� মাথায় রেখে একটা মতাম� দেওয়া যায়�
মাহরীনে� শে� উপন্যাসট� বা� দিলে তা� প্রায় সব আমার পড়া� সে� ব্লগ জগতে যখ� সে একুয়া রেজিয়� নামে বিখ্যা� সে� সময় থেকেই।
সুতরাং লেখক হিসেবে মাহরীনে� পরিবর্তন আম� কা� থেকে দেখেছি� একটা সময় মাহরী� যে গল্পগুলো বল� সেগুলো পড়ত� ভালো লাগত কিন্তু সব কেমন যে� উপরিতলের মন� হতো। ভাষা এদিক সেদি� লাইনচ্যু� হতো। এবার মাহরী� সংযত�
কেবল ভাষা� ব্যবহারে নয� গল্পেও� মানু� মথ হয়ে যাচ্ছে কিংব� একজন ম্যাজিশিয়ান কবিত� না লিখে কবিত� আঁকছ� এম� সব অভিন� চিন্তা� প্রতিফলত ঘটাল� গল্পে। অবসসেভিভ কমপালসিভ ডিজঅর্ডা� নিয়� লেখা চমৎকার একটি গল্প চেকলিস্ট� এই বইতে আমার সবচেয়� ভালো লাগা� গল্প� এই বইতে কেবল নয� মাহরীনে� পড়া আমার কাছে সেরা গল্প চেকলিস্ট�
তারপরও আক্ষেপ থেকে যায়� মাহরী� এত� দুর্দান্� অভিযোজনে� ভেতর দিয়� যাওয়া� পর কে� প্যারাকজ� কিংব� মধ্যরা� শে� হত� কিছু সময় বাকি বইতে রাখল, আম� হয়ত� তা� কাছে জানত� চাইব� প্যারাকজমে এক ধরনে� সাইকোসিস নিয়� ডি� করতে চেয়েছ�, করেছেও কিন্তু গল্পটা আমার কাছে অন্য গল্পের তুলনায� ম্লা� মন� হলো। মধ্যরা� শে� হত� কিছু সময় বাকি একেবারেই চেনা জীবনের গল্প� আপনা� পড়ত� ভালো লাগবে। কিন্তু এই গল্প আপনি বা আমরা রাহা� খা�/ শওকত আলী/ প্রমুখের লেখায় আগেই পড়ে ফেলেছি�
সবশে� বল� চাঁদের গায়� ছায়� নিয়ে। আউ� অফ দ্যা বক্স একটা গল্প, এম� একটা সময়ের যখ� মানুষে� না� ছি� না, ভাষা ছি� না� সে� সময়ের মহামারী� সাথে এখনকার সাদৃশ্� পেলে ভু� হব� না� লজিক্যাল কিছু গোলমাল থাকল���ও গল্পটা ভালো লাগার।
নারী চরিত্রের মনোল� খু� দৃশ্যমান মাহরীনে� গল্পে। এক কা� চা খেতে খেতে পড়ন্ত বিকেলে বইটি পড়ত� মন্দ লাগা� কথ� নয়। কথাপ্রকাশে� প্রোডাকশ� নান্দনিক�
বে� কিছু ইন্টারেস্টিং গল্প ছিল। যেমন, সান্টা মনিক� স্টেশন পেরিয়� গল্পটা� কথ� বলি। পড়ত� গিয়� মন� হল যে� স্টিফে� কি� এর নাইট শিফটের গল্পগুলো� মত কো� গল্প পড়ছি। চমকে দেয়ার লো� সামল� যে গল্পের শেষট� লেখা হয়। কিংব� চক্র অথবা মথ গল্পের কথাও বল� যায়�
সিনেমা দেখত� বসলে শুধু ব্যাকগ্রাউন্� মিউজিক চলার সময় একদি� প্রথ� শব্দটা দেখেছিলা� সাবটাইটেলে� Poignant music continues. এরপর এই শব্দের অর্থ আম� অনেকদি� হয়েছে অভিধান থেকে দেখে নিইনি। ভেবেছিলা� থাকু� একটা শব্দ এম� অর্থ দিয়� না চিনে নেওয়া�
মাহরী� ফেরদৌসের লেখায় ভাষায় বয়ানে আম� Poignant একটা আবেশ তৈরি� চেষ্টা দেখত� পাই।
'অরিগামির গোলকধাঁধায�' লেখিকা মাহরী� ফেরদৌস-এর পড়া আমার প্রথ� বই� মো� চৌদ্দট� গল্পের সমাহার রয়েছে এই গল্পগ্রন্থে। গল্পগুলো কো� কোনট� বে� চমৎকার, আনন্দে� খোরা� জুগিয়েছ� কখনো আবার মাঝে মাঝে একটা অবসাদে� ধাক্কা� দিয়েছে। তব� গল্পগ্রন্থের দুয়েকটা গল্প গড়পড়তা� মন� হয়েছে� একটা গল্পগ্রন্থের সব গল্প যে ভীষণ ভালো হব� তেমন� তো কথ� নেই। আম� দুয়েকটা গল্পের কথ� বল�, যেগুলো আমার ভালো লেগেছে� তারমধ্যে প্রথ� গল্প 'মথ' বে� লেগেছে! চেকলিস্ট গল্পটি এই বইয়ের পড়া আমার পছন্দে� গল্প, যেখানে মানসিক রোগে ভোগা এক রুগি� কিছু ঘটনা গল্পাকার� আলোকিত হয়ে উঠেছে। "পৃথিবী� শে� গা�" এই গল্পটা ইন্টারেস্টিং� ধরুণ পৃথিবী থেকে সব গা� মুছে গেলো, তাহল� কেমন হব�? অথবা 'চাঁদের গায়� ছোঁয়া' গল্পের কথাই ধরি। ভাষা সৃষ্টিরও আগ�, মহামারির সময়ের এক কাল্পনিক গল্প! সব মিলিয়� উপভোগ্� ছিলো�
পরাবাস্ত�, বাস্তবতা, আর রূপকথা� ১৪টা ছোটগল্পে� সংকলন। গল্পগুলো� বৈচিত্র্যময়তা� জন্য প্রতিট� গল্প পড়া� সময় ভিন্� ভিন্� অভিজ্ঞতা হয়েছে� প্রতিদিন একটা কর� গল্প পড়েছি বল� গল্পগুলো� সাথে ভালো� সংযো� স্থাপন করতে পেরেছি�
অনেকদি� পর এম� একটা গল্প সংকল� পড়লাম যা� প্রতিট� গল্প ভালো লেগেছে� প্যারাকজ�, এক কামরার ঘর, মনিদ্র অন্ধকারে, সান্তা মনিক� স্টেশন পেরিয়�, পৃথিবী� শে� গান� এই পাঁচটা গল্প সবচেয়� বেশি ভালো লেগেছে� তব� 'মধ্যরা� শে� হত� কিছু সময় বাকি' এর মত� বাস্তবতা� গল্পগুলো একটু দুর্বল মন� হয়েছে� এজন্� � তারা খসল।
ইদানিং এম� অনেক গল্প পড়েছি যেখানে শিল্�-সাহিত্যি�-চিত্রকরদের ছায়� অবলম্বনে অনেক লেখক গল্প লিখেছে� এম� অনেক গল্প পড়ে যারপরনাই বিরক্ত হয়েছি� তব� এই সংকলনে ভ্যা� গগের ছায়� অবলম্বনে লেখা 'মনিদ্র অন্ধকারে' গল্পটা এই গল্প সংকলনে� সেরা গল্প মন� হয়েছে�
লেখকের আর� বই পড়া� আগ্র� বো� করছি� যারা ছোটগল্� পড়ত� পছন্� করেন তাদে� জন্য এই বই�
বর্তমা� সময়টা এমনই যখ� আমাদের চারপাশের নির্মিয়মা� বাস্তবতা ভেঙ্গে ফেলছ� যাবতীয় বিশ্বাসযোগ্যতা� সূত্র। অথ� প্রত্যক্� অভিজ্ঞতায় আমরা যা কিছু দেখছ�, শুনছ�, জানছ� তাতে স্বভাবতই প্রশ্ন জাগত� পারে মন� যে এরকমটা সত্যিই কি ঘট� বাস্তব�?
একটু সহ� কর� বল� যা�, ধরুণ বহুদিন পর আপনা� পুরানো কো� বন্ধুর সান্নিধ্� যখ� এক� সাথে আপনাকে দিতে শুরু করেছ� স্মৃতিতাড়িত হবার অনুভূত� কিংব� পোষাকি সামাজিকত� ছেড়�-ছুড়� একান্ত� নিজে� কাছে ফেরা� আনন্� ঠি� তখনই দেখত� পেলে� আপনা� প্রিয় বন্ধুট� হঠাৎ� মানুষে� অবয়� ছেড়� রু� নিচ্ছে বিকট আকৃতির এক মথের� তখ� মোটাদাগে আপনা� মন� হতেই পারে যে এস� বড়জোর ঘটতে পারে স্বপ্ন�, অথ� � এক� ঘটনা� অন্যান্য উপকরণগুলোর সাথে কড়া যোগসূত্র রয়েছে প্রত্যক্� বাস্তবের �
এটাক� স্রে� যাদুবাস্তবতা হিসেবে ধর� নিয়� যদিওবা নিজে� বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষণিক প্রশ্নবিদ্� হওয়ার হা� থেকে রক্ষ� পাওয়া যায় কিন্তু তাতে কর� কতটুকু� বা সান্ত্বন� পায় মন? কিংব� এমনো� তো হত� পারে যে বিশে� বিশে� ঘটনা � দৃশ্যে� দ্বারা আক্রান্ত হয়ে আমাদের অন্তকরণই মূলত ডিজাইন করছে বিশে� কল্পনা, যা বিশ্বাসযোগ্যতা� বিচারে ছাড়িয়ে যাচ্ছে আমাদের প্রত্যক্� অভিজ্ঞতাকেও।
একারণে� আপাত নিষ্পা� চেহারা� কারো আড়ালে খল চরিত্রের ভূমিকায় বদলে যাওয়া কিংব� তুমু� মানসিক পীড়নে উস্ক� ওঠ� আকস্মি� মেটামরফসিস� পুরু� থেকে নারীতে রুপান্তরিত হওয়ার ঘটনাকে আমরা অবান্ত� বল� উড়িয়� দিতে পারি না� কিংব� ভীষণ এক বৃষ্টিদিনে ছেড়� রেইনকো� গায়� নর্থস্ট্রিটে আস� সে� লোকট� যখ� আকাশের দিকে মাথা তুলে দৈ� বানী� মত� উচ্চার� করেন যে "একদি� এই পৃথিবীতে কো� গা� থাকব� না", তখ� আমাদেরকে কয়ে� মুহূর্� থমকে যেতে হয়। ভেতর� ভেতর� বাড়তে থাকে স্নায়ুচাপ�
মৃত্যু অপার রহস্যময়� বেঁচ� থেকে� মর� যাওয়া কিংব� মর� বেঁচ� যাওয়া� ডিসকোর্সটা আজ অবধি ধরতে পারেনি বলেই জীবনের বিবি� প্রতিকুলতা� বোঝা বয়ে নিয়� বেড়াত� মানুষমাত্র� টালমাটাল হয়ে পড়ে� একবা� ভেবে দেখু� তো যদ� এম� হয� যে একদি� আপনি আবিষ্কার করলে� নিজেকে মৃ� হিসেবে অথ� আপনি তখ� প্রচন্� রকমে� জীবি� অথবা আপনি ভাবছেন আপনি বেঁচ� আছেন অথ� আপনি মৃ�!
আর এভাবেই গল্পের সাথে জীবন এব� জীবনের সাথে গল্প মিলেমিশে যায় বলেই আমরা প্রায়শই নিজেকে জটিল কোনো প্যারাডক্সের ভেতর আবিষ্কার কর� ভী� হয়ে উঠি। মন� মন� প্রার্থন� কর� আদ� যুগে� অবতারে� মত� হয়ত� কে� একদি� আমাদেরকে উদ্ধার কর� নিয়� যাবে নিরাপদ আশ্রয়ে।
এই লেখকের দুটো বই পড়েছি আগে। Mehnaz আপ� যখ� ওনার নতুন বইটা পাঠাবে� বলেছিলেন,মন� মন� দু তিনট� চিৎকার দিয়� ফেলেছি।লেখকে� লেখা মন ছুঁয়ে যায়,আগ� যতবা� ওনার গল্প পড়েছি,ততবা� কিছু না কিছু নিয়� ঘোরে ছিলাম।এবার� তা�-� হয়েছে� মো� ১৪টা গল্প আছ� এতে।দ্বিতীয় গল্প তজেক� আম� শব্দের নেশাতে উন্মত্ত। ঠি� hooked বলেন�?তেমনই।
আম� যখনই ছো� গল্পের বই নিয়� বস�,একগাদা চাহিদা এস� ভর করে। গল্পের সাথে রিলে� করতে পারা,বা চারপাশ� এর ছায়� দেখা,অন্যের গল্প বা কিছু শব্দ যেনো নিজে� কর� নিতে পারি, এস� মাথায় ঘুরে।পড়তে গিয়� টে� পেলা� দু-তিনট� গল্প চেনা,অবশ্� সব যে আনকোরা নয� শুরুতে� বলেছেন লেখক� আমার খুবই প্রিয় দুটো শব্দ আছ�, "বিষণ্ণ সুন্দর ", এই বোধটাই বারবার মন� আসছিলো� মথের মুনিবা� কথাত� হয়ত� মন� পড়ছিল� আমাদের সমাজের বয়স বা পারফেকশনের মিটা� উতরে যেতে না পারা কারো কথা। বা চোখে ভাসে বৃষ্টিতে একাই ভিজত� হয� গল্পের আমজা� সাহেবে� মত� লোকগুলোর নিষ্ঠুরতার চিত্�,যারা বউ মেরে নিজে� পুরুষত্বের পরিচয় দেয়� এম� আর� অনেক গল্প,অনেক পথচলাত� এক� পথের সন্ধান পাওয়া যায় গল্পগুলোতে�
বইটা খু� সহজে� বাতিঘর থেকে সংগ্রহ করতে পারবেন।আ� একটা কথ� বল�,কিছু বই দেখল� মন� হয� দা� বেশি, কিন্তু এই বইয়ের বেলাতে সে উলটো মন� হয়।
মাহরী� ফেরদৌসের লেখা ‘অরিগামি� গোলকধাঁধায়� গল্পের বইটি পড়ে শে� করেছ� বে� আগে। এত� রয়েছে চৌদ্দট� ছো� গল্প� মাহরী� ফেরদৌসের লেখায় একটি মৌ� বিষাদময়তা� ঘো� রয়েছে, আর সে ঘোরে আছ� আসক্তি� তা� লেখা� আম� বিশে� ভক্ত� তা� ছোটগল্পে� তো তুলনাই হয� না� গল্প বলার ভাষা এতোটাই প্রাঞ্জল যে অনায়াসে আবৃত্ত� কর� যায়� গল্প বলার টেকনিকের কথ� যদ� বল� এখান� রয়েছে পরাবাস্তবত�, যাদুবাস্তবতা, প্যারাকজ� ইত্যাদ� টেকনিক তিনি ব্যবহা� করেছেন� গল্পগুলো সেরক� কাহিনী নির্ভর নয� বর� লেখক এখান� মনজগতে� অদৃশ্য বিন্দুগুলোকে কালারফুল শে� দিয়� অচেন� এব� অদেখ� জগতক� সুনিপু� বর্ণনা শৈলী� মাধ্যম� তুলে ধরেছেন � এখান� গভী� দর্শ� তো রয়েছে�, সাথে আছ� কিছু কারুকার্� খচিত বর্ণনা, যেটাকে আমার কাছে কবিতার মত সুরেলা লেগেছে�
শব্দচয়ন এব� বাক্যগঠন যথেষ্ট আধুনিক পন্থায� ঝরঝর� কর� লেখা যেটা পাঠক পড়ে যাবে মসৃণ � সহ� ভাবে� তব� পাঠক যদ� গল্পগুলো� সাধারণ অর্থ কর� তবেই ভু� করবে� কারণ জীবন অত� জটিল অরিগামির গোলক ধাঁধার মতোই� এর একেক ভাঁজ� রয়েছে একেক গল্প� আর সে� গল্পগুলোকে বুঝত� গেলে literal rule ব্যবহা� করলে হব� না� করতে হব� moral, allegorical, অথবা anagogical ইন্টারপ্রিটেশন রুল। তবেই এই গল্পগুলো� প্রকৃত স্বা� পেয়� পাঠক মুগ্� হবে।
এবার কয়েকট� গল্প নিয়� একটু আলোচনা করবো- ‘বৃষ্টিত� একাই ভিজত� হয়� এই গল্পটিতে দেখানো হয়েছে মানুষে� মনজগ� যে কত ডার্� হত� পারে� ক্রাইম করার ক্যাপাসিটি যে একজন মানুষে� কতটা গহিন হত� পারে সেটা সত্যিই পরিমাপযোগ্� নয়। যদিও এই গল্প� অপরা� করার পেছেনে যথেষ্ট যুক্তি পাবে পাঠক� তব� লেখক এখান� কো� কিছু� জাস্টিফা� করেনি। সাধারণ লেখক গল্প বলেন, কিন্তু মাহরী� ফেরদৌস গল্প দেখিয়েছেন� এটাই তা� গল্পকা� হিসেবে সার্থকতা�
‘প্যারাকজম�- হচ্ছ� অতিমাত্রায� কল্পনা প্রবণতায� ডুবে থাকা এক গল্প� গভী� কল্পনায় বসবাসকার� মানুষেরা নিজে� অস্তিত্বকে নিশ্চিহ্� কর� দিতে পারে� যেটা মানসিক স্বাস্থ্যে� জন্য ভীষণ ভাবে ক্ষতিকর।
‘মধ্� রা� শে� হত� কিছু সময় বাকি�- এই গল্প� নানা হতাশ�, দুর্দশার মাঝে� এক পেয়াল� চায়ের মাঝে তি� ভা� বো� কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস নিচ্ছিল। কিন্তু সে� সময়টি যে� খু� দ্রু� শে� হয়ে যায়� তখ� এক মৌনত� গ্রা� কর� নেবে পাঠককে� আর সে� মৌনমুখ� অনুভূত� একেক পাঠক একেক ভাবে নেবে� কারণ মৌ� বিষাদেরও একটি ঘো� লাগা স্বা� রয়েছে� সে স্বা� আস্বাদ� ব্যক্ত� বিশেষে ভিন্� হওয়াটাই স্বাভাবিক।
‘রুব� তোমাকে চিনি� গল্পটিতে দ্রুতগামী জীবনের ছটফটান� রয়েছে, তব� শেষে এস� কি এক আদিম শূন্যতায� ডুবে যায় মন� একেবারেই অচেন� হয়ে যাওয়া রুবি� সে� আদ� চাহনিত� কোথায় যে� এখনো রয়েছে সে� চেনা মেয়েটি।
‘বিস্কুটের গুঁড়া� মত বিকেল� এই গল্প� রয়েছে চমৎকার বর্ণনা, যে� ক্যানভাস� আঁকা একটি অত� উজ্জ্ব� পৃথিবী� চিত্রকলা� কিছু অনুভুত� এব� সময়ের ঘোর।
‘এ� কামরার ঘর� এব� ‘চক্র� এই দুটি গল্প� অসাধার� লেগেছে।বিশেষ কর� চক্র পড়ে আম� ভীষণ মুগ্ধ।মনের মত একটি গল্প�
‘চেকলিস্ট� আর� একটি চমৎকার গল্প� সেখানে দেখানো হয়েছে মেন্টা� হেলথ প্রব্লেম যে কতটা জটিল হত� পারে এব� এই সমস্যাটি কতটা অবহেলি� আমাদের সমাজে। এর সুদূ� প্রসারী প্রভাব যে কি, সেটা ভুক্তভুগ� ছাড়� আর কে� অনুধাব� করতে পারে না� এরকম অনেক মানসিক সমস্যা জটিল থেকে জটিলতর হয়ে মানুষে� জীবন বিপন্ন হয়ে যায়� গল্পের ছল� obsessive compulsive disorder (OCD) � ভোগা একটি মেয়ের জীবন সঠিক ট্রিটমেন্ট না নেয়ার ফল� কতটা দুর্বিষহ হত� পারে সে� চিত্রই আঁকা হয়েছে�
‘মনিদ্� অন্ধকারে� গল্পটিতে লেখক ভিন্সেন্� ভে� গগের জীবনীতে অনুপ্রাণিত হয়ে লিখেছেন। আরভি� স্টোনে� Lust for life উপন্যা� পড়ে যেমন মুগ্� হয়েছিলা� ঠি� তেমন� ভিন্সেন্� ভে� গগের জীবন নিয়� এই গল্পটি� ছো� পরিসরে চমৎকার সাজিয়েছেন লেখক�
এরকম সবগুলো গল্প� একটা� থেকে আরেকটি ভিন্ন। তব� সবগুলোতে� মনস্তাত্ত্বি� উপাদান রয়েছে যেখানে মনজগতে� মৌ� ক্রিয়াগুল� শব্দ পেয়েছে। মাহরী� ফেরদৌস গল্পকে শুধু বলেননি, সে এর স্বা�, বর্ণ, গন্ধ, উত্তাপ এব� মৌনতাক� দক্ষ হাতে চিত্রায়� করেছেন� বইটি পছন্দে� তালিকায় রেখে দিলাম।
গল্প-সংকলনে� আলোচনায় নিজে� কিবোর্� চালানো আমার জন্য� বরাবরই ক্লান্তিকর� প্রথমত আম� ধা� ভানত� শীবে� গী� গা� বেশি এব� তা� ফল� সংকলনে একাধিক গল্প থাকায় আমার মগজে গেঁথ� থাকা ভাবনার� অর্নবে� "হারিয়� গিয়েছ� এইতো জরুরী খব�" এর ট্যা� ঝুলিয়� কংকালে� হাসি হয়ে ঝুলত� থাকে বিলবোর্ডে। তা� কিছু গল্প নিয়� হয়ত� অধিক বলবো, কিছু গল্প� নিতান্তই ভালো লাগা � মন্দ লাগা� অভিব্যক্তিতে� দায় সারবো। আর কিছু গল্প� ধা� � ভানব�, শীবে� গীতও গাইবো।
পাঠকের নির্দিষ্� কিছু চাওয়া-পাওয়া তো থাকে� তা� পা�-প্রসেসে। গল্পটা কি তা� থেকে� আমার কাছে মূথ্� হয়ে দাঁড়ায় গল্পটা কিভাবে বল� হয়েছে� গল্পের সমাপ্ত� নিয়� দ্বিমত থাকতেই পরে। মানুষে� ভিন্� ভিন্� বয়স � ভাবনার কারন� ভিন্� ভিন্� পার্সপেক্টিভ তৈরী হয়। গল্পের ইন্টারপ্রিটেশনটা� হয়ে ওঠ� আলাদা। গল্প� আম� খুঁজ� শব্দের পর শব্দের কুয়াশ� ঠেলে সামন� আস� গল্পের ঘরটা কতটা সংবেশি� হয়ে উঠলো�
বইয়ের প্রথ� গল্প "মথ"� পরাবাস্ত� আর বাস্তবের মিশেলে গল্পটা শুরুতে� লেখকের ভাষাগত সৌন্দর্যের আভাসটুকু দিয়� রেখেছেন। মানে আপনি প্রথমবার একজন লেখকের বই ধর� সেটাকে বাতিলে� খাতায় ফেলে দিতে পারবেন না, বর� বে� সাবলীলভাবেই এগিয়ে যাবেন। "মথ" পড়ত� পড়ত� লীলা মজুমদারে� "পাকদন্ডী" থেকে মথ আর প্রজাপতি� একটা পার্থক্যের কথ� মন� পড়লো। ঠিকঠাক মন� নে�, তব� পার্থক্যটা এরূপ ছি� যে কোনট� ডানা� নিচে নকশা আর কোনটার ডানা� উপরে� গল্প� জেরি� আর গল্পের কথকে� জীবনের নকশাগুলো� কি কারওটা লাইমলাইটের নীচে হাইলাই� হওয়�, আর অন্য জনেরটা পারিপার্শ্বিকতার জ্যাকেটে আলোর আড়ালে ঢেকেঢুকে দেয়�?
মথের নিশাচর স্বভাবের জন্যেই কি জেরি� আল� থেকে সে� অন্ধকারে পরিত্যক্� বিল্ডিংয়ে গে� নাকি জীবনানন্দে� "আল�-অন্ধকারে যাই—মাথার ভিতর� স্বপ্ন নয�, কোন্ এক বো� কা� কর�" সূত্� অনুসরণ কর� এগিয়ে যায় সে� অন্ধকারে� দিকে? যে সেভাবে� যা�, পাঠকের সামন� (অথবা আমার) আয়ন� ধরিয়ে দিয়েছ� গল্পের শেষটা। পাঠক হিসেবে আম� কি আশ� করেছিলাম জেরি� লা� দিবে? গল্পের কথকে� জায়গায় দাঁড়িয়� আমরা কি করুন পরিনতি� দিকে� হিপনোটাইজড হয়ে পড়ি? মন� মন� তা� চা�? খু� ঘটনাবহুল কিছু ঘটুক আমাদের চারপাশ�? কমলকুমার মজুমদারে� "গৃহস্থিত চিনিপাতা জীবনের" মাঝে সে� ঘটনাবহূল বা অমোঘ পরিণতি কড়া লিকারে� স্বা� দিয়� যায়? এই পার্সপেক্টিভগুলো� দিকে তাকিয়েই "মথ" হয়ে ওঠ� দারু� একটা গল্প�
"বৃষ্টিতে একাই ভিজত� হয�" গল্পটা মোটে� উপ� ভালো� আহমর� কিছু না� সি�-কার্ডে� অবছা টুইস্ট বর� গল্পটা� সমসাময়ি� জীবনের চিরচেন� কাহিনি� মসৃন সারফেসটুকুতে ক্ষত রেখে গেছে� সাদামাটা স্টাইলের গল্পেও একধরনে� ঘো� থাকে - এখান� সে� স্টাইলটুকু আছ�; ঘোরটুক� নেই।
তব� এক� ঘটনায় ভিন্� ভিন্� মানুষে� যে ভিন্� দৃষ্টি এব� প্রতিক্রিয়া� চিরায়� স্বভাব, তা দু� বোনে� স্বভাব� বে� ভালোভাবে� তুলে ধরেছেন মাহরী� ফেরদৌস�
তি�.
"প্যারাকজ�" নিঃসন্দেহে এই সংকলনে� সবচেয়� উজ্জ্ব� এব� দারু� গল্প� যদিও মৌনতার ঘর� যাওয়া সে� কথকে� ভিভি� ফ্যান্টাসি� শৈশব সম্পর্কে আমরা কিছু� জানি না� তা� এই ফ্যান্টসির স্বরূপ নির্ণয়ে� চেয়� ফ্যান্টাসি� সাইক্যাডেলিক ঘোরে আটকে থাকাটা� পাঠকের জন্য� দারু� এক তৃপ্তি�
আলোচনা� শুরুতে� আম� লিখেছিলা� যে, গল্প� আম� খুঁজ� শব্দের পর শব্দের কুয়াশ� ঠেলে সামন� আস� গল্পের ঘরটা কতটা সংবেশি� হয়ে উঠলো� "প্যারাকজ�" গল্পটায় বর� আমার কাছে উল্ট� লেগেছে� শব্দের পর শব্দের কুয়াশায� থাকতেই আমার ভাল্লাগছিল� ক্লান্তিহীনভাব� এম� পোয়েটিক মেটাফোরে� কাছে পাঠক আত্মসমর্পণ করতে পারেন। অন্ত� আম� পারি�
তা� গল্প কথকে� মানসিক অবস্থা জানা� জন্য অদম্� কৌতূহলটুকু কা� কর� না, বর� তা� সে� ইমাজিনার� ওয়ার্ল্ডে� সাথে সাথে নিজে� চিন্তা� � অনুভবে� ট্রানজিশ� ঘটতে থাকে� সেখা� থেকে আবার কথকে� সেল্� এলিয়েনেশন� দেখা দেয়� পাঠক হিসেবে আম� হয়ত� সে� সেল্� এলিয়েনেশন-এর পথ ধর� চেনা রিয়েলিটিত� ফিরে আসি। কিন্তু আমার কিন্তু সে� অবসেশনেই থাকত� ভালো লাগে� যা� সমূহ কারন মাহরী� ফেরদৌসের এই গল্পের পোয়েটিক মেটাফোর।
পাঠক হয়ত� একটু মনযোগী হলেই খেয়াল করবে�, কথকে� সে� সেল্� এলিয়েনেশনের ব্যপ্তিটুকুও সামান্য। ক্ষনিকের� মৌনতার বাড়ির সামনের পরিত্যক্� বাসায় যে আসলে কে� নে�, সে� ভয়ঙ্ক� রিয়েলিটির মুখোমুখি না হত� চাওয়া বা পালিয়� বেড়ানোও হত� পারে�
প্যারাকজমে� বী� মূলত শৈশবেই প্রোথি� হয়। আলোচনা� শুরুতে� বলেই যে, শৈশবের ব্যাপারে তেমন কো� ইঙ্গিত নেই। নাকি আছ�? এই যে ভিভি� ফ্যান্টাসি� আছ�-�-না� এর মাঝে দাঁড়িয়� গল্প কথ� (অথবা গল্পের প্রোটাগনিস্ট) - কোনট� বাস্তব আর অবাস্ত�? আমাদের এই বেঁচ� থাকা, এইযে গল্পটা নিয়� শীবে� গী� গাইছ� এটাও হয়ত� স্বপ্ন - বাস্তব না� সবটা� ঘোর।
চা�.
"চাঁদের গায়� ছায়�" নামক গল্পটি শুরু থেকে� আমাদের রূপকথা� আঁচে ওম দিতে থাকে� এব� সে� ওমেই আমরা মাঝে মাঝে টে� পা� বাস্তবতা� অন্য দিক। "�" এর কথ� ভাবত� যেয়� আমার মন� পড়ে "ইনসাইড আউ�" এনিমেটেড মুভি� কথা। রাইলির পারসনিফাইড ইমোশোনের কথা। "�" যে� সে� ৫ট� পারসনিফাইড ইমোশোনের একটি হয়ে ধর� দেয়� কনসা� অফ আস? হয়তো। তব� গল্পের শেষট� নিছক� যে� একটা "শুরু থাকল� শে� থাকব�" এই টানাপোড়েনের ফল� ঠি� ওখানেই গল্পটা ভালো লাগা� আবেশ থেকে ছিটক� পড়ে�
"মধ্যরা� শে� হত� কিছু সময় বাকি" চেনা সময়ের এব� পরিচিত গল্প� লেখক মাহরী� ফেরদৌস� লিরিক্যা� গদ্যভাষা� খু� একটা ছা� নে� যদিও এই গল্প�, এব� গল্পের থেকে বর� আমার কাছে কারও ডায়েরির এন্ট্র� হিসাবে� বে� মানায়� সংকলনে� অন্য গল্পের তুলনায� অনেক দুর্বল� তবুও গল্পটা থেকে উঠ� আস� অমোঘ এক প্রশ্ন - "এম� জীবন কি আমাদের কারও হবার কথ� ছি�?" এই চিরায়� প্রশ্নের জবাব হয়ত� কোনদিন� কে� দিতে পারব� না কখনও�
তব� এই গল্প প্রসঙ্গে লেখকের লেখা নিয়� সামান্� কিছু বল� যাক। লেখকের প্লট বা সমসাময়ি� ব্যাপারগুলোর যে উপস্থাপন� তাতে একটা কম� জিনি� থাকে যেটাকে বল� ক্রাইসিস� সংকট� সেটা হো� ব্যক্তিকেন্দ্র�, পরিবারকেন্দ্রি� অথবা সমাজকেন্দ্রি� - সে� ক্রাইসিসের ওমটুকু পাঠক টে� পা� ঠিকই, কিন্তু মাহরী� ফেরদৌস সেটাকে ডিফেন্� করার চেষ্টা কর� না� সে� যন্ত্রনাটুকু উপশম� লেখকের কল� গল্প� শক্তভাবে চেপে বস� না� মানে মেইড আপ কো� সিদ্ধান্� বা উপশম নিয়� তিনি গল্পের চরিত্রগুলোকে নিয়ন্ত্রক করেন না� তারা নিজে� নিয়মে� বহমান। গল্পের চরিত্রগুলো তাদে� সিচুয়েশনে� কাছে হা� মেনে বা জিতে যায় - লেখক শুধু তা� লিরিক্যা� গদ্যভাষা� ভারসম্� বজায� রেখে আবেগ � আস্থার ভরসায় এগিয়ে যান।
"রুবি তোমাকে চিনি" গল্প� এডভ্যারটাই� ফার্মে� একজন কর্ত্রী� কো� এক ব্যস্ত দিনে� মুহূর্তে� ঝাপি মেলে দিয়� শেষে স্মৃতি� পুরোনো মায়াপথে দাঁড়িয়� দেখে� অমসৃ� পথ� স্মৃতি� ঝঞ্ঝ� হাতড়িয়� টে� পা� চোখে� সামন� নিঘা� অন্ধকা�! এই শেষটায� এস� আমরা যদ� আবার একটু গল্পের শুরুতে চোখে দে� - সে� কর্ত্রী� দিনযাপনে এব� স্বপ্ন� - অনেক ভীড়ের মাঝে� আমরা দেখি আইসোলেটে� হয়ে� আছে। স্বপ্নেও এক� - স্মৃতিতে� একা। রুবি� চোখে� শূন্যতার মাঝে� ঝুলে আছ� যে� তা� পত� অথবা পরিনতি�
পাঁচ.
"এক কামরার ঘর" যে� এক কামরার ঘোর। কিছুটা যে� চেনা বাস্তব আবার কিছুটা পরাবাস্তবত�, এব� এই দুয়ের মাঝামাঝি দাঁড়িতে দেখা (পড়া) এব� অনুভবে� মধ্যবর্তী দূরত্বটুকু আঙ্গুল দিয়� মেপে দেখেছি - সেখানে কো� সংখ্যা ভাসে না� যা পা� তা� না� - শূন্যতাবোধ� এখান� গল্পের একটা লাইনের কিছু অং� তুলে ধর� প্রয়োজন:- "আমাদের চারপাশটা হঠাৎ এক� সাথে হয়ে ওঠ� নীরব � সরব।"
মাহরী� ফেরদৌসের গল্প পড়ত� পড়ত� এই ব্যাপারট� বে� টে� পাওয়া যায়� আপনা কাছে মন� হব� আপনা� চারপাশটা কখনও নীরব, কখনও সর� আবার কখনও এক� সাথে এই দুয়ের সমষ্টি� গল্প পড়া শেষে অনুভূত� ছাপিয়� নতুন আবহে� উপস্থিতি যে� সে� মুহূর্তে� উজ্জ্ব� স্বাক্ষর� কখনও সেটা বিমর্ষতা�, কখনও বিষাদে� আবার মাঝে মাঝে শূন্যতাবোধ� হাহাকা� নে� সেখানে�
লেখকের অধিকাং� গল্প� নারীকেন্দ্রিক। মনোল� ফর উইমে�? বোধহয়� মনোলগে� ডানায় ভেসে ভেসে এগিয়ে চল� তা� গল্প, তা� সংলাপকেন্দ্রিক না� গা� গল্পের উপমা, উপমা� � উপমেয় তা� হয়ে ওঠ� আর� দুর্দান্ত। আম� ঠি� জানি না সংলা�-নির্ভর গল্প� এই ব্যাপারগুল� খু� স্ট্রং ভাবে তুলে ধর� যায় কিনা� পাঠক হিসাবে আমার এম� উপস্থাপন মনোল� নির্ভর লেখাতে� বর� বেশি ভালো লাগে� উপমায় আচ্ছাদিত বাক্� আর মনোলগে� ডানায় ভেসে যাওয়া গল্পগুলো যে� বিমূর্� ঘোরে� খোরা� নিয়� হাজি� হয়।
"বিস্কুটে� গুঁড়া� মত� বিকেলে" এই বইয়ের সবচেয়� ছো� এন্ট্রি। দেড় পে� বড� জোর। অনেকের কাছে� হয়ত� এট� ঠি� গল্প হয়ে উঠলো কিনা সে� আত্মজিজ্ঞাসা হানা দিয়� যাবে মনে। আমিও ঠি� জানি নি, তব� না হো�, গল্প আর কবিতার মাঝামাঝি বিচর� করতে� তো দারু� লাগে� বিশে� এই গল্পটা� জন্য� আম� দুটো শব্দ� বলবো - অ্যাস্ট্রা� প্রজেকশন� এম� অ্যাস্ট্রা� প্রজেকশন আম� নিজে� মধ্য� টে� পাই। "-'আম�-যা-দেখি-....-তুমি- তা - দেখো?' - এর মাঝে যে� অসম্ভব একটা নস্টালজি� হ্যংওভার ভর করে। নোনা-নোনা সামুদ্রি� বিকে�, বৃষ্টি শেষে ফুলা� রো�, অল� দুপুরে� বিষণ্ণ মফস্বল শহ�, অথবা নিজর� অস্তিত্বের শূন্যত� অনেক কিছু� উড়ে আস� সে� বিকেলে� পথ ধরে। নিশ্চি� কর� বলার উপায� নে�, তব� আমার অনুমান� সংকলনে� সবচেয়� ছো� এন্ট� হলেও হয়ত� এট� লিখত� লেখকের পরিশ্রমে� পাল্লাটা ভারী ছিল। অবশ্� না� হত� পারে� এরূপ লিরিক্যা� গদ্যভাষা� তো মেহরী� ফেরদৌসের ট্রেডমার্ক� হয়ত� খু� সহ� এব� সবলীলভাবেই তৈরী হয়েছে� আমার কাছে অন্ত� অন্যতম প্রিয় হয়ে থাকব� এটা। পোয়েটিক ফিলটুক� হৃদয়ে ছা� ফেলে দিয়� যায়�
"চক্র" দারু� এক গল্প� চক্র আমাদের দাঁড� করিয়ে দেয় আবার সে� ঘোরে� কোনট� বাস্তব আর কোনট� স্বপ্ন? অয়নের মা (?) উদ্বেগ আর ঘোরে� মাঝে বিচর� কর� বারবার ফিরে আস� এক ভয়ংকর বাস্তবতা� সামন� যে, অয়নের মা মানে গল্পের সে� কথ� বল� কে� নেই। সেভে�-� থেকে যখ� বে� হয� দুঃসংংবা� পেয়� সে� মুহূর্তট� বাস্তব নাকি গল্পের শেষে চাকা হাতে দাঁড়িয়� থাকা অচেন� অয়ন বাস্তব? এই যে "অরিগামির গোলকধাঁধায�" পড়ছ�, ঘু� ভেঙে দেখব� হয়ত� সেটা� স্বপ্ন� আমরা হয়ত� স্বপ্নের মধ্যেই বাস্তবতা� গভীরে অত� স্পর্শ করি।
"চেকলিস্ট" সংকলনে� অন্যতম দুর্দান্� গল্প� গল্প বলার ঢং, গল্পের শে� সব মিলিয়েই বিশে� একটা গল্প হয়ে থাকবে। OCD তে ভোগা গল্পের কথকে� সেল্�-এলিয়েশনের নিমিত্তে বেঁচ� থাকা� অবলম্ব� হয়ে ওঠ� চেকলিস্ট� লেখক একধরনে� মেলানকোলিক আবহে� সৃষ্টি করেছেন যাতে আমরা সে� OCD তে ভোগা গল্পের চরিত্রটিকে লোনা� বলতে পারি� হয়ত� ক্ষেত্�-বিশেষে আমাদের "আমির"-টুকর� কে মিলিয়� অনুভ� করতে পারি, চ্যালেঞ্জি� বিষয� হচ্ছ� বেঁচ� থাকা�
ছয�.
"ভুলে যাওয়া� গল্প" ভালো লেগেছে গল্পের শেষটার জন্যে। আমাদের এই যাপি� জীবন� হাসিমু�-ঘোমট� আড়া� থেকে উঁকি মারে বিষণ্ণতা� আনুগত্� আর নানা টানাপেড়নে� মাঝে ভুলে থাকা�, অভিমানের মহড়া।
"মনিন্দ্র অন্ধকারে" আমাদের আগ্রহোউদ্দীপক কর� তোলে ছব� আর কবিতার (ছবিত�-� বল�) আবেশ মিলিয়� বিষণ্ণ শহরে� হলুদ রঙ� দেয়ালের বাড়ির ঘর অথবা সে� আর্ট-গ্যালারি� প্রতি। ভ্যানগগে� আত্মজীবনী এখনও পড়িনি� পড়ব� সামনেই�
"সান্তা মনিক� স্টেশন পেরিয়�" গল্পের সমাপ্ত� আমাদের মধ্য� জাগিয়� তোলে কৌতূহল� সে� কৌতূহলের লাঠি ভর কর� জোসেফে� পিছু পিছু পাঠক� রওয়না দেয় এক� ঘরের দিকে� জানত� ইচ্ছ� কর�, সে� রহস্যময় হালক� মিষ্টি ঘ্রা� কি কিছুটা তীব্রত� নিয়� ফিরে আসবে? ঘরের এপাশ� নিবিড় ঘো�, ঘ্রাণে� তারতম্� যাচা� হো� না হো�, পাঠক হিসেবে আমার দরকা� পোয়েটিক ফিল। সে� ঘ্রাণটুক� বাড়িত� তোলে গল্পের সমাপ্তি।
"পৃথিবী� শে� গা�" গল্পের উপমা, উপমা� � উপমেয় আবার� আমাদ� আচ্ছন্� কর� রাখে� কিছুটা দুর্বোধ্� � লাগে� তব� এই দুর্বোধ্যত� আমার� অক্ষমতা। শুধু শব্দের পর শব্দ সাজিতে যে কাব্যি� যে ঢঙ� এই গল্প হাজি� হয়েছে - তা ভালোলাগা� অন্যতম কাঁচামাল হয়ে মর্ম� লাগে�
সা�.
মাহরী� ফেরদৌসের "অরিগামির গোলকধাঁধায�" ১৪ টি ছোটগল্পে� সংকলন। উপরে অনেক স্থানে� বলেছ�, লেখকের লিরিক্যা� গদ্যভাষা আমার মত� তা� সবচেয়� স্টং দিক। সমসাময়ি� লেখক বা ছোটগল্পে একটা বিষয� খু� স্পষ্ট অনেকের লেখায়� সেটা হচ্ছ� গল্পের ভিন্� ভিন্� ইন্টারপ্রিটেশন পূর্বে পাঠককে গল্পের চরিত্রগুলো� দিকে তাকাতে হয� সবিস্ময়ে। এই বিস্ময� চরিত্রের অতিমানবীয় গু� বিবর্জিত এব� অত�-দানবীয় বৈশিষ্ঠ্� বিবর্জিত বলে। মানে লেখক আলাদ� কো� বাড়তি সিমপ্যাথ� বা এমপ্যাথি আরোপ কর� সেটাকে পাঠকের সামন� উন্মোচ� করেন না�
মাহরী� ফেরদৌসের গল্পের চরিত্রগুলো� তা� পাঠকের চেনা� প্রতিদিন এই সক� চরিত্রের সাথে পাঠকদে� দেখা হয�, কথ� হয়। হয়ত� খু� খেয়াল কর� মন� রাখা হয� না� অচরিতার্� জীবনের হাহাকা� যেমন মিশে থাকে পোষাকে� মত� চরিত্রগুলো গায়�, তেমন� মৌলি� কল্পনা � লেখকের চিন্তাসূত্রও পোষাকে� বুকপকেটে সেফটিপিন-বিদ্� শোকে� কালো ব্যাজে� মত� দৃশ্যমান�
তা� লেখকের দেখানো গোলকধাঁধায� হাঁটতে হাঁটতে গল্পগুলো বুঝত� হয়ত� কিছুটা সময় লাগে, কিছু গল্প দুর্বোধ্যতার মোড়কে অধরা থেকে যায় - তব� নিঃশ্চিতভাবে� লেখকের গল্পের পয়েটি� মেটাফো�, তা� মনোল� সাথে সাথে আক্রমন কর� পাঠককে� আচ্ছন্� কর� রাখে� শব্দের সঠিক নির্বাচন আর উপযুক্� তুলি� আঁচড়ে� ক্যানভাসটা ভালোলাগা� অনুষঙ্� হয়ে ওঠে।
কথাপ্রকা� থেকে প্রকাশিত মাহরী� ফেরদৌসের "অরিগামির গোলকধাঁধায�" দারু� এক গল্প সংকল�, যা� অনেকগুলো গল্প� পাঠককে ভালোলাগা� হ্যংওভার� আচ্ছন্� রাখবে। ২০২২ এর প্রথমদিক� প্রকাশিত বইটি� প্রথ� মুদ্রণ এখ� চলমা� - যেটা দেখে অবাক� লাগলো।
প্রথ� মুদ্রণের কথ� আসায� এটুক� যো� কর�, "প্যারাকজ�" গল্পের শেষদিক� (৩৩ নং পৃষ্ঠা� একদম শে� প্যারা) গল্পের কথ� আর ���া� বন্ধুর ফো� কনভারশেসনে� অংশে একটা লাইন-ব্রে� দেয়� উচিৎ� এক� লাইন� এস� গেছে� যা� ফল� পরবর্তী প্যারায় বক্তব্যটুক� কা� সেটা নির্নয়ে পাঠককে ক্ষুদ্� একটা সময়ের হেরফের� হোঁচ� খেতে হয়।
মাহরী� ফেরদৌস যখ� থেকে ছদ্মনা� 'একুয়া রেজিয়�' নামে লিখতেন, আম� তখ� থেকে� তা� বই পড়ি� কাজে� তা� লেখা� ধর�, উপমা� ব্যবহা�, সমাজের কঠিন সত্যগুলো সাবলীলভাব� বলার ভঙ্গিম� সবটুকু� আমার পরিচিত� আর তা� ধাক্কা লাগে যখ� বেটা রিডা� হিসেবে হাতে পা� অরিগামির গোলকধাঁধায� � এর পাণ্ডুলিপি! শুরুতে� আগের সব লেখা� ধাঁচ ছাপিয়� ঘ্রা� পাওয়া যায় নতুন কিছু�! তা�, নড়েচড়ে বস� আর� কিছুটা মনোযোগী হয়ে� তা� লেগে যায় প্রথ� গল্পেই! মানু� রুপান্তরিত হয়ে যেখানে হয়ে যায় মথ! এরপরেই, ১৪ টা ছো� গল্পের বিন্যাসে অরিগামির গোলকধাঁধ� পড়া হয়ে যায় এক রাতেই। তব� পাঠপ্রতিক্রিয়� লিখত� হল� গল্প পড়ত� হয� একজন চিন্তাশী� � মনযোগী পাঠক হয়ে� মাহরী� ফেরদৌসের নতুন বই আসবে আর আম� পড়ে মন্তব্� করবো না, এমনট� হয� না টানা � বছ�! তা� একটু দেরিতে হলেও বইটি আবার পড়ে প্রতিক্রিয়া লিখত� বসলাম। এই বইটিকে আম� ভা� করবো দুইভাগে। প্রথ� ভা� সেসব গল্পের যেগুলো সহজে� জানা� দেয় গল্পকারে� নিজস্বতা� আর দ্বিতীয় ভাগে দেখা মেলে এক ভিন্� মাহরী� ফেরদৌসের� নিজস্ব ধারা� বাইরের যে� লেখাগুলো নিজে� কম্ফোর্ট জো� সরিয়ে ফেলার। দ্বিতীয় ভাগে� গল্পগুলো তা� ভালো লেগেছে� বেশি� যেমন, 'মথ' গল্পটা তেমন� একটা গল্প যা� রে� রয়ে যাবে পাঠকমন� দীর্ঘদিন� ভিন্� ধাঁচ� লেখা অন্য গল্পগুলো� মাঝে আর� আছ� 'চাঁদের গায়� ছায়�', 'এক কামরার ঘর', 'মনিদ্র অন্ধকারে', 'সান্তা মনিক� স্টেশন পেরিয়�' আর, 'পৃথিবী� শে� গা�'� ব্যক্তিগতভাব� আমার পছন্� "�" চরিত্রটি� 'চাঁদের গায়� ছায়�' গল্প পড়ত� তা� নিজেকে তা� বারবার প্রশ্ন করেছ� '�' কি তব� হারুকি মুরাকামি� রচিত 'নাকাতা' চরিত্রের মত� আলোড়ন তুলব� পাঠক মন�? হলুদ ঘরের দেয়াল-চেয়ার, চারিদিকে ছড়ানো ক্যানভাস আর তুলি, নৈশভোজ� আল� খাওয়া এক পরিবার, কিংব� বন্ধুর কাছে লেখা চিঠি- কত সহজে� বেদনার রংতুলিতে আঁকা একজন অনবদ্য শিল্পী ভ্যানগগক� নিয়� ভিন্নভাব� গল্প বল� চললে� গল্পকা� মাহরী� তাঁর 'মনিদ্র অন্ধকারে' গল্পটিতে� অথ� কোথা� উল্লেখ� করেননি প্রকৃত শিল্পী� নামট�! আম� গল্প পড়ে ভেবেছি, এই গল্প পড়ে কি তব� পাঠকের� আমার মত� ছুটে যাবে ভ্যানগগে� আত্মজীবনী নতুন কর� পড়ত�? ভ্যানগগক� আর� একটু কা� থেকে চিনত�? ছো� বড� বেমানা� পা, মোটা কোমর � বেঢপ আকৃতির দু� বোনে� গল্প পড়ত� যেয়� ঠি� কো� গন্তব্� ছাপিয়� 'সান্তা মনিক� স্টেশন পেরিয়�' গল্পটা মন� দা� কাটব�? পাঠক ধাক্কা খাবে আমার মতোই গল্পের শে� পরিনতি জেনে? নাকি সবশেষে মন ভারাক্রান্� কর�, অস্থির হয়ে বারবার খুঁজবে উত্ত�, 'পৃথিবী� শে� গা� হিসেবে আসলে কো� গানট� থেকে যাচ্ছে আর কোনট� যাচ্ছে মুছে?' *** এম� অসংখ্য ভাবন� � উপলব্ধ� আন� এই বইয়ের সবগুলো গল্প� তা� প্রতিবার নতুন বই হাতে নিয়�, কথাসাহিত্যিক মাহরী� ফেরদৌসের গল্প বল� চল�, একের পর এক কম্ফোর্ট জোনে� বাইর� লিখে যেয়� পাঠককে ভালো কিছু উপহা� দেওয়া� এই সম্পূর্ণ যাত্রাটুকু আম� ভীষণভাবে উপভো� কর�, একজন নিয়মি� পাঠক হিসেবে� একজন প্রকৃত শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে�! রোজকার সম্পর্কে� টানা-পড়ে�, প্রে� ভালোবাসা কিংব� পাওয়া না পাওয়া� মত� অহরহ ঘট� যাওয়া ঘটনাগুলো ছাপিয়� তা� ভালো লাগে যখ� গল্প� খুঁজ� পা� প্যারারা� ওয়ার্ল্�, কোয়ান্টাম ফিজিক্সে� নানা� রস�, ম্যাজি� রিয়েলিজ� অথবা একেবারেই না জানা কো� ঘটনা কিংব� গল্পের পটভূমি� যেমন 'মথ' গল্পটা পড়েছি বলেই জানত� পেরেছি ফ্রানৎ� কাফকার ‘দ্য মেটামরফোসি�' সম্পর্কে! *** শে� কিছু কথ� লেখকের জন্য� আম� এই বইটা� পাণ্ডুলিপি পড়ে� অনুভ� করেছিলাম, � বলেছিলাম "This book will create a buzz, it may take longer time than your usual book, but it will surely reach the zenith of success." আম� এখনও মন থেকে সে� কথাই বিশ্বা� করি। আর, যারা বইটি এখনও পড়েনন�, তাদে� জন্য বলার ছি�, Don't miss the quotation that Mahrin Ferdous wrote on the second page- 'It is only with the heart that one can see rightly; what is essential is invisible to the eye.' I genuinely feel this book needs to be read through the heart. If you read through eyes only, you will end up being unsatisfied as a reader. Because here she has described a lot that's unseen to our normal eyes considering our usual surroundings!
'অরিগামির গোলকধাঁধায�' বইটি পড়ত� ভালো লাগব� না� মানুষে� জীবনের চর� পরাজয়, কঠিন পরীক্ষা আর মন ভাঙনের গল্প সব� এখান� ভ্রম-বিভ্রম, বাস্তবতা � পরাবাস্তবত� একত্� কর� শব্দ বুনেছে� লেখিকা� বিপরীতমুখী ভাবন� নিয়� বল� যাওয়া গল্পগুলি� কোথা� আছ� সমাজের কালো অধ্যায�, ব্যক্তিজীবনের টানাপোড়�, মানসিক অশান্ত� কিম্বা গভীরত� বিষাদ।
চৌদ্দট� গল্প দিয়� মার্জি� টানা হয়েছে—মানুষের বহমা� জীবনের ওপর। যে দাগে উঠ� এসেছ� চারদিকের চেনা-অচেন� জগৎ। চরিত্রগুলি কখনও সখনও জীবনকে নতুন কর� উদ্যাপ� করেছ� কখনওবা থেমে গেছে� লেখিকা তা� আপ� দক্ষতায় কাগজের ভাঁজ� নিখুঁত শব্দ গেঁথেছেন� তুলে ধরেছেন প্রেমে� নতুন দৃষ্টিভঙ্গ�, চলমা� পৃথিবী� কোনো চরিত্র আবিষ্কারের গোপন পদ্ধতি�
গল্পকা� মাহরী� ফেরদৌস তা� 'রুবি তোমাকে চিনি' গল্প� লিখেছে�, আমার জিমে� লকার কো� ৩১৪০, আমার পার্লারে� সিরিয়াল নং ২৫, আমার জুতা� সাইজ �, আম� ৩৬ বি সাইজের ব্রা পর�, আমার নেটফ্লিক্সের বি� মাসে বারশ টাকা আর আগস্টে� তি� তারিখে আমার মেয়ের জন্ম� আমাক� প্রথ� প্রেমপত্� দিয়েছিল শোভন নামে এক হিন্দু ছেলে যখ� আম� ক্লা� সিক্সে পড়ি� আমার হাতে� বালাগুলি দুবা� থেকে কেনা, আমার চুলে বারগেণ্ড� রঙ� আম� সব মন� করতে পারি� সব; কিন্তু আম� আম� এই মানুষটার চেহারা বা পরিচয় মন� করতে পারিনা।—চিনতে না পারা এক মানুষে� কথ� বলতে গিয়� কত সুন্দর বিবর� দিয়েছেন লেখিকা� কেমন যে� দক্ষ তাঁতিনী� মত� কাপড� বুনেছে� তিনি�
অরিগাম� হল� কাগজের শিল্প। একটা কাগজ না কেটে এব� কোনোরক� আঠ� ব্যবহা� না কর� কেবল ভাঁজ কর� জী�-জন্ত�, পাখি ইত্যাদির রূ� দেয়� হয� তা হল� অরিগামি। অল্প কয়েকট� সর� ভাঁজের মাধ্যম� অরিগামির একেকটি অংশতৈর� হয়। লেখিকা তা� বইয়ের একেকটি গল্পকে অরিগামির অং� করেছেন� কোনোরক� কাটাচেরা ছাড়া। এরপর ভাঁজগুলি এক কর� একটি গোলকধাঁধ� বানিয়েছেন� যেখানে একজন পাঠক তরতর কর� পড়ে যেতে পারবেন� আটকে পড়ল� সহজে বে� হত� পারবেন না কিম্বা বেরোতে চাইবেন� না�
লেখিকা� প্যারাকজ� গল্প� একটি মেয়ের চলমা� চিত্� পাই। যেখানে সে কিনা কারো জন্য অপেক্ষ� করছে� মন� মন�, গোপনে। এব� মেয়েট� ভাবে, তা� কথ� না ভাবল� মন� হয� এবেলায� আকাশের দিকে তাকানো পাপ। তাদে� যোগাযোগে� জন্য কোনোরক� সোশ্যালে� ব্যবস্থা নেই। এরপর� তাদে� হুটহাট কোথা� না কোথা� দেখা হয়ে যায়� মেয়েট� একসময় স্থি� হয়ে যায়� তা� সময় যায়না কিম্বা সে নিজে� সময়ের বিপরী� হয়ে চলতে থাকে� লেখিকা তা� এই গল্প� গদ্যশৈলী� নতুনত্� দেখিয়েছেন� অভিন� বাক্যগুল� যে� টা� সৃষ্টি করে। এরপর বারবার পড়ত� ইচ্ছ� হয়। এক এক কর� তা� লেখা গল্প—ম�, চক্র, চেকলিস্ট পাঠককে অন্যরক� ভাবনার মঞ্চ� দাঁড� করাবে। যেখানে সে স্বস্ত�-অস্বস্তি� মুখোমুখি হবে। জীবনকে ভিন্� ভঙ্গিত� দেখবে।
আমাদের চারপাশ� প্রতিট� মানুষে� জীবন� বলার মত� একটি গল্প থাকে� হো� সে� গল্প নিজে� কিম্বা অন্য কারো� গল্পগুলি জানানো� জন্য কে� মুখে বলছে, চিত্রকর্� করছে কেউব� লেখছে। এইসব গল্প আমাদের বহমা� জীবন� হালক� দুলুনি দিয়� যায়� আমরা হয়ত তখ� কেঁপ� উঠ� নতুব� সজাগ হই� আমরা জানত� পারি, জীবন এমনও হয়। আল�-আঁধা� মিলিয়� চলতে হই� পর্দার আড়ালে কত সত্য-মিথ্যে লুকানো জানা যায়� 'অরিগামির গোলকধাঁধায�' এমনই একটি বই� যা আপনাকে জীবনের গভীরত� গল্প শোনাবে� কঠিনতর বাস্তবতা শেখাবে� গল্পগুলি পড়ত� পড়ত� ঘোরলাগ� কা� করবে� এব� শে� করার পর আর� জেঁক� বসবে� বসুক না—জীবনকে গভীরভাব� উপলব্ধ� হব� গল্প� গল্পে।
কো� একটি বিশে� সময় বা মুহূর্তে� রে� যেমন আমাদের মন� বেশি দোলা দেয় যখ� সেটি স্মৃতি হয়ে আস� তেমন� ‘অরিগামি� গোলকধাঁধায়� পড়া� মুহূর্তগুল� পড়া শেষে মনের ভেতর ঘুরপাক খেতে থাকে� কথাসাহিত্যিক মাহরী� ফেরদৌস এর ১৪টি ছোটগল্� নিয়� গল্পবই ‘অরিগামি� গোলকধাঁধায়’। পুরো বই এর সবথেকে চমকপ্র� বিষয� ১৪টি গল্পের প্লট একেবারেই আলাদ� এব� চরিত্র গুলো� অনুভূত�, আবেগ দ্বারা প্রভাবিত হয়ে যাওয়া যায় সহজেই। যেমন, মথ গল্পের জেরিনে� বিষন্নতা কিংব� মায়� দুপুরে বস� পুরন� বাসা� স্মৃতিতে নস্টালজি� হয়ে ওঠ� আচমক� মা হারানো মেয়েটির নিঃসঙ্গতার বৃষ্টিতে পাঠক হয়ে� ভিজে যা� আমি। এই পৃথিবী� রুঢ় বাস্তবতায় ছিন্নভিন্ন হবার থেকে ‘প্যারাকজম� আক্রান্ত হয়ে ভা� থাকাটা মন ছুঁয়ে যায়� একজন রেবেকা� ‘এমন জীবন কি হবার কথ� ছি� আমাদের কারও?� এই দীর্ঘশ্বাস এর মধ্যেও আত্মসম্মান নিয়� একটা অচিন শাড়ির আচ� ফেলে আসাট� একটা সাধারণ চরিত্রকে কর� দেয় জীবন্ত এব� সম্মানিত� তারপ� রুবিকে চেনা চেনা লেগে� মন� করতে না পারা রুবি� সহপাঠী, এক কামরার ঘর� হারিয়� যাবা� সময় মা’ক� মন� রাখত� তাঁর ছব� আঁকত� চেষ্টা কর�, চেকলিস্ট করতে করতে জীবনের স্বাভাবিকত� হারিয়� ফেলা মেয়েট�, কিংব� প্রিয় মানুষক� ভুলত� না পারা ঝাকড়া চুলে� ছেলেটি সবগুলো চরিত্রের অনুভূত� ভাবনার জগতে তৈরি কর� আলাদ� কিছু ট্রাঞ্জিশন� কিছু গল্পের কিছু ঘটনা রহস্যময় হয়ে থাকলেও ‘মনিদ্� অন্ধকারে� গল্পের ভিক্টর হাতে আঁকা ছবিক� কবিত� হিসেবে কল্পনা করার যে বিষয়ট� লেখিকা বলেছেন সেটি আমাক� মুগ্� করে। আম� মুগ্� হই ভেবে কত ছবিত� আশেপাশ� দেখি, অথ� কোনদিন মন� হয়ন� শিল্পী� আঙুলের ছন্দ মিললেই সেটা হয়ে ওঠ� কো� চিত্রকর্�, সে� আঙুলের ছন্দ আর অলংকার তা� চিত্রশিল্পী� নিজে� আঁকা ছবিক� এক একটা ছন্দ মিলানো কবিতার মত� মন� হত� পারে� এভাবেই প্রতিট� গল্পের টুকর� বিষণ্ণতা, ভা� লাগা আর মুগ্ধতার ভেতর দিয়� লেখিকা নিয়� যা�, আর পাঠক আম� হারিয়� যা� অজান� এক ভাবন� আর উপলব্ধির গোলকধাঁধায়। যে� গোলকধাঁধার অর্থ বুঝত� হল� জগ� দেখত� হয� হৃদয়ে� চো� দিয়ে। কারন সাধারণ দৃষ্টিতে আমরা যে জগ� দেখে চল�, সেখানে সত্যিকারের প্রয়োজনীয় জিনিসগুলোই আমাদের চোখে অধরা থেকে যায়� আর এই উপলব্ধ� তৈরি করতে পারাটা� লেখিকা� স্বার্থকতা� ( বইটি একুশ� বইমেলায় সরাসরি পাওয়া যাচ্ছে কথাপ্রকা� এর ১২নং প্যাভিলিয়� � এব� অনলাইন বুকশপগুলোত�)
প্রতিট� ছোটগল্পে� আলাদ� শিরোনা� রয়েছে� তবুও সে� সব গল্প বইটি� শিরোনামক� চমৎকারভাবে justify কর� � গল্পগুলো অসম্পূর্� সমাপ্ত� বৈশিষ্টে� সাধারণ ছোটগল্� নয়। কিছুটা বিশৃঙ্খল প্লট নিয়� গঠিত কাহিনী যা আপনাকে জীবনের দুর্ভাগ্যজনক ঘটনাগুলি নিয়� ভাবায়� এই ঘটনাগুলো দৈনন্দিন জীবনের আশেপাশ� ঘটলে� সেগুলো সাধারণ নয়। এস� ঘটনা� প্রভাব সাধারণ মানুষে� চিন্তা� বাইরে।
প্রতিট� প্লট এব� গল্পের শে�, পাঠকের ব্যাখ্যা� জন্য উন্মুক্ত� তা� বইটি buddy-read এব� আলোচনা� জন্য শ্রেয়� আমার জানা আছ�, ছোটগল্পে� সৌন্দর্য তা� অসম্পূর্� সমাপ্তিতে। কিন্তু এই বইয়ের গল্পের কিছু প্লট আমার বোধগম্যতার বাইর� ছিল। সেজন্য, বইটি খু� একটা উপভো� করতে পারিনি� যদিও আম� এই গল্পগুলো� কিছুটা ভিন্� জীবন দর্শ� সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত আছি।
কে� বইটা পর� থাকল� প্লি� ইনবক্স করবে�, আমার এখনো অনেক কিছু বুঝা� এব� বলার আছ� গল্প গুলো নিয়ে।
মাহরিন আপুর লেখা আমার ভালো লাগে।অনেকে বল� না লেখক হত� হল� জটিল জটিল শব্দের ভেতর দিয়� লেখকদে� যেতে হয� মাহরিন আপ� সে� স্টেরিওটাই� ধারণাক� বুড়� আঙুল দেখিয়� সামন� এগিয়ে যাচ্ছেন। আপ� আমাদের যাপি� জীবনের সর� শব্দগুলো দিয়েই গল্প বলেন, যে� গল্পগুলোতে থাকে প্রব� দৃষ্টিভঙ্গ� আর অন্তর্নিহি� ছন্দ� যে� গল্পগুলো পড়ত� আমরা ভুলে থাকি আমাদের নিজেদে� নিজস্ব গল্পগুলি।প্যারকাজম� ভুগত� ভুগত� আমাদের মন� পড়ে মধ্যরা� হত� এখনো কিছু সময় বাকি ।মনিদ্� অন্ধকারে সান্তা মনিক� স্টেশন পেরিয়� ভিক্টর আর দু বোনে� পৃথিবী� শে� গা� শুনত� শুনত� বিষণ্নতা� পলেস্তার� খস� পড়ত� থাকে অবিরাম।বিস্কুটের গুঁড়ো� মত� বিকেলে জাদুবাস্তবতা� চক্র হু� করেই বন্ধ হয়ে যায়�
গল্পগ্রন্থের তিনট� গল্পকে কোনো ছন্দের মধ্য� ফেলত� পারলাম না� এক কামরার ঘর, চেকলিস্ট আর মথ� এর মধ্য� চেকলিস্ট পড়া� সময় কিছুটা অস্বস্তি বো� করেছ� আর মথ গল্পটা বহুদিন স্মৃতিতে থাকা� মতো।
I traveled through emotions by reading this book. At times, I felt sad, puzzled, hopeful, scared (a bit) and mostly, I felt amazed. I realized the powerful thoughts of ''�'' while being tensed for another character. A proverb goes by, "Do not judge a book by it's cover". But here my friend, you can. Because the title of the book fulfills it’s purpose. You are bound to be lost and found throughout the reading. Okay, no more spoilers. Here are a few picks,
1. Brishty Te Ekai Bhijte Hoy 2. Ek Kamrar Ghor 3. Chokro 4. Monidro Ondhokare 5. Prithibir Shesh Gaan
So these are my personal favourites from the book. Hope you’ll like these too :)
সদ্য� পড়ে শে� করেছ� গল্পকা� মাহরী� ফেরদৌসের নতুন বই "অরিগামির গোলকধাঁধায�"� বইটিতে স্থা� পাওয়া ১৪টি গল্প পড়ে মন� যে ভাবট� আস� গেড়� বস�, তা হল� বিষণ্ণতা� গল্পগুলো� বাস্তব-পরাবাস্ত� সু�-অসুখ, প্রে�-অপ্রেম নানা নির্যা� একেক পাঠককে একেকভাবে স্পর্শ করবে, আমাক� ছুঁয়ে গে� বিষাদটুকুই বেশি� হয়ত তিনি সচেতনভাবেই এই বইয়ের জন্য দুঃখছোঁয়া গল্পগুলো� বেছে নিয়েছেন, অথবা একজন সংবেদনশী� লেখককে হয়ত জীবনের কঠিন বাস্তবতা, চারপাশের মানুষগুলোর যাপি� দিনকালের সংগ্রা� বেদনাই বেশি আলোড়ি� করে। সব মিলিয়� ভালো লেগেছে বইটি� লেখকের জন্য শুভকামনা�
কিছু গল্প অসাধার� ( মথ, প্যারাকজ�(এট� সেরা),মধ্যরা� শে� হত� কিছু সময় বাকি, রুবি তোমাকে চিনি, চেকলিস্ট, ভুলে থাকা� গল্প), 'সান্তা মনিক� স্টেশন পেরিয়�' গল্পটা অন্য রকম। বাকি গল্পগুলো না দিলে� মন� হয� ভালো ছিল। মো� ১৪ টা গল্পের জায়গায় � কি ৭ট� গল্প হল� এই বই আর� বেশি গোছানো লাগতো। তব� লেখিকা মাহরী� ফেরদৌসের লেখা আমার মন� ধরেছে। সামনের বই গুলো� পড়া� চেষ্টা করব।
কয়েকট� গল্প ভালো, সবগুলো নয়। তব� মাহরী� ফেরদৌসের ভাষা সাবলী�, বর্ণনাও। যে গল্পগুলো ভালো লাগেনি সেগুলো মূলত স্পয়ল� হয়েছে কিছু অত� আবেগী বর্ণনা� কারণ�, অথবা বল� যায় অনেক শব্দ যা এলোমেল� হয়ে একত্রে বস� গেছে এব� অর্থহী� অনেককিছু তৈরি কর� ফেলেছে� ছোটোগল্প শক্তিশালী হয়ে ওঠার মা� মসলা ছিলো ভালো�, কিন্তু জম� ওঠেন� প্রায়ই।
আম� চা� বইটা বর্তমা� গদ্যকারর� পড়ুক। বর্তমানে গদ্যকারর� ভাষা এব� বর্ণনা, দুটোকে প্রায়� গুলিয়� ফেলে� তাদে� এখান� শেখা� আছে। বাংলাদেশ� সমসাময়ি� নারী গদ্যকাররদে� কারো কারো বই পড়তেছ�, ভালো লাগছ�, তারা ভালো লিখছেন�
খু� কৌতুহল নিয়� বইয়ের না� দেখে কেনা বই “অরিগামি� গোলকধাঁধায়”। লেখিকা� ১৪ টা ছো� গল্প নিয়� সাজানো এই বই ঠি� যে� এক গোলকধাঁধার মতোই� কোনো গল্পের সাথে কোনো গল্পের মি� নেই। মন� হয়েছে ১৪ জন মিলে ১৪ টা ছো� গল্প খু� সুন্দর কর� সাজিয়� রেখেছে এক গোলকধাঁধার মতো। এক বসায� পড়ে ফেললেও অনেক গল্প একটু একঘেয়� লেগেছে আবার কিছু গল্প ভাবিয়েছ�, ঠি� কিভাবে এইরক� অদ্ভুত কো� গল্প কারো মগজে বা মন� খেলা করতে পারে� আঁধা�, বিভ্রম, রুপান্তর, বাস্তবতা, পরাবাস্তবতার এক সুন্দর গাঁথুন� দিয়� গড়া এই বইয়� কোথা� আছ� সমকালী� সংকট, ব্যক্তির মানসিক টানাপড়ে�, প্রেমে� নতুন দৃষ্টিভঙ্গ�, কোথা� বা সমান্তরা� মহাবিশ্ব� চেনা চরিত্রকে আবিষ্কারের গোপন নির্যাস।