ŷ

অনার্য অর্ক's Reviews > দ্� পোস্টম্যান

দ্য পোস্টম্যান by Antonio Skármeta
Rate this book
Clear rating

by
84448513
's review

it was amazing

‘কবিতা যারে খায়,প্লে�-সুদ্ধা খায়�
নেরুদা� পোস্টম্যান হিমেনেজে� মত� আমাকেও কবিত� খেয়েছিল� একদম প্লে�-সুদ্ধা-ই। যে কবিতায� ক্ষুধার্তে� কাছে পূর্ণিমা� চাঁদ ঝলসানো রুটি হয়ে যায়,সে� কবিত� এবার হয়ে ওঠ� নরখাদক।কবিতায় বাঁচ�,শ্বা� নেয়� আর বুকে চেপে ঘুমাতে ঘুমাতে এক ভীতিকর হ্যালুসিনেশনের মাঝে আটকে পড়ি আমি। অজস্� কবিতার পেটে� ভেতর ঢুকে পড়ি জরায়ুপথে। কবিতার মাতৃজঠরে পুষ্টি,গ্যা� আর প্রতিরক্ষায় বড� হত� থাকে আমার দুর্বলতম ভ্রূণ। মাঝে মাঝে শ্বা� ধী� হয়ে গেলে বাতাসে� অভাব� আকুল�-বিকুলি কর� সেটা� তখ� কবিতাই মুখে পরিয়ে দেয় পর� স্বস্তির অক্সিজেন মাস্ক। জন্মের পর শৈশব-কৈশো� পেরিয়� আমার বুকে� খাঁচ� বড� হত� থাকে� কবিতার সাথে এই তামাদি সিলসিল� আমাক� ঘু� ঘু� কোনো ঘুঘু ডাকা দুপুরে নিয়� যায়� আম� কবিত� পড়ত� পড়ত� তখ� ‘টয়োটার টায়ার� টায়ার� ভর্ত� টগরে� হাওয়া�-তে মুগ্ধ। এতোই মুগ্� যে নক� কর� লিখছ�,‘পাজেরোর পাঁজরে পাঁজরে নির্বিকা� লাথি কষে—কোথায� যাবো আদ�?�
বাবা আদ� স্বভাবতই নিরুত্তর� থাকেন। আম� কবিত� পড়ত� পড়ত� লিখি,নক� করতে করতে শিখি� আর একসময় কবিত� লেখা শিখে যাই। কবিত� আসলে ভালো হয� কি খারা�, কবিত� কি কবিত� হয� নাকি না,এইসব প্রশ্নকে একপাশে সরিয়ে রাখত� পারি তারপর। বারবার পড়ত� থাকি এই অনুচ্ছেদ,
‘কবি হলেন অভিশপ্� সিসিফা� � শব্দের পাথর তিনি বারবার ঠেলে তুলছেন পর্বতচূড়ায় � কে� ? সেখানে একটি নৈঃশব্দ্যে� মন্দির তৈরি হব� বল� � কবির ক্ষেত্রে নন্দ� তত্ত্ব তো একটা� � দ্� অ্যাস্থেটিক্� অফ সাইলেন্স।�
এই অ্যাস্থেটিকসের স্ট্যান্ডার্ডট� তখনও বুঝি নি� নীলক্ষেত হাতড়ে হাতড়ে বে� করেছ� জীর্� কাফকাকে। কাফকার শব্দের মাঝে লুকানো বোবা চিৎকার আমার কানে তালা দিয়� সর� হয়ে উঠ� জিজ্ঞে� করেছ�,
❝Am a bird in search of a cage?�
কবিত� লিখত� হল� নাকি ছদ্মনা� নিতে হয়। আম� সিসিফাসে� সে� অভিশাপ মাথা পেতে নিয়� নিজে� না� দিয়েছিলাম ‘পোস্টমডার্ন সিসিফা�'� আর তারপ� কবিত� আমাক� খেয়েছ� কুঁড়ে কুঁড়ে� আম� অদ্ভুত অদ্ভুত স্বপ্ন দেখত� লাগলাম� ঘরের দরজা-জানালা, খা�-টেবি� সব উব� যাচ্ছিলো এক� একে। আম�
বইয়ের পাতা� ছাপা লাইনগুলো� মাঝখানের করিডোর� হাঁটতে থাকলাম কম�,দাঁড়ি,বিস্ময়সূচ� আর জিজ্ঞাসাবোধক চিহ্�,কোলন,সেমিকোলন,ড্যাশে� একেকটা লাইনের উপরে উপরে� আম� টপকাতে থাকলাম পার্কু� কৌশলী� দক্ষ হাতে� আমার কাছে ঘৃ� কাঞ্চন বেগু� বা মোরগটুপী ফুলও তখ� মন� হত� লাগল� অসামান্য কিছু� হ্যালি� ধুমকেতুর মত� উপমা-রূপকের� দেখা যেতে লাগল� সে� শব্দের বারান্দা থেকে� আম� চেষ্টা করতে থাকি কবিতার হিমশীতল লাশে� উপ� শব্দের ছুরিচিকিৎস� চালাতে� কবিতার নিস্তে� মৃ� চো� আমাক� বল�,‘জন্� দা�,সৃষ্টি করো।�
সৃষ্টি করতে সঙ্গী লাগে� আম� পোস্টমডার্� কবিত� লিখত� গিয়� ছড়া� প্রেমে পড়ি� ছড়াকে বল�,
‘রোজার একটা মজার বিষয� জানো� এই কুত্তামারা গরমে সবাই বর� কিনে খায়� অনেক সাধারণ মানু� তো এখনও ফ্রি� অ্যাফোর্� করতে পারে না� একদম দুগ্ধফেননি� সাদা হিমশীতল বর�,পলিথিন ব্যাগে কর� দে�-মনের প্রশান্ত� কিনে আনা। আর বর� গুলো কে মাঝে মাঝে মন� হয� শুকন� মেঘে� লাশ।�
ছড়া আমার এইসব ‘বালছাল� কথ� বুঝে না� আম� তারে বুঝাতে চা�, ‘অ্যাকাডেমিক আর হসপিটালে� মাঝে যে কাঠবাদাম গাছগুল� আছ� না? ওগুলোর পাতা যখ� নতুন কর� সাজাতে শুরু কর� ওদের শরী� আর বিকেলে� রোদে যখ� চকচক কর� তাদে� পাতা,আম� তখ� তোমাকে পাখি� কাছে পাখিনী� মত� পেতে চাই।�
ছড়া আমার দিকে ফি� কর� হেসে ফ্যালফ্যাল কর� চেয়� থাকে� আম� তারে কবিত� ধা� কর� বল�,
‘ফিক কর� হেসো না,কফ� কর� হেসো,
হাসি ছড়িয়� পড়ু�, তোমা� অধরে সিস্টেমে।�
সে জবাব দেয়,‘তুম� এত� কিছু যে বল�,তা� বেশিরভাগের� অর্থ বুঝি না।�
আমাদের সংযোগে� তা� এভাব� ছিঁড়ত� থাকে� এক জননী� অভাব� জন্ম দিতে আর আম� পারি না� মাথা� উপরে রঙবেরঙের ছাতাকে আম� দৃশ্যে� রূ� দিতে পারি না� কানে চেপে থাকা শঙ্খের মাঝে যে শৈশব� খুঁজ� ফিরতাম সমুদ্রের স্রো�, সে� স্রো� যে আসলে আমার� রক্ত চলাচ� তা জেনে গেলে আম� আর জন্ম দিতে পারি না� শামু পাগলার� আমার মনের পুনর্ভবায় ডুবে মর� যায়� সে নদীতে সাঁতরায় ডোডোপাখি� মত� বিরল ঘড়িয়াল,শুশুকেরা� কবিতায� আর তাদে� স্থা� হয� না� এক� উপমাকে আম� বারবার কপ�-পেস্� করতে থাকি�
আম� নিজেকে গালাগা� করতে থাকি,‘শাল�! ধ্বজভঙ্গ ইম্পোটেন্ট!'
দিনে দিনে কবিতার অ্যাস্থেটি� স্ট্যান্ডার্� ভুলে আরশোলা না মেরে প্রজাপতি মারা শিখে যাই। দূষণ,সহিংসা,হিংস্রতা আর যৌনতাই হয়ে যায় মূখ্য। ওয়ানাবি কব� ডিএনএর নী� নকশাকে এড়াতে না পেরে আম� কবিত�-অকবিতা,না-কবিত� নির্ধারণ� শাউয়া� নাতিসুলভ কবিগিরিত� মেতে উঠি। শব্দ দিয়� দৃশ্� তৈরিকে আর কতদিনই বা উপাসনা কর� যায়?
মাথায় বিশা� লাট্টু� ঘূর্ণন গতিত� ঘুরত� থাকা শব্দ,ছন্দকে বাগে এন� এখ� আর কবিত� লিখত� পারি না� জীবনের যখ� সবকিছু স্লো ডাউন কর� ফেলি,তখনই কবিত� আমার কাছে তা� সমস্� রূ� খুলে ধরে। কোথা� লুকিয়� একটা করুণ অথ� মায়াবী সুরে� চোরাস্রো� তখ� আলোড়ি� কর� আমাক�, কৌশিকী কানাড়� রাগে� মতো।

আর্কটি� সিনড্রোম নামে� খটোমটো একটা রো� আছে। অনেক� এক� আদ� কর� হিস্টেরিয়� সাইবেরিয়ানা নামে� ডাকে� এম� নামে� কারণ,সাইবেরিয়া� চাষিরা এই রোগে আক্রান্ত হয়। সাইবেরিয়া� তুন্দ্রা অঞ্চলে বসবাসকারী চাষীরা দিনে� পর দি� নিজে� ক্ষেতে চা� করে। সে� ধুধু শ্বেতশুভ্র বরফে� মরুভূমিত� যত দূ� চো� যায়, কিছু� নেই। উত্ত�-দক্ষিণ, পূর্�- পশ্চিম—সবদিক� কেবল এক� রকমে� দিগন্তরেখা� ভোরে যখ� পু� দিকে সূর্� ওঠ� তখ� তারা ঘর থেকে বেরিয়� পড়ে ক্ষেতে� কা� শুরু করে। সূর্� মাথা� ওপরে উঠলে দুপুরে� খাবারট� খেয়� নেয়� সূর্� যখ� পশ্চিম� ঢল� পড়ে, তখ� আবার ঘর� ফেরা� গা� গাইত� থাকে� শীতকাল� সেখানে মাঠে কা� কর� যায় না� এই মৌসুমট� তারা বিশ্রা� নেয়, বাড়িত� থাকে� আর ঘরের কা� করে। বসন্� এল� আবার আগের রুটিনে ফিরে যায় আবারও। এভাব� দিনে� পর দি� কাটত� থাকে� সূর্� পু� দিকে ওঠ�, তারপ� আকাশ বেয়� এগিয়ে যায়, একসময় পশ্চিম� টু� কর� ডু� মারে� এই দৃশ্� বারবার দেখত� দেখত� ক্লান্� হয়ে পড়ে তারা, ভেতর� কিছু একটা মর� যায়� তখ� এক সুন্দর দুপুরে তারা কাঁধ থেকে নাময়ে রাখে লাঙল� মাথা হয়ে যায় একেবার� খালি� কিছু বুঝে ওঠার আগেই পশ্চিম দিকে মু� কর� হাঁটতে শুরু কর� তারা� ভূতে পাওয়া মানুষে� মত� হাঁট� দিনে� পর দিন। খাবা� বা পানি স্পর্শ কর� না� একসময় জ্ঞা� হারিয়� মাটিতে পড়ে যায়� আর আলিঙ্গ� কর� নেয় মৃত্যুকে� এটাই হল� হিস্টেরিয়� সাইবেরিয়ানা� কবিতাগ্রস্� মানুষেরা� এই আর্কটি� সিনড্রোম� আক্রান্ত হয�,তারা ভূতে� মত� শব্দ� বাঁচ�,রূপক� শ্বা� নেয়,উপমাকে পাশবালিশের মত� জড়িয়� ধর� ঘুমায়� এইটাকে কি পোয়েট্র� সিনড্রোম বল� যায়?

দ্� পোস্টম্যান এরকম� এক কবিতার নিশিতে পাওয়া তরুণের গল্প� আবার এইটা গল্প পাবল� নেরুদা� জীবনের,তা� জীবনের অন্তিম পর্বের� নেরুদা� কবিতার সাথে পরিচয়,নেরুদা� সাথে পরিচয় সে� তরুণ পোস্টম্যান মারি� হিমনেজকে সাধারণ থেকে অসাধার� কর� তোলে� পোয়েট্র� সিনড্রোম� আক্রান্ত সে� তরুণ প্রেয়সী� শরী� আবিষ্কারের মত� কবিতার উপমা আবিষ্কার করতে থাকে� কবিতার আলোয� চিনত� শিখে চারপাশকে� বুঝত� পারে সামাজি� অবস্থা�,শাসকের সাথে শোষিতে� লড়াইয়ে� চিরদিনের গল্পটা� রুখে দাঁড়াতে শেখে অত্যাচারের বিরুদ্ধে� এই সংক্ষিপ্� পরিসরে� উপন্যাসে নেরুদা� জীবন,কবিত�, কবিতার মধ্য দিয়� মারি� হিমনেজের নিজেকে আবিষ্কারের যাত্রা� সাথে সাথে পিনোশে� জান্তা সরকারে� ক্ষমতা দখ�-পরবর্তী দুঃস� দিনগুলোর অস্থিরতা-ভয়াবহতাকে� লেখক নিয়� আসছে� আশ্চর্� নিপুণতায়।

যদ� মোটাদাগে বলতে চা�,বইটা ছি� উপমা� জন্ম, একজন কবির থট প্রসেস আর তা� মিথস্ক্রিয়ায় আরেক সাধারণ তরুণের বুকে কবিত� সৃষ্টি� স্পৃহা জন্মান� বিষয়ে�
আম� বইটা পড়েছি খু� রয়ে সয়ে,সময় নিয়ে। লুকিয়� বাঁচিয়ে, প্রতিট� শব্দকে অনুভ� কর�,তাড়াহুড়ো না কর� পড়বার ঘোড়দৌড়� খানিকট� পিছিয়েই শে� করেছ� এক কোকি�-ডাকা ঝি� ধরান� দুপুরে� এই প্রতিক্রিয়া যারা পড়ছেন,তাদেরকেও বলবো,বইটা নিভৃতে,একান্ত�, জনবিচ্ছিন্� কোনো জায়গায় পড়ত� যে� এর প্রতিট� পৃষ্ঠায় লুকানো মুক্তোকে আপনি খুঁজ� নিতে পারবেন� এই আখ্যান পড়ত� পড়ত� কখনো আপনি আনমন� হাসত� থাকবেন,কখনো বা বিমর্ষ হয়ে উঠবে মন,
রা� চড়ত� চড়ত� কপালের শিরা দপদপ করতে থাকলেও অবাক হবার কিছু নেই। তব� প্লি�,বইটা খু� ধীরস্থিরভাবে� পড়বেন�
আর তাহলেই কেবল আপনা� মন� হব�,
❝কবিতা কি স্তব্ধতা� ভাষা? কবিত� কি জানা� মাঝে অজানাক� সন্ধান ? জীবন আর মৃত্যু� আলোছায়াময� খেলা? কবিত� কী, আচ্ছ�, আম� বলছি�
আলোয� ভর্ত� একটা পাহাড়, যে আল� শুধু� হাজা� মোমবাতির� মোমবাতিগুল� সব জ্বলছে, আর পাহাড়টা আস্ত� আস্ত� ডানা ভাসিয়� শূন্যে উড়ছ�, আর ভেসে যাচ্ছে� কবিত� আমার কাছে ঠি� এইরকম। আলোয� সাজানো একটা পাহাড়ের ভেসে যাওয়া� মতো। কবিত� সম্পর্কে এর থেকে বেশীকিছু আম� এখনও জানি না, শুধু এই একটা ছবিই দেখি, দেখত� পাই। আর একথা� মন� হয�, জীবন� এই সৌন্দর্যটুকু অনুভ� করতে হল� জীবনটাকে ছোট্� একটা পাখি� মত� হাল্কা কর� নিতে হব� যাতে তা নীলিমা� মধ্য� হারিয়� গিয়েও মুহূর্তে� মধ্য�, ঘরবাড়ির চালে এস� বস� পড়ত� পারে� কবিত� মহাকাশের মতোই রহস্যময়� যে - যুগই পৃথিবীতে আসুক না কে�, কবিত� তা� নিজস্ব পথ তৈরী কর� নেবে� মহাকাশ� চলতে চলতে� মানু� একদি� কবিত� পড়বে।�

কোনোদি� কবিত� লেখা� চেষ্টা করলে তো এই উপন্যাসে� প্রেমে ঝপাঝ� পড়ত� থাকবেন সেইট� আর বল� দিতে হব� না� আপনি তখ� অভিশপ্�!
39 likes · flag

Sign into ŷ to see if any of your friends have read দ্� পোস্টম্যান.
Sign In »

Reading Progress

June 19, 2022 – Shelved as: to-read
June 19, 2022 – Shelved
March 9, 2023 – Started Reading
March 9, 2023 – Finished Reading

Comments Showing 1-3 of 3 (3 new)

dateDown arrow    newest »

অনার্য অর্ক আমার এত� বড় লেখা� অনুবাদ নিয়ে কিছু বলতে মন চা� নাই। কারণ, অনুবাদের প্রসঙ্গট� এখান� আনতে ইচ্ছ� করছিলো না� বইটা� অনুবাদটা একটু অপ্রচল ধরনের। মানে আমরা যেরক� অনুবাদ পড়� থাকি সেরক� সোজাসাপ্টা ভাষা না�
যেমন ধরেন,কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ভদ্র ভাষা ব্যবহা� কর� হয়েছে।
যেমন: ভজান�, এইটারে সরাসরি পটান� বল� যাইত� পারতো। এরকম আর� কিছু�
তব� সব মিলিয়ে পড়তে খারা� লাগে নি�


message 2: by Srijan (new)

Srijan Chattopadhyay হৃৎস্পন্দন কে সরাসরি কলমে� মধ্য� দিয়� চালা� করতে পারলেই শব্দের অভিঘাত এরকম হত� পারে� কবিত� পড়া� ধৈর্য্� জোগাড় কর� বে� মুস্কিল। আপনা� রিভি� টা মন নিয়� গেলো� ধন্যবাদ।


অনার্য অর্ক @Srijan Chattopadhyay
Thank you,dada.
It means a lot to me! :D


back to top