মেডিকে� সায়েন্সের ভাষায় সাধারণ বৈশিষ্ট্যে� বাইর� সব নিয়� না মানা,বেয়াড়া ধরনে� অস্বাভাবিক তথ� বিশে� কে� আছ�,সেগুলোকে আমরা Atypical বা অসচরাচরে� ছামেডিকে� সায়েন্সের ভাষায় সাধারণ বৈশিষ্ট্যে� বাইর� সব নিয়� না মানা,বেয়াড়া ধরনে� অস্বাভাবিক তথ� বিশে� কে� আছ�,সেগুলোকে আমরা Atypical বা অসচরাচরে� ছাতা� তল� নিয়� আসতে পারি� তব� ঘরান� বিচারে মাশুদু� হকের ‘অসচরাচর�-কে উইয়ার্ড ফিকশ� অথবা মেডিক্যা� থ্রিলা� কিংব� বড� হর� ক্যাটাগরিত� ফেলত� গেলে হিমশিম খেতে হবে। গতবছ� মাইক্রোবায়োলজির বারান্দায় এক্ক� দোক্কা খেলত� খেলত� যখ� ‘অসচরাচর� পড়েছিলা�,তখ� ‘হোস্ট�,‘প্যারাসাইট�, ‘ফাঙ্গাল� গল্পগুলোকে মন� হয়েছিলো বড� হররে� স্ট্যান্ডার্ডধারী� অসচরাচরে� দ্বিতীয় পর্ব� মাশুদু� হক গল্পের বাঁকটা সামান্� বদলে বইয়� দিয়েছেন ক্লিনিক্যালি রেয়ার কিছু ডিজিজে� দিকে� তা� বল� সবগুলো গল্পের ভি� বাস্তব দুনিয়ার উপ� দু পায়� ভর দিয়� চল� এম� না� ‘অসচরাচর ২� কে তা� ‘ট্রোজান হর্স� ধর� নিয়� একটু ভিন্� লেন্সে দেখা যাক।
গ্রি� আর ট্রয়ে� রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে গ্রিকর� তখ� খু� একটা সুবিধা করতে পারছিল� না� তখ� নিয়� ছি� কোনো পক্ষ সম্মানের সঙ্গ� লড়াইয়ে� ইত� টানত� চাইল� একটি ঘোড়� প্রতিপক্ষে� কাছে ছেড়� দিয়� আসতে হবে। তো গ্রিকর� বড়সড় একটা কাঠে� ঘোড়� বানিয়� প্রতিপক্ষে� দুর্গে� কাছে রেখে আসলো� এম� ব্যতিক্রমী উপহা� পেয়� ট্রয়ে� নগরী� অধিবাসীরা তো খু� খুশি� বিশা� কাঠে� ঘোড়াট� দুর্গে� ভেতর নিয়� গে� ওরা। চতুর গ্রিকর� আগেই কায়দা কর� তাদে� দুর্ধর্ষ যোদ্ধাদে� কাঠে� � ঘোড়ার ভেতর� লুকিয়� রেখেছিল। রাতে সুযো� বুঝে লুকিয়� থাকা গ্রি� যোদ্ধারা দুর্গে� ফট� ভেতর থেকে খুলে দেয়� বাইর� ঘাপট� মেরে থাকা গ্রি� সৈন্যর� ভেতর� ঢুকে অতর্কি� আক্রমণ চালিয়� কাবু কর� ফেলে ওদের� ফিকশ� আর সিনেমা� জগতে এই ট্রোজা� হর্স টেকনিকটা নজরে পড়া� মতো। ২০১৭ সালে জর্ডান পী� ‘Get Out� নামে একটা সিনেমা বানিয়েছিলেন� হর� সিনেমা হিসেবে সুপরিচিত প্যাকেজড হবার পর� পোস্টরেসিয়া� অ্যামেরিকা, নিওলিবারেলিজমে� সূক্ষ্� ক্রিটি� করেছিল� সে� সিনেমা� ট্রোজা� হর্স‘অসচরাচর ২’এ� পাতায় পাতায় দু লাইনের মধ্যবর্তী ফাঁক দিয়� দৃশ্যমান হয়েছে এদেশের চিকিৎসাব্যবস্থার ক্রিটিসিজম,রোগীদে� প্রোফাইলিং,পাওয়া� পলিটিক্সের ছেঁড়া ছেঁড়া ছবি।
প্রথ� গল্প ‘পিচ্ছিল� জনপ্রিয় টিভি শো এক্স-ফাইলসে� সুপা� উইয়ার্ড কোনো এপিসোডের মতো। জেলখান� থেকে কর্পূরের মত� উব� যাচ্ছে কয়েদীরা� জেলা� শফিকের ধারণ� সুড়ঙ্� খুঁড়ে পগারপা� হয়ে যাচ্ছে এস� দাগী আসামীরা� গরাদের আড়ালে পাওয়া যাচ্ছে বিজাতীয় ভাষা� লেবে� সাঁট� ওষুধের কৌটা� হদিশ খুঁজতে �. আসিফের শরণাপন্ন হল� কোনো মতেই কূলকিনার� করতে পারা যায় না এত� সর� সুড়ঙ্� দিয়� কয়েদীরা পালাচ্ছে কীভাবে? খোঁজ মিলছ� না সে� ওষুধের� অরিজিন সোর্সের। দেশে� ওষুধ কোম্পানি� কাছে নিজেকে বিকিয়� দেয়� ডাক্তারদের সমালোচনা� সাথে চাইনিজ-বার্মি� সাপ্লিমেন্� বেচে আঙুল ফুলে কলাগাছ বন� যাওয়া কোম্পানি আর মধ্যস্থাকারীদে� এক অধরা জায়গায় আল� ফেলেছে� লেখক� রোগীদে� আর্থসামাজি� অবস্থা কীভাবে চিকিৎসার উপ� প্রভাব ফেলে তা� জ্বলজ্যান্� উদাহরণ আমরা দেখত� পা� ‘পাথর� গল্পে। নুনিয়ারছড়া� জেলে বস্ত� থেকে আস� বছ� ত্রিশেকে� রত্ন� সার্জারি ওয়ার্� ভর্ত� হয� কোলেলিথিয়াসিস অর্থাৎ পিত্তথলিতে পাথর নিয়ে। তা� এই পাথর অপসারণের নেপথ্য� মাশুদু� হক আমাদের শুনিয়� দে� সরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীদে� স্বল্পমূল্যেরও ঔষ� না কিনত� পারা� অবস্থা� কথা। কারণটা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অসহযোগিত� হলেও, পয়সার অভাব� যে খানিকট� দায়ী তা� পরিস্থিতিট� অনেকটা দেখত� পা� রত্নার গল্পে।
একজন রোগী যতটা না তা� চিকিৎস� চায়, অনেক সময়� তা� চেয়� বেশি কর� চায় জানত�-তা� আসলে কী হয়েছে� এক� ব্যাধি� একাধিক দাওয়া� থাকত� পারে, নানা ভাবে চলতে পারে তা� চিকিৎস�, ট্রেডিশনাল মেডিসি�, সার্জারি, অ্যায়ুর্বেদ, হোমিওপ্যাথ� কত ধারা� কত পথ রয়েছে� এমনক� কোনো চিকিৎস� না করার সিদ্ধান্তও রোগী নিতে পারেন। কিন্তু তা� কী হয়েছে সে� ব্যাধি� না� না জানল� এক অদ্ভুত অসহায়ত্বে� সাধ্যে মানু� মাত্রই পড়ে যান। এই সত্যের হা� ধর� আরেকটি যে সত্য, যেটি আম� নি� জীবন থেকে শিক্ষা আছ�, সেটা হল� কে� না চাইল� কোনোক্রমেই তা� রো� নির্ণয� কর� উচিত নয়। ডায়াগনসিস তা� কিছুটা অন্তর্বাসে� রঙের মত�, যে চাইছ� না আপনাকে তা জানাতে, উপযাজক হয়ে সেটা আন্দাজ করতে গেলে একটা অস্বস্তিকর মনোমালিন্য হত� পারে� এই অস্বস্তিকর এক ঘটনা� মুখোমুখি হো� �. আসিফ ‘মেরিন� ’গল্পে� প্রিয়� মিডিয়েটেড, স্লোলি প্রোগ্রেসি� ডিজি� ‘কুরু’। দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে� পাপুয়� নিউগিনির লোকেরা এক� এক� হাসত� হাসত� মরতে শুরু করেছিল�,কারণ ছি� এই ডিজিজে� আগ্রাসন। এর আগ� তানজিন� হোসেনে� ‘লালেং গ্রামে� মেয়ে� উপন্যাসিকায় এই রোগে� উল্লেখ প্রথমবারের মত� পাওয়া যায়� মেরিনা� উপসংহা� অবধি না যাওয়া অবধি রোগে� যোগসূত্র খুঁজ� পাওয়া মুশকিল হলেও মাশুদু� হকের ক্ষুরধার এক্সিকিউশনের দরুণ প্রান্তি� অঞ্চলে� পাওয়া� পলিটিক্সের এক কিলা� কম্বিনেশ� ঘটেছ� এইখানে� মেরিনা গল্প� মেরিনা� চাচা ইয়াকু� জামা� আর �. আসিফের মধ্যকা� কথোপকথ� লক্ষ্য কর� যাক। ইয়াকু� জামানে� ধারণ� নিপা ভাইরাসের মত� কোনো ভাইরাস ওই নির্দিষ্� এলাকায� আছে। এনসেফালাইটিসের সাইন সিম্পটমে� পরিধ� ধর� এই এজেন্টকে দায়ী কর� হলেও �. আসিফ তা� সাথে দ্বিমত পোষণ করেন� �. আসিফ কিন্তু জামানে� মত� ‘নিপা� বললে� না,বললে� ‘নিপাহ ভাইরাস�(Nipah) যেটা কিনা ওই ফিল্ডে� সাথে জড়ি� না হল� ভু� করাটাই স্বাভাবিক। এখানেই শুধু দু-এক লাইন� মাশুদু� হক বুঝিয়� দিয়েছেন ‘Who's the doctor here?� টুইস্ট নির্মানে যথেষ্ট কুশলী হওয়ায� গল্পের চমৎকারিত্ব নজরে পড়ে।‘নির্বাণ আশ্রম� গল্পটা� ‘ফাইব্রোডিসপ্লাসিয়া অসিফিকান� প্রগ্রেসিভা� নামে� এক দুর্লভ রোগক� উপজীব্� কর� লেখা� সম্ভবত ‘অসচরাচর ২� এর সবথেকে সিনেম্যাটি� টার্নি� দেখা গেছে এখানে। সৈয়দপুর,দিনাজপুর,সিলেটে� গোলাপগঞ্�,জকিগঞ্�,ঢাকাসহ মানচিত্রের বিস্তৃ� জায়গা কভার করতে গিয়� ন্যারেটিভে� টো� পাল্টে পাল্টে গেছে সেখানকার মানুষজনে� স্বভাব-চরিত্র�,আঞ্চলিকত�,শরীরী ভাষায়�
‘অসচরাচর� এর পাঠপ্রতিক্রিয়ায� �. আসিফকে আনরিয়ালেব� ন্যারেটর হিসেবে উল্লেখ করেছিলাম� দ্বিতীয় পর্ব পড়ে সে� ধারণ� আর� পোক্� হলো। এই ব্যতিক্রমী, সেরিব্রা� গল্পগুলো� মধ্য দিয়� মাশুদু� হক সিরিজটার ধারাবাহিকত� রক্ষ� কর� গেলে একটা ‘ট্রেডমার্ক� সে� হয়ে যেতে বেশি সময় লাগব� না� প্রথ� পর্ব� আদিব রেজা রঙ্গনে� অঙ্কনে� সাথে এই পর্ব� শামী� আহমেদে� কাজে� পার্থক্য স্পষ্টভাবে খেয়াল কর� যায়� আদিবের কাজে হর� মাস্টা� জুনজ� ইতোর প্রভাব খু� স্পষ্ট ছিল। শামীমে� কা� সে হিসেবে অন্যরক�,স্বকীয়তা� লক্ষ্য কর� যায়� দ্বিতীয় পর্ব নাতিদীর্� হলেও স্পষ্ট ফারা� নজ� এড়ায় না� পর্ব তিনে� অপেক্ষায�...